ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ১১ বার

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) ২০২৬ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশের অবস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলেছে দেশটি।

অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) গত ৯ জুন প্রকাশিত এ সূচকে বাংলাদেশকে ‘মিডিয়াম’ বা মধ্যম শান্তির দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

মোট ১৬৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭তম এবং স্কোর ২ দশমিক ২২৬ (৫-এর মধ্যে)। সূচকে স্কোর যত কম, দেশ তত বেশি শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আইইপি তিনটি প্রধান ক্ষেত্র- সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সামরিকীকরণ এই তিন খাতে মোট ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে শান্তির মাত্রা নির্ধারণ করে।

নবাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্কোরের চিত্র হলো: সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা: ২ দশমিক ৫৭৯, চলমান সংঘাত: ২ দশমিক ২৩৭ এবং সামরিকীকরণ: ১ দশমিক ৬১৫

দক্ষিণ এশিয়ায় এবারও সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে ভুটান। বৈশ্বিক তালিকায় ১৬তম স্থানে থাকা দেশটি এ অঞ্চলের একমাত্র রাষ্ট্র, যাদের শান্তির মাত্রা ‘উচ্চ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ৬৭তম স্থানে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। নেপাল রয়েছে ১১১তম স্থানে। ভারতের অবস্থান ১২৭তম, যা দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম স্থানে ফেলেছে এবং তাদের শ্রেণিবিন্যাস নিম্ন শান্তির দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান (১৫২তম) ও আফগানিস্তান (১৫৭তম) তালিকার নিচের দিকে অবস্থান করছে এবং এ অঞ্চলের সবচেয়ে অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জিপিআই ২০২৬ অনুযায়ী, টানা ১৯ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। এরপর রয়েছে নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড।

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের অবস্থানে এসেছে রাশিয়া। তালিকায় এর পরেই রয়েছে সুদান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইউক্রেন ও ইসরায়েল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শান্তির মাত্রা শূণ্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং টানা ১২ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে শান্তির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৯টিতে শান্তির অবনতি ঘটেছে, উন্নতি হয়েছে ৬২টিতে।

বাংলাদেশের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক সতর্কতা

প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে রপ্তানিনির্ভর ও জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে চিহ্নিত করে এলএনজি দামের ওঠানামা ও বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসে অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা করা হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি আমদানির অতিনির্ভরতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক ও রাজস্ব ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চরম পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় জিডিপির ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি শূণ্য দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০২৬ দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১২:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) ২০২৬ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশের অবস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলেছে দেশটি।

অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) গত ৯ জুন প্রকাশিত এ সূচকে বাংলাদেশকে ‘মিডিয়াম’ বা মধ্যম শান্তির দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

মোট ১৬৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭তম এবং স্কোর ২ দশমিক ২২৬ (৫-এর মধ্যে)। সূচকে স্কোর যত কম, দেশ তত বেশি শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আইইপি তিনটি প্রধান ক্ষেত্র- সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সামরিকীকরণ এই তিন খাতে মোট ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে শান্তির মাত্রা নির্ধারণ করে।

নবাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্কোরের চিত্র হলো: সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা: ২ দশমিক ৫৭৯, চলমান সংঘাত: ২ দশমিক ২৩৭ এবং সামরিকীকরণ: ১ দশমিক ৬১৫

দক্ষিণ এশিয়ায় এবারও সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে ভুটান। বৈশ্বিক তালিকায় ১৬তম স্থানে থাকা দেশটি এ অঞ্চলের একমাত্র রাষ্ট্র, যাদের শান্তির মাত্রা ‘উচ্চ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ৬৭তম স্থানে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। নেপাল রয়েছে ১১১তম স্থানে। ভারতের অবস্থান ১২৭তম, যা দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম স্থানে ফেলেছে এবং তাদের শ্রেণিবিন্যাস নিম্ন শান্তির দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান (১৫২তম) ও আফগানিস্তান (১৫৭তম) তালিকার নিচের দিকে অবস্থান করছে এবং এ অঞ্চলের সবচেয়ে অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জিপিআই ২০২৬ অনুযায়ী, টানা ১৯ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। এরপর রয়েছে নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড।

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের অবস্থানে এসেছে রাশিয়া। তালিকায় এর পরেই রয়েছে সুদান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইউক্রেন ও ইসরায়েল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শান্তির মাত্রা শূণ্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং টানা ১২ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে শান্তির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৯৯টিতে শান্তির অবনতি ঘটেছে, উন্নতি হয়েছে ৬২টিতে।

বাংলাদেশের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক সতর্কতা

প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে রপ্তানিনির্ভর ও জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে চিহ্নিত করে এলএনজি দামের ওঠানামা ও বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসে অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কা করা হয়েছে।

এছাড়া জ্বালানি আমদানির অতিনির্ভরতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক ও রাজস্ব ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চরম পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় জিডিপির ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি শূণ্য দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।