ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নিকলীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘিরে নানা অভিযোগ বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা লং মার্চ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান শাহবাজ শরীফের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এক বছরের মধ্যে লক্ষ্য ৫ হাজার মেগাওয়াট ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক শিক্ষার্থীরাই যার সন্তান, কল্যাণী তাদের স্বপ্নসারথি ভিকির পুলসিরাতে মেহজাবীন এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে বুধবার চুক্তি সই শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে দলের ভেতরে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সদ্য বিলুপ্ত ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে থাকা নেতাদের কেউ ফিরবেন, নাকি এবার অপেক্ষাকৃত নতুন মুখকে সামনে আনা হবে—এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভাবমূর্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে দলীয় ফোরামে আলোচনা রয়েছে।

শীর্ষপদে একাধিক নাম

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। একই পদে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার এবং সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

নতুন কমিটিতে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে সাইফুল আলম নীরব জাগো নিউজকে বলেন, ‘নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হককে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত ৫ অক্টোবর গুলশানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন

সাইফুল আলম নীরব এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনায় তার নাম আসায় মহানগর উত্তরের পুরোনো নেতৃত্বের একটি অংশকে ঘিরেও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

আমিনুল হককে ঘিরে নতুন সমীকরণ

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হককে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত ৫ অক্টোবর গুলশানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

গুলশান-১ নম্বরে নাভানা টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি আজাদ মসজিদের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে আমিনুল হককে নতুন কমিটির নেতৃত্বে রাখার দাবি জানানো হয়।

বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও আমিনুল হককে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, দুর্দিনে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের খুঁজে এনে মহানগর কমিটিতে জায়গা দেওয়া প্রয়োজন।

ফলে নতুন কমিটি ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—বিলুপ্ত কমিটির নেতৃত্ব থেকেই আমিনুল হককে আবার সামনে আনা হবে, নাকি শীর্ষপদে অন্য কোনো মুখকে বেছে নেওয়া হবে।

বিলুপ্ত কমিটির এক নম্বর সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার নতুন কমিটিতে বিলুপ্ত কমিটির মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতাদেরও নতুন কমিটিতে জায়গা দেওয়ার পক্ষে তিনি।

আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, ‘আগের আন্দোলন-সংগ্রামে আমিনুল হকের ভূমিকা ছিল এবং মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রেও তিনি কাজ করেছেন।’

সাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের নাম। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন এবং দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিকী সাজুর নামও আলোচনায় রয়েছে

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন কমিটি নিয়ে নীতিনির্ধারকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে নেতৃত্ব বাছাইয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্যতা ও অতীতের ভূমিকা বিবেচনা করতে হবে।’

সদস্যসচিব পদেও একাধিক নাম

সাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের নাম। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন এবং দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিকী সাজুর নামও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজি ইউসুফ এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নামও আলোচনায় এসেছে।

রিজভীর বক্তব্যে কীসের ইঙ্গিত?

নতুন কমিটি কবে ঘোষণা হতে পারে—এ বিষয়েও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য আলোচনায় এসেছে।

রিজভী বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসবে। এটি চলমান প্রক্রিয়া।’

রিজভীর বক্তব্যে নতুন কমিটির নির্দিষ্ট কোনো নাম বা সময়সীমা জানানো না হলেও সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি চলমান—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কেন বিলুপ্ত হলো আগের কমিটি?

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক ও সদস্যসচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করার কথা জানানো হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে অতি শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণার কথা বলা হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

সবমিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে একাধিক সমীকরণ কাজ করছে। একটি অংশ বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতৃত্বের কথাও উঠে এসেছে

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনার ছয়দিন পর মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার ঘটনার কোনো উল্লেখ ছিল না।

২০২৪ সালের কমিটি থেকে নতুন সমীকরণ

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি প্রথমে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ছয় সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। পরে একই বছরের ২৬ নভেম্বর তা ৫১ সদস্যে সম্প্রসারিত করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের পাশাপাশি ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৩৬ জন সদস্য ছিলেন।

প্রায় ২২ মাস পর ৩০ সেপ্টেম্বর সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। নতুন কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

পুরোনো নেতৃত্ব নাকি নতুন মুখ?

সবমিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে একাধিক সমীকরণ কাজ করছে। একটি অংশ বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতৃত্বের কথাও উঠে এসেছে।

এর মধ্যে আমিনুল হককে সভাপতি করার দাবিতে ৫ অক্টোবর নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য কর্মসূচি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে সাইফুল আলম নীরব, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এস এম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সদস্যসচিব পদে মোস্তফা জামান, আফাজ উদ্দিন ও এস এ সিদ্দিকী সাজুসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায়।

তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিব বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ফলে শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ কাউকে ফিরিয়ে আনা, নতুন কাউকে সামনে আনা কিংবা পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি গঠন—কোন সমীকরণ কার্যকর হবে, সেটিই এখন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নিকলীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘিরে নানা অভিযোগ

শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

আপডেট টাইম : ১১:২৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে দলের ভেতরে আলোচনা এখন তুঙ্গে। সদ্য বিলুপ্ত ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে থাকা নেতাদের কেউ ফিরবেন, নাকি এবার অপেক্ষাকৃত নতুন মুখকে সামনে আনা হবে—এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, গ্রহণযোগ্যতা এবং ভাবমূর্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে দলীয় ফোরামে আলোচনা রয়েছে।

শীর্ষপদে একাধিক নাম

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। একই পদে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার এবং সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

নতুন কমিটিতে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে সাইফুল আলম নীরব জাগো নিউজকে বলেন, ‘নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হককে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত ৫ অক্টোবর গুলশানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন

সাইফুল আলম নীরব এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনায় তার নাম আসায় মহানগর উত্তরের পুরোনো নেতৃত্বের একটি অংশকে ঘিরেও নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

আমিনুল হককে ঘিরে নতুন সমীকরণ

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হককে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত ৫ অক্টোবর গুলশানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

গুলশান-১ নম্বরে নাভানা টাওয়ারের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি আজাদ মসজিদের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে আমিনুল হককে নতুন কমিটির নেতৃত্বে রাখার দাবি জানানো হয়।

বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও আমিনুল হককে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, দুর্দিনে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের খুঁজে এনে মহানগর কমিটিতে জায়গা দেওয়া প্রয়োজন।

ফলে নতুন কমিটি ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—বিলুপ্ত কমিটির নেতৃত্ব থেকেই আমিনুল হককে আবার সামনে আনা হবে, নাকি শীর্ষপদে অন্য কোনো মুখকে বেছে নেওয়া হবে।

বিলুপ্ত কমিটির এক নম্বর সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার নতুন কমিটিতে বিলুপ্ত কমিটির মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতাদেরও নতুন কমিটিতে জায়গা দেওয়ার পক্ষে তিনি।

আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, ‘আগের আন্দোলন-সংগ্রামে আমিনুল হকের ভূমিকা ছিল এবং মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রেও তিনি কাজ করেছেন।’

সাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের নাম। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন এবং দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিকী সাজুর নামও আলোচনায় রয়েছে

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন কমিটি নিয়ে নীতিনির্ধারকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে নেতৃত্ব বাছাইয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগ্যতা ও অতীতের ভূমিকা বিবেচনা করতে হবে।’

সদস্যসচিব পদেও একাধিক নাম

সাধারণ সম্পাদক বা সদস্যসচিব পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের নাম। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন এবং দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিকী সাজুর নামও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজি ইউসুফ এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের নামও আলোচনায় এসেছে।

রিজভীর বক্তব্যে কীসের ইঙ্গিত?

নতুন কমিটি কবে ঘোষণা হতে পারে—এ বিষয়েও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য আলোচনায় এসেছে।

রিজভী বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসবে। এটি চলমান প্রক্রিয়া।’

রিজভীর বক্তব্যে নতুন কমিটির নির্দিষ্ট কোনো নাম বা সময়সীমা জানানো না হলেও সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি চলমান—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কেন বিলুপ্ত হলো আগের কমিটি?

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক ও সদস্যসচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করার কথা জানানো হয়। একই বিজ্ঞপ্তিতে অতি শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণার কথা বলা হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

একই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

সবমিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে একাধিক সমীকরণ কাজ করছে। একটি অংশ বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতৃত্বের কথাও উঠে এসেছে

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনার ছয়দিন পর মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার ঘটনার কোনো উল্লেখ ছিল না।

২০২৪ সালের কমিটি থেকে নতুন সমীকরণ

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি প্রথমে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর ছয় সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। পরে একই বছরের ২৬ নভেম্বর তা ৫১ সদস্যে সম্প্রসারিত করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের পাশাপাশি ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ৩৬ জন সদস্য ছিলেন।

প্রায় ২২ মাস পর ৩০ সেপ্টেম্বর সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। নতুন কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

পুরোনো নেতৃত্ব নাকি নতুন মুখ?

সবমিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে একাধিক সমীকরণ কাজ করছে। একটি অংশ বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতৃত্বের কথাও উঠে এসেছে।

এর মধ্যে আমিনুল হককে সভাপতি করার দাবিতে ৫ অক্টোবর নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য কর্মসূচি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে সাইফুল আলম নীরব, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এস এম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সদস্যসচিব পদে মোস্তফা জামান, আফাজ উদ্দিন ও এস এ সিদ্দিকী সাজুসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায়।

তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিব বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ফলে শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত কমিটির অভিজ্ঞ কাউকে ফিরিয়ে আনা, নতুন কাউকে সামনে আনা কিংবা পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি গঠন—কোন সমীকরণ কার্যকর হবে, সেটিই এখন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে।