,

মৈত্রী-এক্সপ্রেস

২ বছর পর ফের চালু ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনা মহামারির প্রকোপে বন্ধ হয়ে যাওয়া মৈত্রী এক্সপ্রেস দুই বছর পর ফের চালু হয়েছে। ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক রেলপথে রোববার (২৯ মে) মৈত্রী এক্সপ্রেস সকাল 8টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে।
এর উদ্বোধন করেন রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার।
এদিন একইসঙ্গে খুলনা-কলকাতা রুটে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ চলাচল শুরু করেছে।

এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার, যুগ্ম মহাপরিচালক সালাউদ্দিন, ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তা শফিকুর রহমান ও স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র উপস্থিত ছিলেন।

স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র  বলেন, যথাসময়ে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। যাত্রীরা আগের মতোই নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রা করতে পারবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী জানান, ২৭ মাস বন্ধ থাকার পর ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং একইদিন খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চলাচল শুরু হলো।

এদিকে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রথম পছন্দ ট্রেন ভ্রমণ। দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চালু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, বাসযাত্রায় ভোগান্তি অনেক আর বিমানে তো বেশি খরচ হয়। তাই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম বলতেই আমার প্রথম পছন্দ ট্রেন।

এ উপলক্ষে ২৩ মে (সোমবার) থেকে কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে আন্তর্জাতিক ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এছাড়া রেলপথের ভিসাও দেওয়া হচ্ছে। করোনার মহামারির কারণে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয় ২০২০ সালের ২৪ মার্চ থেকে। এ সময়ে দুই দেশের মধ্যে সড়ক ও আকাশপথে যাত্রী ভ্রমণ থাকলেও রেলপথে ছিল না। এতে চরম বিপাকে পড়ে উভয় দেশের সাধারণ মানুষ, যাদের অধিকাংশই ট্রেনে ভ্রমণ করতেন।

ঢাকা-কলকাতার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে। বন্ধ হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহের সব দিনই এই ট্রেন চলাচল করত। অপরদিকে খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস চালু হয় ২০১৭ সালে। বাংলাদেশ থেকে বৃহস্পতিবার ও রোববার দুই দিন এই ট্রেন ছেড়ে যাবে। ভারত থেকে আসবে দুই দিন। রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর ২০২০ সালের ২৪ মার্চ থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রেলওয়ে অপারেশন দপ্তর জানায়, মিতালী এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত এসি বার্থের ভাড়া হবে ৪ হাজার ৯০৫ টাকা। এসি সিটের ভাড়া ৩ হাজার ৮০৫ টাকা। আর এসি চেয়ারের ভাড়া ২ হাজার ৭০৫ টাকা।

২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিলে উভয় দেশে চলাচল শুরু করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। এর মাধ্যমে ৪৩ বছর পর দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর। খুলনা-কলকাতা রেলপথের দূরত্ব ১৭২ কিলোমিটার। এ রুটের যাত্রীপ্রতি ট্রেন ভাড়া ট্রাভেল ট্যাক্সসহ (৫০০ টাকা) এসি সিট দুই হাজার পাঁচ টাকা ও এসি চেয়ার এক হাজার ৫০৫ টাকা।

ঢাকা-কলকাতার দূরত্ব ৩৭৫ কিলোমিটার। এ রুটের যাত্রীপ্রতি ট্রেন ভাড়া ট্রাভেল ট্যাক্সসহ (৫০০ টাকা) এসি সিট তিন হাজার ৫০৫ টাকা ও এসি চেয়ার দুই হাজার ৫০৫ টাকা। উভয় দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ থাকলেও করোনাকালে বাংলাদেশ-ভারতে রেলপথে পণ্য পরিবহন করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে রেলপথে পণ্য আমদানি হয় ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন। এর আগের (২০১৯-২০) অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর