,

সারা দেশে কল কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। কলকারখানার চাকা বন্ধ হয়ে যায়, হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যববস্থা ভেঙে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকটি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সিরাজগঞ্জের তাঁত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। মানুষের জন্য মোমবাতির আলোই ছিল শেষ ভরসা। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় মোমবাতির সংকটও দেখা দেয়। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের চার্জ চলে গিয়ে অনেকেরই মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। নেটওয়ার্কও পাওয়া যাচ্ছিল না। বিদ্যুতের এমন বিপর্যয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামেও সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার বেলা ২টায় এই দুর্ভোগ শুরু হয়। প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কোথাও বিদ্যুৎ ছিল না। এর মধ্যে কেউ কেউ জেনারেটর কিংবা আইপিএসে ঘণ্টাখানেক বিকল্প উপায়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটায়। জেনারেটরের তেল কিংবা আইপিএস ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে পুরো নগরী। পূর্ব ঘোষণা না থাকায় নানা ধরনের সমস্যায় পড়ে নগরবাসী। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তর জেনারেটরের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কথা জানতে পেরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতালে ১১৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী জেনারেটর রয়েছে। দুপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমরা জেনারেটরের মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম সচল রেখেছি।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান বলেন, জেনারেটর দিয়ে সব ধরনের কাজ সারতে হয়েছে আমাদের। তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি।

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : আশুগঞ্জে বন্ধ হওয়া ইউনিটগুলো হলো ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নর্থ ইউনিট, ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাউথ ইউনিট, ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ইঞ্জিন ইউনিট, ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪নং ইউনিট ও ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫নং ইউনিট। এতে জাতীয় গ্রিডে ১৪৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এমএম সাজ্জাদুর রহমান বলেন, দুপুর ২টা ০৫ মিনিটে ব্লাক আউটের কারণে চালু করা ইউনিটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমাদের কোনো ত্রুটি ছিল না। কবে নাগাদ বন্ধ ইউনিটগুলো চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।

বেলকুচি-চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের বেলকুচি-চৌহালী ও এনায়েতপুরের বিভিন্ন এলাকা মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে জেলার তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।

জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার তাঁত রয়েছে। আর এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিক ও শ্রমিক মিলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ জড়িত। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। বেলকুচি উপজেলার চন্দনগাঁতি সাহপাড়া গ্রামের তাঁত শ্রমিক মজিদ বলেন, কারেন্ট না থাকায় দিন মিলে দুটি শাড়ি বোনাতে পাড়িনি।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জে বেলা ২টায় প্রথম দফায় বিদ্যুৎ চলে যায়। মাঝে কিছু সময়ের জন্য এলেও আবার ৫টায় চলে যায়। পরে ৬টায় বিদ্যুৎ আসে। সোয়া ৭টায় পুনরায় চলে যায়। দেওয়া হয় সাড়ে ৭টায়। এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়।

কক্সবাজার : কক্সবাজার জেলার কোথাও কোথাও মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বিদ্যুৎ চলে যায়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা মিলেনি।

মানিকগঞ্জ : সোয়া তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মানিকগঞ্জ শহরে সন্ধ্যায় ৭টায় বিদ্যুৎ আসে। পরে আবার চলে যায়।

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) : মুক্তাগাছায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। লাঙ্গুলীয়া উত্তর পাড়া তরুণ সংঘের সহকোষাধ্যক্ষ? নকুল কুমার চন্দ্র পাপ্পু যুগান্তরকে বলেন, পূজার সময় বিদ্যুৎ না থাকাটা সত্যিই অপ্রত্যাশিত।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : গৌরীপুরের আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কারণে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

শ্রীমঙ্গল ( মৌলভীবাজার) : শ্রীমঙ্গলে মঙ্গলবার ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।

সোনাগাজী (ফেনী) : সোনাগাজী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম সনৎ কুমার ঘোষ বলেন, দুপুর থেকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ আসে।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ভালুকায় দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে ভালুকায় অবস্থিত আড়াই শতাধিক শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে স্পিনিং মিলগুলোতে বেশি সমস্যা সম্মুখীন হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি ভ্যাপসা গরমে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মালিকরা চরম বিপাকে পড়েছে। সাড়ে ৬টার পর ভালুকা সদরে বিদ্যুৎ আসে।

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) : ফুলপুরে দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিল। বিকাল ৫টা থেকে পর্যায়ক্রমে উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

এছাড়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, ভোলার চরফ্যাশন, খাগড়াছড়ির রামগড়, কুমিল্লার তিতাস, ময়মনসিংহের নান্দাইল, লক্ষ্মীপুর, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, ঝিনাইদহ, সিলেটের জকিগঞ্জ ও গাজীপুরের কাপাসিয়া প্রতিনিধি দুর্ভোগের খবর পাঠিয়েছেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর