ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ১ বার

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩১ জন সোকসারজেন অঞ্চলের এবং চারজন দাভাও এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্যহয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান হয়।

এর আগে কর্তৃপক্ষ ৩২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল এবং ১২ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য প্রকাশ করেছিল। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিভিন্ন স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।

ভূমিকম্পের ফলে বহু ভবন ধসে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে একটি জলিবি (Jollibee) ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, ‘সরকার দ্রুত কাজ করছে এবং আমরা মিন্দানাওকে একা ছেড়ে দেব না।’

ফিলিপাইনের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্কুলের ক্লাস স্থগিতের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা কাঁপতে থাকা মাটিতে বসে আছে। ভিডিওতে একটি টিনের ছাউনিযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্র ধসে পড়তেও দেখা যায়, যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে কেউ আহত হয়নি।

প্রধান ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত ছিল। এছাড়া সোমবার রাত ১০টা ৫২ মিনিটের দিকে সারাঙ্গানির বালুট দ্বীপের উপকূলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিকভাবে অস্থিতিশীল ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। অধিকাংশ ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কিছু ঘটনা ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ভিসায়াস অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

ভূমিকম্পের পর জাপান কর্তৃপক্ষ তাদের উপকূলে এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করে। পরে ওকিনাওয়া অঞ্চলে কয়েক সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ এবং দূরবর্তী ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জে ২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, পালাউ ও ফিলিপাইনের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকাতেও সুনামি ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঢেউয়ের উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ মিটার পর্যন্ত ছিল।

উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫

আপডেট টাইম : ১০:০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩১ জন সোকসারজেন অঞ্চলের এবং চারজন দাভাও এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্যহয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান হয়।

এর আগে কর্তৃপক্ষ ৩২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল এবং ১২ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য প্রকাশ করেছিল। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিভিন্ন স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।

ভূমিকম্পের ফলে বহু ভবন ধসে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে একটি জলিবি (Jollibee) ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, ‘সরকার দ্রুত কাজ করছে এবং আমরা মিন্দানাওকে একা ছেড়ে দেব না।’

ফিলিপাইনের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্কুলের ক্লাস স্থগিতের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা কাঁপতে থাকা মাটিতে বসে আছে। ভিডিওতে একটি টিনের ছাউনিযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্র ধসে পড়তেও দেখা যায়, যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে কেউ আহত হয়নি।

প্রধান ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ পর্যন্ত ছিল। এছাড়া সোমবার রাত ১০টা ৫২ মিনিটের দিকে সারাঙ্গানির বালুট দ্বীপের উপকূলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিকভাবে অস্থিতিশীল ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। অধিকাংশ ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কিছু ঘটনা ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় ভিসায়াস অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

ভূমিকম্পের পর জাপান কর্তৃপক্ষ তাদের উপকূলে এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করে। পরে ওকিনাওয়া অঞ্চলে কয়েক সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ এবং দূরবর্তী ওগাসাওয়ারা দ্বীপপুঞ্জে ২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, পালাউ ও ফিলিপাইনের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকাতেও সুনামি ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঢেউয়ের উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ মিটার পর্যন্ত ছিল।

উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।