ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষা এলেই জমে ওঠে শতবর্ষী নৌকার হাট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এই মাঠে এসে পৌঁছায় নৌকা। একটির পর একটি নৌকা, সঙ্গে মিস্ত্রি আর ক্রেতা। কেউ এসেছেন বিক্রি করতে, কেউ কিনতে। বর্ষার পানির সঙ্গে যেন জেগে ওঠে শত বছরের পুরোনো এক গল্প- শরীয়তপুরের বুড়িরহাটের নৌকার হাট।

বর্ষা এলেই জমে ওঠে এই হাট। নদী-খালবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের যাতায়াত, মাছ ধরা আর কৃষিকাজের প্রয়োজনে ছোট-বড় নানা ধরনের কাঠের নৌকা কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ক্রেতারা।

প্রতি মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নৌকার বেচাকেনা। প্রতি হাটে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০টি নৌকা। নতুন নৌকার দাম ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর পুরোনো নৌকা পাওয়া যায় ৩ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে।

তবে বুড়িরহাটের এই নৌকার হাটের গল্প আজকের নয়। শত বছরেরও বেশি আগে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচার জন্য এখানে হাটের যাত্রা শুরু। পরে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিরা নৌকা তৈরি করে এনে বিক্রি শুরু করেন। ধীরে ধীরে নৌকার বেচাকেনাই হয়ে ওঠে এই হাটের অন্যতম পরিচয়।

স্থানীয়দের দাবি, বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও অন্তত ৪০ বছর আগে থেকে এখানে নৌকার হাট বসছে। ১৯৪৬ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ের মাঠেই চলছে এই ঐতিহ্যবাহী হাট। এই হাটকে ঘিরে টিকে আছে কয়েক প্রজন্মের কাঠমিস্ত্রিদের জীবিকাও। একজন মিস্ত্রি সপ্তাহে ছোট আকারের দুটি নৌকা তৈরি করতে পারেন। একটি নৌকা বিক্রি করে লাভ থাকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

একসময় শত শত নৌকার সমাগমে মুখর থাকত বুড়িরহাট। সময়ের পরিবর্তনে সেই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। কিন্তু থেমে যায়নি হাট। প্রতি মঙ্গলবার বর্ষার সকালে আবারও সারি সারি কাঠের নৌকা এসে দাঁড়ায় বুড়িরহাটের মাঠে। চলে দরদাম, কেনাবেচা, আর ফিরে আসে পুরোনো দিনের ব্যস্ততা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ষা এলেই জমে ওঠে শতবর্ষী নৌকার হাট

আপডেট টাইম : ১০:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এই মাঠে এসে পৌঁছায় নৌকা। একটির পর একটি নৌকা, সঙ্গে মিস্ত্রি আর ক্রেতা। কেউ এসেছেন বিক্রি করতে, কেউ কিনতে। বর্ষার পানির সঙ্গে যেন জেগে ওঠে শত বছরের পুরোনো এক গল্প- শরীয়তপুরের বুড়িরহাটের নৌকার হাট।

বর্ষা এলেই জমে ওঠে এই হাট। নদী-খালবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের যাতায়াত, মাছ ধরা আর কৃষিকাজের প্রয়োজনে ছোট-বড় নানা ধরনের কাঠের নৌকা কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ক্রেতারা।

প্রতি মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নৌকার বেচাকেনা। প্রতি হাটে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০টি নৌকা। নতুন নৌকার দাম ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর পুরোনো নৌকা পাওয়া যায় ৩ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে।

তবে বুড়িরহাটের এই নৌকার হাটের গল্প আজকের নয়। শত বছরেরও বেশি আগে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচার জন্য এখানে হাটের যাত্রা শুরু। পরে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিরা নৌকা তৈরি করে এনে বিক্রি শুরু করেন। ধীরে ধীরে নৌকার বেচাকেনাই হয়ে ওঠে এই হাটের অন্যতম পরিচয়।

স্থানীয়দের দাবি, বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও অন্তত ৪০ বছর আগে থেকে এখানে নৌকার হাট বসছে। ১৯৪৬ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ের মাঠেই চলছে এই ঐতিহ্যবাহী হাট। এই হাটকে ঘিরে টিকে আছে কয়েক প্রজন্মের কাঠমিস্ত্রিদের জীবিকাও। একজন মিস্ত্রি সপ্তাহে ছোট আকারের দুটি নৌকা তৈরি করতে পারেন। একটি নৌকা বিক্রি করে লাভ থাকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

একসময় শত শত নৌকার সমাগমে মুখর থাকত বুড়িরহাট। সময়ের পরিবর্তনে সেই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। কিন্তু থেমে যায়নি হাট। প্রতি মঙ্গলবার বর্ষার সকালে আবারও সারি সারি কাঠের নৌকা এসে দাঁড়ায় বুড়িরহাটের মাঠে। চলে দরদাম, কেনাবেচা, আর ফিরে আসে পুরোনো দিনের ব্যস্ততা।