,

1658594624_27

রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফল ভোগ করছে সবাই : প্রধানমন্ত্রী

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রশাসনে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি মনে করি আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রত্যেকে স্ব স্ব অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল শনিবার রাজধানী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক ২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর দেয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ফল সারা বিশ্ব ভোগ করছে। বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার পর আরেকটা আঘাত ইউক্রেন যুদ্ধ। এরপর আসে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা। সুইফট বন্ধ করে দেয়া। এর ফলে শুধু আমরাই না অনেক উন্নত দেশ ভুক্তভোগী। আমাদের খাদ্য-জ্বালানি কেনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু আমরা না সবাই দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছে। একজনকে শিক্ষা দিতে দেয়া নিষেধাজ্ঞায় সবাই এখন সে শিক্ষা ভোগ করছে। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দেশেই শুধু মূল্যস্ফীতি নয়, সব উন্নত দেশগুলোতেই বেড়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধু আমরা করছি না, উন্নত দেশগুলোও করছে।

কঠিন এ পরিস্থিতিতে হতাশ না হতে সরকারি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সাশ্রয়ী ও মিতব্যায়ী হতে হবে। যার যা বলার বলে যাক। আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে আমরা সঠিক পথে আছি কি না। কে কি বলল, বেশি নজর দিতে হবে না।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পুরো বিশ্বই একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। এটা হলো বাস্তবতা। আমি মনে করি, কেউ যদি মনে করেন স্যাংশন দিলেই একটা দেশকে শিক্ষা দেওয়া গেল, সেটা দিতে যেয়ে সবাই; কিন্তু সেই শিক্ষা ভোগ করছে। সেই শিক্ষায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দেশে যেমন মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, উন্নত দেশগুলোতে অনেক বেশি মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা শুধু আমরা বলছি না, উন্নত দেশগুলো সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে যে বিদ্যুৎ সাশ্রয় তাদের করতে হবে। আমি উন্নত দেশগুলোর কথাই বেশি বলব, আমরা তো অনেক দূরে রয়ে গেছি। তাদের অবস্থাই এই ধরনের করুণ। সেখানে আমরা কোথায়! তার পরেও আমি মনে করি, আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রত্যেকে স্ব স্ব অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই; কিন্তু আমরা অনেক দেশের থেকে ভালো অবস্থানে এগিয়ে যাচ্ছি। তবুও ভবিষ্যত চিন্তা করে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। অহেতুক যেন অপচয় না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমি জানি, এ ক্ষেত্রে আমাদের হয়তো পত্র-পত্রিকা নানা কথা লিখবে, টক শোতে অনেক কথা বলবে। বিরোধী দলরা কথা বলবে। বিরোধী দলরা বলবেই, বলাই তাদের কর্তব্য; তারা বলে যাক। আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে আমরা সঠিক পথে আছি কি না, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি কি না, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি কি না এবং দেশের সাধারণ মানুষ গ্রামের তৃণমূল মানুষটা সেবা পাচ্ছে কি না। আমরা যদি সেভাবে চিন্তা করি, কে, কী বলল সেদিকে আমাদের খুব বেশি নজর দিতে হবে না। কে কী বলল, সেটা শুনে হয়তো আমরা দেখতে পারি আমাদের কোনো ঘাটতি আছে কি না। সেটুকু আমরা নেব; কিন্তু ওই কথায় যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন, নিজেরা যেন হতাশ না হন। কেউ হতাশাগ্রস্ত যেন না হয়ে পড়েন আমি সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে বলব। হতাশ হওয়ার মতো কিছু নেই। যখন যে অবস্থা হবে, সে অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তারপরও আমাদের যতটুকু নিজেদের ব্যবস্থা আছে সেটা নিয়েই আমরা চলব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রশাসনে যারা দায়িত্বরত যারা জনগণের সেবা দেবেন তাদের যেসব সমস্যাগুলো আগে ছিল সেগুলো দূর করতে আমরা বিশেষভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। সংসারের চিন্তা অনেকটা লাঘব করে দিয়ে জনগণের চিন্তা যাতে করতে পারে, সেই সুযোগটা যাতে সৃষ্টি হয় সেই ব্যবস্থাটা আমি নিয়েছি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে চাই না। কী করেছি; যাদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করাব তারা যেন মন-প্রাণ ঢেলে জনগণের সেবা করতে পারে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল আর সেভাবেই চেষ্টা করে গেছি।

প্রত্যেকটা কাজে জবাবদিহিতা থাকা উচিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্ম সম্পাদন চুক্তির যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে আমি মনে করি, আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সেগুলো বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে।
পদক পেলেন ৩১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান : ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ পেয়েছেন ৩১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে রয়েছে প্রশাসনের ২৭ জন কর্মকর্তা ও ৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসব পদক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

এবার ‘সাধারণ প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা’য় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তি দর্শন বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের ধারণা বাস্তবে রূপায়ণ করে ‘উন্নয়ন প্রশাসনে’ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে। ভূমি তথ্য ব্যাংকের জন্য ‘সংস্কার’ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পদক পেয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ‘মানব উন্নয়ন’ ক্ষেত্রে দলগতভাবে পদক পেয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, বাগেরহাট মোল্লারহাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াহিদ হোসেন, মোল্লারহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল ও মোল্লারহাটের উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. কামাল হোসেন। ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন’ ক্ষেত্রে পদক পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব কাজী মো. আব্দুর রহমান (নেত্রকোনার সাবেক জেলা প্রশাসক), নেত্রকোনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক উপ-পরিচালক (বর্তমানে পিআরএল ভোগরত), নেত্রকোনা খালিয়াজুরির উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম, খালিয়াজুরির সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) (বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে যোগ দেওয়া) নাহিদ হাসান খান ও নেত্রকোনার মদনের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাবিবুর রহমান। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এ এইচ এম আব্দুর রকিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদ নজরুল চৌধুরী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকিউল ইসলাম ‘দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা’য় পদক পেয়েছেন। মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন, গোপালগঞ্জের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আজহারুল ইসলাম (মাদারীপুরের স্থানীয় সরকারের সাবেক উপ-পরিচালক), মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঝোটন চন্দ, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ-আবু-জাহের দলগতভাবে ‘অপরাধ প্রতিরোধ’ ক্ষেত্রে পদক পেয়েছেন। ‘জনসেবায় উদ্ভাবন’ ক্ষেত্রে দলগতভাবে পদক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, ঢাকার জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম ও সুরক্ষা ডেভেলপার ইউনিট। ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ খাতে পদক পেয়েছেন কুমিল্লার ডিসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমা আশরাফী, সহকারী কমিশনার ফাহিমা বিনতে আখতার ও নাসরিন সুলতানা নিপা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর