ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এমন বক্তব্য ইসলামবিরোধী’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০১৬
  • ৪০৫ বার

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী। তিনি বলেন, এমন ধরনের মন্তব্য ইসলাম ও যুক্তিবিরোধী।

হিন্দু ধর্মানুসারীরাও এ ধরনের বক্তব্য স্বীকার করে না। যদি করতো, তাহলে ভারতীয় মুসলমানদের পবিত্র কোরবানির উৎসবে হিন্দুরা হিংসাত্মক আক্রমণ ও বাধা দিতো না। গরু কোরবানির হালাল কাজে বাধা দিয়ে মুসলমানদেরকে হত্যা করতো না। তিনি বলেন, গরু জবাই করা ও গরুর মাংস খাওয়া হিন্দুশাস্ত্রে নিষিদ্ধ থাকলেও ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।

তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলমানদের এই ধর্মীয় অধিকারে কেন বাধা দেয়া হচ্ছে? অপরদিকে মূর্তিপূজা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, অথচ হিন্দুধর্মে এটাই উপাসনা ও পুণ্যের কাজ। কিন্তু মুসলমানরা তো ইসলামে নিষিদ্ধ মূর্তি পূজায় হিন্দুদেরকে কখনোই বাধা দেয়ার দাবি বা আওয়াজ তুলেনি। গতকাল এক বিবৃতিতে হেফাজত আমীর এসব কথা বলেন। আল্লামা শফী বলেন, হিন্দু সমপ্রদায়ের দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ৬ই অক্টোবর সংবাদপত্রে প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন।

দেশের সকল নাগরিকের সরকার প্রধান হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দেয়ার সঙ্গে আমাদের দ্বিমত নেই। তাছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্বিঘ্ন পূজার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবেন, সেটাও যৌক্তিক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পূজার বাণীর একটা অংশে বলেছেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সমপ্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, আমার প্রত্যাশা, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার্থ- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করবো।

আল্লামা শফী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর

এই বক্তব্য ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত ও আপত্তিকর। এই বক্তব্য বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানকে আহত করেছে। এমনকি ইসলামের প্রতি আনুগত্যশীল একজন মুসলিম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পর্যায়েও এরূপ বক্তব্য রাখার কোনোই সুযোগ নেই। অথচ আমরা শুনে থাকি, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ আদায় করে থাকেন।

তিনি বলেন, এটা সকলেরই স্মরণ রাখা দরকার, ঈদ বা পূজা জাতীয় বা সামাজিক কোনো রীতি বা অনুষ্ঠান নয়, এটা একেবারেই ধর্মীয় উৎসব। সুতরাং ধর্মীয় যে কোনো আয়োজন-উৎসবে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরই স্বাতন্ত্র্যবোধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটি বিষয় মুসলমানদের জেনে রাখা জরুরি যে, অমুসলিমদের প্রতি ইনসাফভিত্তিক নাগরিক আচরণ ও সমপ্রীতিপূর্ণ মনোভাব রাখা ইসলামের শিক্ষা।

অমুসলিমদেরকে সব ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতা করা যাবে। এতে ইসলাম কোনোরূপ বাধা দেয় না। কিন্তু তাদের ধর্মীয় উপাসনা, পূজা বা আরাধনায় যে কোনোরূপ অংশ নেয়া মুসলমানের জন্য অবশ্যই হারাম। নিজে পূজা করা যাবে না, প্রতিমা তৈরিতে ব্যক্তিগত অর্থ সাহায্য করা যাবে না, উপাসনায় দৈহিক, মানসিক, আর্থিক কোনো ধরনের সহায়তা দেয়া যাবে না।

যদি কোনো মুসলমান ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমুসলিমদের পূজা অর্চনায় শরিক হয়, পূজা অনুষ্ঠান উপভোগ করে, দেবীর কাছে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে, দেবীর বিভিন্ন গুণকীর্তন করে, তাহলে সে কোনোভাবেই আর মুসলমান থাকে না। তিনি বলেন, মুসলমানগণ পরস্পরের প্রতি ভাইয়ের মতো আচরণ করবে। ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগী ও ধর্মীয় আচার-আয়োজনের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রেখে ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আচরণের প্রশ্নে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ না করে বরং সহনশীল ও সহিষ্ণু আচরণ করবে।

মুসলিম দেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগণ অবশ্যই নাগরিক ও সামাজিক সকল সুবিধা ভোগ করবেন। আল্লামা শফী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ইদানীং সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়সহ কিছু কিছু মহল থেকে এমন স্লোগান তোলা হচ্ছে যে, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। এটা কুফরী উক্তি। তিনি বলেন, মূলত এমন স্লোগান তোলাটা মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

তিনি বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাস বাদ, ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠাসহ বিজাতীয় ভোগবাদী, নগ্নপনা ও বেহায়াপনার সংস্কৃতিকে অবাধ করে দেয়ার পাশাপাশি নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে এদেশের মুসলমানদেরকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনাবোধ বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। দেখা যাবে, মুসলমান একদিকে নামাজ পড়ছেন, দাড়ি-টুপি ও হিজাব পরছেন।

আবার দাড়ি-টুপি ও হিজাব নিয়েই নাচ-গান ও পূজায় শরিক হওয়াসহ নানা অনৈসলামিক কাজেও নিঃসংকোচে শামিল হচ্ছেন। অথচ কয়েক বছর আগেও সাধারণ-নাটক সিনেমা দেখার সময়ও ধর্মভীরু মানসিকতার ফলে মাথায় টুপি থাকলে সেটা খুলে রাখতে বা হিজাবহীন এমন মুসলিম নারীকেও আজানের আওয়াজ শুনলে বা কোনো ধার্মিক পুরুষ মানুষ সামনে পড়লে মাথায় ওড়না টেনে দিতে দেখা যেত। এখন স্বাভাবিকভাবে এমন ধর্মভীরুতা দেখা যায় না। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কুফল এভাবেই মনের অজান্তেই মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এমন বক্তব্য ইসলামবিরোধী’

আপডেট টাইম : ১১:৩২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০১৬

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ্‌ আহমদ শফী। তিনি বলেন, এমন ধরনের মন্তব্য ইসলাম ও যুক্তিবিরোধী।

হিন্দু ধর্মানুসারীরাও এ ধরনের বক্তব্য স্বীকার করে না। যদি করতো, তাহলে ভারতীয় মুসলমানদের পবিত্র কোরবানির উৎসবে হিন্দুরা হিংসাত্মক আক্রমণ ও বাধা দিতো না। গরু কোরবানির হালাল কাজে বাধা দিয়ে মুসলমানদেরকে হত্যা করতো না। তিনি বলেন, গরু জবাই করা ও গরুর মাংস খাওয়া হিন্দুশাস্ত্রে নিষিদ্ধ থাকলেও ইসলামে নিষিদ্ধ নয়।

তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলমানদের এই ধর্মীয় অধিকারে কেন বাধা দেয়া হচ্ছে? অপরদিকে মূর্তিপূজা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, অথচ হিন্দুধর্মে এটাই উপাসনা ও পুণ্যের কাজ। কিন্তু মুসলমানরা তো ইসলামে নিষিদ্ধ মূর্তি পূজায় হিন্দুদেরকে কখনোই বাধা দেয়ার দাবি বা আওয়াজ তুলেনি। গতকাল এক বিবৃতিতে হেফাজত আমীর এসব কথা বলেন। আল্লামা শফী বলেন, হিন্দু সমপ্রদায়ের দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ৬ই অক্টোবর সংবাদপত্রে প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন।

দেশের সকল নাগরিকের সরকার প্রধান হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দেয়ার সঙ্গে আমাদের দ্বিমত নেই। তাছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্বিঘ্ন পূজার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবেন, সেটাও যৌক্তিক। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পূজার বাণীর একটা অংশে বলেছেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সমপ্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, আমার প্রত্যাশা, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার্থ- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করবো।

