ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে স্ত্রী-সন্তান নিহত আর্জেন্টাইন ফুটবলারের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:২০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৪১ বার

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিখোঁজ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের। এমন সংবাদ ছাপা হয়েছিল দু’দিন আগে। অবশেষে খবর এলো, আর্জেন্টিনার সেই ফুটবলারের স্ত্রী এবং সন্তানরা আর বেঁচে নেই। ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে তারা।

আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভেনেজুয়েলার শীর্ষস্থানীয় ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা। ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তাদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহো।

ভেনেজুয়েলার ইয়ারাকুই অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি ধ্বসে পড়ে। ভবন ধ্বসের পর পরিবারটিকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ঘটনার সময় ত্রেহো ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ভেনেজুয়েলা লিগে খেলেন ত্রেহো। সামনের ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য ক্লাবের সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন।

এক বিবৃতিতে দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা জানায়, ‘ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা খেলোয়াড় লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তার সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহোর মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং লুকাস ও তার সকল প্রিয়জনের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

ত্রেহোর পরিবার উপকূলীয় এলাকা প্লায়া গ্রান্দেতে অবস্থান করছিল, যা দুটো ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানেই তাদের বসবাস করা আবাসিক ভবনটি ধ্বসে পড়ে।

পরিবারের সদস্য, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং পেশাদার উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় স্ত্রী ও সন্তানদের খুঁজে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অনুসন্ধান শেষ হয় শোকাবহ পরিণতিতে।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার আগে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক পোস্টে তিনি পরিবারের খোঁজ চেয়ে লিখেছিলেন, ‘প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটি ধ্বসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং কেউ যদি তাদের দেখে থাকেন, তাহলে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা ভবনের ভেতরে ছিল না। দয়া করে আমার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’

শনিবার জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই ডাবল ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ পর্যন্ত ১৪০০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, জনসংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা ধারণা করছে, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি হত্যা: যুবদল আহ্বায়ক নৌশাদ গ্রেপ্তার

ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে স্ত্রী-সন্তান নিহত আর্জেন্টাইন ফুটবলারের

আপডেট টাইম : ০৯:২০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিখোঁজ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের। এমন সংবাদ ছাপা হয়েছিল দু’দিন আগে। অবশেষে খবর এলো, আর্জেন্টিনার সেই ফুটবলারের স্ত্রী এবং সন্তানরা আর বেঁচে নেই। ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে তারা।

আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভেনেজুয়েলার শীর্ষস্থানীয় ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা। ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তাদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহো।

ভেনেজুয়েলার ইয়ারাকুই অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি ধ্বসে পড়ে। ভবন ধ্বসের পর পরিবারটিকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ঘটনার সময় ত্রেহো ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ভেনেজুয়েলা লিগে খেলেন ত্রেহো। সামনের ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য ক্লাবের সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন।

এক বিবৃতিতে দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা জানায়, ‘ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা খেলোয়াড় লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তার সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহোর মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং লুকাস ও তার সকল প্রিয়জনের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

ত্রেহোর পরিবার উপকূলীয় এলাকা প্লায়া গ্রান্দেতে অবস্থান করছিল, যা দুটো ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানেই তাদের বসবাস করা আবাসিক ভবনটি ধ্বসে পড়ে।

পরিবারের সদস্য, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং পেশাদার উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় স্ত্রী ও সন্তানদের খুঁজে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অনুসন্ধান শেষ হয় শোকাবহ পরিণতিতে।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার আগে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক পোস্টে তিনি পরিবারের খোঁজ চেয়ে লিখেছিলেন, ‘প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটি ধ্বসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং কেউ যদি তাদের দেখে থাকেন, তাহলে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা ভবনের ভেতরে ছিল না। দয়া করে আমার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’

শনিবার জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই ডাবল ভূমিকম্পে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ পর্যন্ত ১৪০০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, জনসংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা ধারণা করছে, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন।