ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা কি চীনের দিকে ঝুঁকছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৭ বার

নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে, ‘শত্রু যখন ভুল করতে থাকে, তখন তাকে বাধা দিও না।’ বেইজিং বর্তমানে সম্ভবত এই নীতিই অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালি পররাষ্ট্রনীতি এবং একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ওয়াশিংটন। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিজের বলয়ে টানতে শুরু করেছে চীন। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি ও উত্তর মেরু ইস্যুতে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও পরে তিনি এই হুমকি থেকে সরে এসেছেন, কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর মনে আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে। আমেরিকার এই ‘অনির্ভরযোগ্য’ আচরণের মুখে আয়ারল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো এখন চীনের দিকে ঝুঁকছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এই মাসে বেইজিং সফর করেছেন। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয়। শুধু রাজনীতি নয়, সাহিত্য নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে জিনপিং যে ‘মন ভোলানো কূটনীতি’ শুরু করেছেন, তা বেশ কার্যকর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক মন্দ নয়, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতণ্ডা তাদের সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা এনেছে। স্টারমার চাইছেন ব্রিটিশ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চীনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে।

যদিও বিশ্ব রাজনীতির এই সমীকরণ চীনের অনুকূলে যাচ্ছে, তবে বেইজিং এখনই খুব বেশি উল্লাস দেখাচ্ছে না। চীনা থিঙ্কট্যাঙ্কগুলোর মতে, তারা শীতল যুদ্ধপরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল। তাই এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে তারা সতর্ক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা যখন তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের ওপর খবরদারি করছে, তখন চীন নিজেকে একজন ‘স্থিতিশীল অংশীদার’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা কি চীনের দিকে ঝুঁকছে

আপডেট টাইম : ১০:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে, ‘শত্রু যখন ভুল করতে থাকে, তখন তাকে বাধা দিও না।’ বেইজিং বর্তমানে সম্ভবত এই নীতিই অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালি পররাষ্ট্রনীতি এবং একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ওয়াশিংটন। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিজের বলয়ে টানতে শুরু করেছে চীন। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি ও উত্তর মেরু ইস্যুতে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও পরে তিনি এই হুমকি থেকে সরে এসেছেন, কিন্তু ইউরোপীয় দেশগুলোর মনে আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে। আমেরিকার এই ‘অনির্ভরযোগ্য’ আচরণের মুখে আয়ারল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো এখন চীনের দিকে ঝুঁকছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এই মাসে বেইজিং সফর করেছেন। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয়। শুধু রাজনীতি নয়, সাহিত্য নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে জিনপিং যে ‘মন ভোলানো কূটনীতি’ শুরু করেছেন, তা বেশ কার্যকর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন। যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক মন্দ নয়, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতণ্ডা তাদের সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা এনেছে। স্টারমার চাইছেন ব্রিটিশ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চীনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে।

যদিও বিশ্ব রাজনীতির এই সমীকরণ চীনের অনুকূলে যাচ্ছে, তবে বেইজিং এখনই খুব বেশি উল্লাস দেখাচ্ছে না। চীনা থিঙ্কট্যাঙ্কগুলোর মতে, তারা শীতল যুদ্ধপরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল। তাই এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে তারা সতর্ক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা যখন তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের ওপর খবরদারি করছে, তখন চীন নিজেকে একজন ‘স্থিতিশীল অংশীদার’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করছে।