আল্লামা শফী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর

এই বক্তব্য ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত ও আপত্তিকর। এই বক্তব্য বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানকে আহত করেছে। এমনকি ইসলামের প্রতি আনুগত্যশীল একজন মুসলিম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পর্যায়েও এরূপ বক্তব্য রাখার কোনোই সুযোগ নেই। অথচ আমরা শুনে থাকি, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ আদায় করে থাকেন।

তিনি বলেন, এটা সকলেরই স্মরণ রাখা দরকার, ঈদ বা পূজা জাতীয় বা সামাজিক কোনো রীতি বা অনুষ্ঠান নয়, এটা একেবারেই ধর্মীয় উৎসব। সুতরাং ধর্মীয় যে কোনো আয়োজন-উৎসবে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরই স্বাতন্ত্র্যবোধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটি বিষয় মুসলমানদের জেনে রাখা জরুরি যে, অমুসলিমদের প্রতি ইনসাফভিত্তিক নাগরিক আচরণ ও সমপ্রীতিপূর্ণ মনোভাব রাখা ইসলামের শিক্ষা।

অমুসলিমদেরকে সব ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতা করা যাবে। এতে ইসলাম কোনোরূপ বাধা দেয় না। কিন্তু তাদের ধর্মীয় উপাসনা, পূজা বা আরাধনায় যে কোনোরূপ অংশ নেয়া মুসলমানের জন্য অবশ্যই হারাম। নিজে পূজা করা যাবে না, প্রতিমা তৈরিতে ব্যক্তিগত অর্থ সাহায্য করা যাবে না, উপাসনায় দৈহিক, মানসিক, আর্থিক কোনো ধরনের সহায়তা দেয়া যাবে না।

যদি কোনো মুসলমান ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমুসলিমদের পূজা অর্চনায় শরিক হয়, পূজা অনুষ্ঠান উপভোগ করে, দেবীর কাছে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে, দেবীর বিভিন্ন গুণকীর্তন করে, তাহলে সে কোনোভাবেই আর মুসলমান থাকে না। তিনি বলেন, মুসলমানগণ পরস্পরের প্রতি ভাইয়ের মতো আচরণ করবে। ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগী ও ধর্মীয় আচার-আয়োজনের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রেখে ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আচরণের প্রশ্নে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ না করে বরং সহনশীল ও সহিষ্ণু আচরণ করবে।

মুসলিম দেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগণ অবশ্যই নাগরিক ও সামাজিক সকল সুবিধা ভোগ করবেন। আল্লামা শফী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ইদানীং সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়সহ কিছু কিছু মহল থেকে এমন স্লোগান তোলা হচ্ছে যে, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। এটা কুফরী উক্তি। তিনি বলেন, মূলত এমন স্লোগান তোলাটা মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

তিনি বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাস বাদ, ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠাসহ বিজাতীয় ভোগবাদী, নগ্নপনা ও বেহায়াপনার সংস্কৃতিকে অবাধ করে দেয়ার পাশাপাশি নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে এদেশের মুসলমানদেরকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনাবোধ বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। দেখা যাবে, মুসলমান একদিকে নামাজ পড়ছেন, দাড়ি-টুপি ও হিজাব পরছেন।

আবার দাড়ি-টুপি ও হিজাব নিয়েই নাচ-গান ও পূজায় শরিক হওয়াসহ নানা অনৈসলামিক কাজেও নিঃসংকোচে শামিল হচ্ছেন। অথচ কয়েক বছর আগেও সাধারণ-নাটক সিনেমা দেখার সময়ও ধর্মভীরু মানসিকতার ফলে মাথায় টুপি থাকলে সেটা খুলে রাখতে বা হিজাবহীন এমন মুসলিম নারীকেও আজানের আওয়াজ শুনলে বা কোনো ধার্মিক পুরুষ মানুষ সামনে পড়লে মাথায় ওড়না টেনে দিতে দেখা যেত। এখন স্বাভাবিকভাবে এমন ধর্মভীরুতা দেখা যায় না। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কুফল এভাবেই মনের অজান্তেই মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।