ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুতিনের ‘পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সীমা’ বাড়ানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া ‘পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সীমা’ স্বেচ্ছায় বাড়িয়ে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, তিনি পুরোনো চুক্তি বজায় রাখার পরিবর্তে দুই দেশের আলোচকদের নিয়ে একটি নতুন ও আধুনিক চুক্তি তৈরি করতে চান।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটিকে একটি অত্যন্ত দুর্বল চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘পূর্বের চুক্তিটি অপরাধের সমান যা অত্যন্ত বাজেভাবে আলোচনা করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তা চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমাদের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের এখন একটি নতুন, উন্নত ও আধুনিকীকরণ চুক্তিতে কাজ করা উচিত যা ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হবে।’ ট্রাম্প আরও চান যে এই নতুন চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক, যদিও বেইজিং এতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।

গত বছর পুতিন জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন রাজি থাকলে তিনি আরও এক বছর এই চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে আমেরিকা সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে। কয়েক দশকের পুরনো এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মস্কো দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া পারমাণবিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবে, তবে তা অবশ্যই জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হবে।

আল জাজিরার শিহাব রত্তানসি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আবুধাবিতে অবস্থানরত মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিদল ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি ছয় মাসের জন্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যেহেতু মূল চুক্তিটি আর বাড়ানোর আইনি সুযোগ নেই, তাই এটি একটি অনানুষ্ঠানিক ‘করমর্দন’ চুক্তি হতে পারে। এর লক্ষ্য হলো এই সময়ের মধ্যে একটি নতুন ও আনুষ্ঠানিক চুক্তি তৈরির পথ প্রশস্ত করা।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে প্রথম ‘স্টার্ট চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ২০১০ সালে বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। এর অধীনে দুই দেশের জন্য এক হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ও ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান মোতায়েনের সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত ছিল।

২০২১ সালে জো বাইডেন ও পুতিনের সম্মতিতে চুক্তিটি শেষবারের মতো পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পুতিনের পারমাণবিক হুমকির সম্ভাবনা ও ভারত-পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিশ্লেষকদের মধ্যে এক অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

পুতিনের ‘পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সীমা’ বাড়ানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

আপডেট টাইম : ১১:১৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া ‘পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সীমা’ স্বেচ্ছায় বাড়িয়ে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, তিনি পুরোনো চুক্তি বজায় রাখার পরিবর্তে দুই দেশের আলোচকদের নিয়ে একটি নতুন ও আধুনিক চুক্তি তৈরি করতে চান।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটিকে একটি অত্যন্ত দুর্বল চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘পূর্বের চুক্তিটি অপরাধের সমান যা অত্যন্ত বাজেভাবে আলোচনা করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তা চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমাদের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের এখন একটি নতুন, উন্নত ও আধুনিকীকরণ চুক্তিতে কাজ করা উচিত যা ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হবে।’ ট্রাম্প আরও চান যে এই নতুন চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক, যদিও বেইজিং এতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।

গত বছর পুতিন জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন রাজি থাকলে তিনি আরও এক বছর এই চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে আমেরিকা সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে। কয়েক দশকের পুরনো এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মস্কো দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়া পারমাণবিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবে, তবে তা অবশ্যই জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হবে।

আল জাজিরার শিহাব রত্তানসি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য আবুধাবিতে অবস্থানরত মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিদল ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি ছয় মাসের জন্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যেহেতু মূল চুক্তিটি আর বাড়ানোর আইনি সুযোগ নেই, তাই এটি একটি অনানুষ্ঠানিক ‘করমর্দন’ চুক্তি হতে পারে। এর লক্ষ্য হলো এই সময়ের মধ্যে একটি নতুন ও আনুষ্ঠানিক চুক্তি তৈরির পথ প্রশস্ত করা।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে প্রথম ‘স্টার্ট চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ২০১০ সালে বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভ ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। এর অধীনে দুই দেশের জন্য এক হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ও ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান মোতায়েনের সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত ছিল।

২০২১ সালে জো বাইডেন ও পুতিনের সম্মতিতে চুক্তিটি শেষবারের মতো পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পুতিনের পারমাণবিক হুমকির সম্ভাবনা ও ভারত-পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিশ্লেষকদের মধ্যে এক অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।