ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা পে স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট নীতি, কোন গ্রেডে কত শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে জোবায়েদকে হত্যা, তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বাংলাদেশি সমর্থকদের স্কালোনির ধন্যবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ‘মত পার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়’ শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষিতে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে আইফার্মারের সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর শিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে সাদিক কায়েম

যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৪৭ বার

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ইরানের বেশ কয়েকজন সেনা কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ বুধবার (১১ মার্চ)। এতে অংশ নিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসেছেন দেশটির লাখ লাখ মানুষ।

শহরে শহরে রোল পড়ে গেছে কান্নার। তারা সদ্য নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে জায়নবাদী ইসরাইল ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।তেহরানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ঘোষণা করেছে।

নিহতের তালিকায় ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানীয় কিছু নাম আছে। নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্তেশ) এবং বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) উভয়ের প্রধান, সেইসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব স্টাফের জন্য একটি যৌথ জানাজা আয়োজন করার বিষয়টি ক্ষয়ক্ষতির বিশাল মাত্রাকেই ফুটিয়ে তোলে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশের সামরিক কমান্ড কাঠামোর একটি বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু ও নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীন একটি সংস্থা—’ফাউন্ডেশন ফর দ্য প্রিজারভেশন অব ওয়ার্কস অ্যান্ড পাবলিকেশন অব ভ্যালুস অব হোলি ডিফেন্স’ এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ একদল ‘শহীদের‘ লাশ বুধবার বিকেলে এনকেলাব (বিপ্লব) চত্বর থেকে ‘মেরাজ-ই শোহাদা’র (শহীদ মাজার) দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐতিহাসিকভাবে ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শব্দটি ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। বর্তমান এই সংঘাতকে ‘রমজান ইম্পোজড ওয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে শাসকগোষ্ঠী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি মনোবলহীন জনগণকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে; যেখানে বর্তমান সংকটকে পবিত্র রমজান মাসে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র সংগ্রাম হিসেবে ফ্রেমবন্দি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ শিরাজির মৃত্যুটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি সর্বোচ্চ নেতা এবং সমগ্র সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদের পাশাপাশি তার মৃত্যু এটিই নির্দেশ করে যে, ‘বায়েত-ই রেহবারি’ (নেতার কার্যালয় ও বাসভবন) সম্ভবত একটি বিশাল ও সফল ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ হামলার শিকার হয়েছে, যা একটি জরুরি বৈঠকের সময় উচ্চপদস্থ কমান্ডকে আঘাত হেনেছে।

এছাড়া মোহসেন দারেহ-বাঘি, হাসান-আলী তাজিক, দাউদ আসগারি, বাহরাম হোসেইনি মোতলাক, আবুল কাসেম বাবায়ান, রাসূল হেলালি ও গোলামরেজা রেজাইয়ানের নাম যুদ্ধে নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তাদের পদমর্যাদা প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম তাসনিম জানায়, ইরানের ল এনফোর্সমেন্ট কমান্ডের (ফারাজা) গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান তেহরানে ইসরাইলের প্রাথমিক সামরিক হামলার সময় নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা ও ইরান উইয়ার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ হলো জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন

যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল

আপডেট টাইম : ১১:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ইরানের বেশ কয়েকজন সেনা কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ বুধবার (১১ মার্চ)। এতে অংশ নিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে এসেছেন দেশটির লাখ লাখ মানুষ।

শহরে শহরে রোল পড়ে গেছে কান্নার। তারা সদ্য নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে জায়নবাদী ইসরাইল ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।তেহরানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ঘোষণা করেছে।

নিহতের তালিকায় ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানীয় কিছু নাম আছে। নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্তেশ) এবং বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) উভয়ের প্রধান, সেইসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব স্টাফের জন্য একটি যৌথ জানাজা আয়োজন করার বিষয়টি ক্ষয়ক্ষতির বিশাল মাত্রাকেই ফুটিয়ে তোলে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশের সামরিক কমান্ড কাঠামোর একটি বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু ও নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অধীন একটি সংস্থা—’ফাউন্ডেশন ফর দ্য প্রিজারভেশন অব ওয়ার্কস অ্যান্ড পাবলিকেশন অব ভ্যালুস অব হোলি ডিফেন্স’ এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ একদল ‘শহীদের‘ লাশ বুধবার বিকেলে এনকেলাব (বিপ্লব) চত্বর থেকে ‘মেরাজ-ই শোহাদা’র (শহীদ মাজার) দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঐতিহাসিকভাবে ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শব্দটি ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। বর্তমান এই সংঘাতকে ‘রমজান ইম্পোজড ওয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে শাসকগোষ্ঠী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি মনোবলহীন জনগণকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে; যেখানে বর্তমান সংকটকে পবিত্র রমজান মাসে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র সংগ্রাম হিসেবে ফ্রেমবন্দি করা হয়েছে।

মোহাম্মদ শিরাজির মৃত্যুটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি সর্বোচ্চ নেতা এবং সমগ্র সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদের পাশাপাশি তার মৃত্যু এটিই নির্দেশ করে যে, ‘বায়েত-ই রেহবারি’ (নেতার কার্যালয় ও বাসভবন) সম্ভবত একটি বিশাল ও সফল ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ হামলার শিকার হয়েছে, যা একটি জরুরি বৈঠকের সময় উচ্চপদস্থ কমান্ডকে আঘাত হেনেছে।

এছাড়া মোহসেন দারেহ-বাঘি, হাসান-আলী তাজিক, দাউদ আসগারি, বাহরাম হোসেইনি মোতলাক, আবুল কাসেম বাবায়ান, রাসূল হেলালি ও গোলামরেজা রেজাইয়ানের নাম যুদ্ধে নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তাদের পদমর্যাদা প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম তাসনিম জানায়, ইরানের ল এনফোর্সমেন্ট কমান্ডের (ফারাজা) গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান তেহরানে ইসরাইলের প্রাথমিক সামরিক হামলার সময় নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা ও ইরান উইয়ার।