,

image-121537-1591426133

অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের ঢলে জকিগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত, ডাইক ভেঙ্গেছে সুরমার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অব্যাহত বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জে। পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো বাসিন্দা। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থনাীয় বারহাল, মানিকপুর, কাজলসার ইউপিসহ বিভিন্ন এলাকায় সুরমা কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে ও উপচিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে নদীর পানি। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ যোগাযোগ রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বীজতলা। মাছ চাষের শতাধিক পুকুর ও ফিসারী ভেসে গেছে পানিতে। পানি নিস্কাশনে কার্যকর অভাবে তলিয়ে গেছে জকিগঞ্জের প্রধান ডাকঘর, প্রাণী সম্পদ অফিস, স্থলশুল্ক স্টেশন, জকিগঞ্জ ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের একাংশ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। এতে বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

বারহাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম, উত্তর কিলোগ্রাম, চকবারাকুলি, শরীফাবাদ, শাহগলী বাজার ও কচুয়া এলাকায় সুরমা ডাইক ভেঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে, তলিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার হেক্টর বোরো ধান। বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বীরশ্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার বলেন, সুপ্রাকান্দি ও বড়চালিয়া গ্রামের বেঁড়ীবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও মানিকপুর ইউনিয়নের বাল্লার বেড়িবাঁধটি এখনো নিরাপদ থাকলেও রঘুরচক-আকাশমল্লিক এলাকা দিয়েও সুরমানদীর পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে।

কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলকারনাইন লস্কর জানান বড়বন্দ গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলো তলিয়ে যায়। হাওরের পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জকিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঝুঁকিপূর্ণ ও ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন।
জকিগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পল্লব হোম দাস জানান, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধে নেয়া হচ্ছে জরুরী ব্যবস্থা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর