ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ভারতের চেয়ে কম শুল্ক আরোপ, রপ্তানিতে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৮ বার

ভারতের তুলনায় কম শুল্ক আরো হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ শুল্ক কাঠামোতে ভারত ও চীনকে বড় আকারে শুল্কের আওতায় আনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সামনে রপ্তানির নতুন জানালা খুলেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, হস্তশিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য মার্কিন বাজার হতে পারে আরও বিস্তৃত ও লাভজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় জানানো হয়, ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও ব্রিকস জোটে সক্রিয় ভূমিকার জন্যও ভারতকে ‘অপ্রীতিকর ফল’ ভোগ করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এ ঘটনাকে ভারতের জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মোদি সরকার দেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ধ্বংস করেছে।

দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি কৌশলগত বাণিজ্য কূটনীতি ও মার্কিন বাজারের চাহিদা বুঝে এগোতে পারে, তবে ভারতের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারে রপ্তানিকারকরা। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শুল্কনীতির প্রতিটি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আগাতে হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘আজ আমরা সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এড়াতে সফল হয়েছি। এটা আমাদের পোশাক খাত ও এ খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের জন্য সুসংবাদ।’

বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলও একই কথা বলেন। তার ভাষায়, এ সিদ্ধান্ত অনেকাংশেই বাংলাদেশের জন্য খুশির খবর। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বাজার হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় প্রথমে ভারতকে সেই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের চেয়ে ভারতের ওপর বেশি শুল্ক নির্ধারণ হয়েছে—২৫ শতাংশ। অর্থাৎ, মার্কিন ক্রেতারা এখন বাংলাদেশকেই চীনের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।

এদিকে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, অন্যান্য দেশের মধ্যে পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, ব্রাজিলের ওপর ১০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ

ভারতের চেয়ে কম শুল্ক আরোপ, রপ্তানিতে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১০:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

ভারতের তুলনায় কম শুল্ক আরো হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটনের সর্বশেষ শুল্ক কাঠামোতে ভারত ও চীনকে বড় আকারে শুল্কের আওতায় আনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সামনে রপ্তানির নতুন জানালা খুলেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, হস্তশিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য মার্কিন বাজার হতে পারে আরও বিস্তৃত ও লাভজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় জানানো হয়, ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও ব্রিকস জোটে সক্রিয় ভূমিকার জন্যও ভারতকে ‘অপ্রীতিকর ফল’ ভোগ করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এ ঘটনাকে ভারতের জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মোদি সরকার দেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ধ্বংস করেছে।

দেশের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি কৌশলগত বাণিজ্য কূটনীতি ও মার্কিন বাজারের চাহিদা বুঝে এগোতে পারে, তবে ভারতের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারে রপ্তানিকারকরা। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও শুল্কনীতির প্রতিটি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আগাতে হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘আজ আমরা সম্ভাব্য ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এড়াতে সফল হয়েছি। এটা আমাদের পোশাক খাত ও এ খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের জন্য সুসংবাদ।’

বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলও একই কথা বলেন। তার ভাষায়, এ সিদ্ধান্ত অনেকাংশেই বাংলাদেশের জন্য খুশির খবর। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বাজার হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় প্রথমে ভারতকে সেই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের চেয়ে ভারতের ওপর বেশি শুল্ক নির্ধারণ হয়েছে—২৫ শতাংশ। অর্থাৎ, মার্কিন ক্রেতারা এখন বাংলাদেশকেই চীনের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।

এদিকে হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, অন্যান্য দেশের মধ্যে পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, ব্রাজিলের ওপর ১০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।