ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ৩ মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে আঘাত আইআরজিসি’র

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ০ বার

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে ইরানে আবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জবাবে বাহরাইন-কুয়েত-জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ডন নিউজ জানিয়েছে, আল-আজরাক এলাকায় লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিলো বলে জানায় দেশটির সামরিক বাহিনী।

দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার সময় ধ্বংসাবশেষ বা ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া যায়নি।

দেশটির সামরিক সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

এদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘শত্রু’ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

কুয়েত সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর উৎস কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় ইরানের এই সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই অভিযান শুরু করা হয়। তবে, এই হামলার জবাব হবে ভয়াবহ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

একইদিনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকিই জবাব ছাড়া রাখবে না।’

পোস্টে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

এর আগে, মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার আগের রাতে ভূপাতিত করেছে ইরান। ট্রাম্প বলেন, ‘এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য।’

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক বারাক রাভিদের উদ্ধৃতিতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত ইরানের বেশ কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই হামলা যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা ব্যাহত করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে না। তার দাবি, এটি মূলত একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ৩ মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে আঘাত আইআরজিসি’র

আপডেট টাইম : ১০:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে ইরানে আবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জবাবে বাহরাইন-কুয়েত-জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ডন নিউজ জানিয়েছে, আল-আজরাক এলাকায় লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিলো বলে জানায় দেশটির সামরিক বাহিনী।

দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার সময় ধ্বংসাবশেষ বা ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া যায়নি।

দেশটির সামরিক সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

এদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘শত্রু’ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

কুয়েত সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর উৎস কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার উদ্ধৃতি দিয়ে আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় ইরানের এই সামরিক বাহিনী।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই অভিযান শুরু করা হয়। তবে, এই হামলার জবাব হবে ভয়াবহ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

একইদিনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকিই জবাব ছাড়া রাখবে না।’

পোস্টে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

এর আগে, মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর টহলরত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার আগের রাতে ভূপাতিত করেছে ইরান। ট্রাম্প বলেন, ‘এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য।’

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রতিবেদক বারাক রাভিদের উদ্ধৃতিতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত ইরানের বেশ কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই হামলা যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা ব্যাহত করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে না। তার দাবি, এটি মূলত একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে।