ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেলেন ভাসানটেক-কড়াইল-সাততলা বস্তির প্রায় ১ হাজার মানুষ ক্লাব বদলাতে ব্যর্থ হয়ে এজেন্টকে ছাঁটাই করলেন মার্তিনেজ লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করায় মধুপুর পীর সাহেবের কড়া প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারি হংকংয়ে ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করবে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের কোনও সদস্য জড়িত থাকলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচল এক্সিলারেট, বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ: একদিন আগেই এলো এলএনজিবাহী জাহাজ পরীমণির গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ‘মাসরুর’ পুতুলের সাবেক স্বামী ১১৭ বছরে পা দিলেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ নারী কলকাতার সেই হোটেল ‘শিখা ইন’ এর মালিক গ্রেপ্তার তুরস্কের দিকে চোখ রাঙাচ্ছে ইসরায়েল, যুদ্ধ কি সত্যিই আসছে

সিন্ডিকেটের থাবায় বছরে পান রপ্তানি কমেছে ৩৪ শতাংশ, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার

দেশে গত এক বছরে পান রপ্তানি ৩৪.২১ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি ব্যবস্থা দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব শাখা।

কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব গত ৩০ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং কনস্যুলেট জেনারেল বাংলাদেশ, জেদ্দা, সৌদি আরব বরাবরে পান রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি রোধে এবং অবাধ পান রপ্তানি নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি চিঠি পাঠায়। এতে পান রপ্তানি খাতের সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি রোধ এবং অবাধ পান রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পান রপ্তানিকারক সমিতির কিছু নেতা কোনোদিনই প্রকৃত রপ্তানিকারক ছিলেন না। অথচ তারা রপ্তানি খাতে বিভিন্ন শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), এফবিসিসিআই ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রপ্তানি সহজীকরণের উদ্যোগ নিলেও সমিতির পক্ষ থেকে আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ আনার অভিযোগও করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিটি পানের বাস্কেটের বিপরীতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এবং সদস্য না হলে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। এতে নিয়মিত রপ্তানিকারকরা বাধার মুখে পড়ছেন এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে পান আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া বিল অব এক্সপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা যাচ্ছে না, ফলে পুরো রপ্তানি প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এর প্রভাবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে পান রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২১.৪৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৩২.৫৯ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩৪.২১ শতাংশ কম।

সাধারণ রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন ও আদালতের রায়ের পরও সমিতির বাধ্যতামূলক সদস্যপদ ও প্রত্যয়নপত্র ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। এতে নতুন রপ্তানিকারকরা বাজারে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং পুরনোদের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, প্রতি শিপমেন্টে সীমা নির্ধারণ, মাসে ৩০০ বাস্কেটের বেশি রপ্তানিতে বাধা এবং তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং রপ্তানি বাজার সংকুচিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেলেন ভাসানটেক-কড়াইল-সাততলা বস্তির প্রায় ১ হাজার মানুষ

সিন্ডিকেটের থাবায় বছরে পান রপ্তানি কমেছে ৩৪ শতাংশ, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

আপডেট টাইম : ০২:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

দেশে গত এক বছরে পান রপ্তানি ৩৪.২১ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে পান রপ্তানিকারক সমিতির নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি ব্যবস্থা দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব শাখা।

কৃষি পণ্য আমদানিকারক সমিতি, সৌদি আরব গত ৩০ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং কনস্যুলেট জেনারেল বাংলাদেশ, জেদ্দা, সৌদি আরব বরাবরে পান রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি রোধে এবং অবাধ পান রপ্তানি নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি চিঠি পাঠায়। এতে পান রপ্তানি খাতের সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি রোধ এবং অবাধ পান রপ্তানি কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পান রপ্তানিকারক সমিতির কিছু নেতা কোনোদিনই প্রকৃত রপ্তানিকারক ছিলেন না। অথচ তারা রপ্তানি খাতে বিভিন্ন শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), এফবিসিসিআই ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রপ্তানি সহজীকরণের উদ্যোগ নিলেও সমিতির পক্ষ থেকে আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ আনার অভিযোগও করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিটি পানের বাস্কেটের বিপরীতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে এবং সদস্য না হলে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। এতে নিয়মিত রপ্তানিকারকরা বাধার মুখে পড়ছেন এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে পান আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া বিল অব এক্সপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা যাচ্ছে না, ফলে পুরো রপ্তানি প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এর প্রভাবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে পান রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২১.৪৪ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৩২.৫৯ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩৪.২১ শতাংশ কম।

সাধারণ রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন ও আদালতের রায়ের পরও সমিতির বাধ্যতামূলক সদস্যপদ ও প্রত্যয়নপত্র ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। এতে নতুন রপ্তানিকারকরা বাজারে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং পুরনোদের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, প্রতি শিপমেন্টে সীমা নির্ধারণ, মাসে ৩০০ বাস্কেটের বেশি রপ্তানিতে বাধা এবং তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং রপ্তানি বাজার সংকুচিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।