,

aW1hZ2UtMTM2MjEzLmpwZw==

আমদানিতে চিনি চাহিদা করপোরেশনের ‘না

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মাস দুয়েক পর রোজা। এসময় বাজারে চিনির চাহিদা থাকে তুঙ্গে। অথচ চিনির দাম এখনই চড়া। রোজায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনকে (বিএসএফআইসি) আমদানির সুপারিশ করেছিল শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কিন্তু এতে মোটেও আগ্রহ দেখায়নি সংস্থাটি। তারা বলছে, চিনি আমদানি লাভজনক হবে না। তাদের সক্ষমতাও নেই।

এ বিষয়ে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান বলেন, এর আগে দু’দফা চিনি এনে প্রচুর লোকসান গুনেছে বিএসএফআইসি। ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে এখন চিনি আমদানি করতে খরচ হবে কেজিপ্রতি ৯২ টাকার বেশি। বিক্রি করতে হবে ৭৪ টাকায়। এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। আমরা চিনি আমদানি করতে চাই না।

বর্তমানে বিএসএফআইসির চিনি আমদানির সক্ষমতাও নেই উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, চিনি আনতে চার থেকে পাঁচশ কোটি টাকা প্রয়োজন। এত টাকা আমাদের (বিএসএফআইসি) নেই। কোনো ব্যাংকও এজন্য লোন দেবে না।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, দীর্ঘসময় ধরে বিশ্ববাজারের কারণে দেশে চিনির দাম বেশি। বিষয়টি আমলে নিয়ে চিনি আমদানি করতে বলেছিল কমিটি। যাতে আগামী রোজায় বাজার অস্থিতিশীল না হয়। কিন্তু বিএসএফআইসি চিনি আমদানি করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি বিএসএফআইসি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানায়, বর্তমানেও চিনি আমদানি করার মতো আর্থিক সংস্থান নেই সংস্থাটির। আমদানি করতে হলে সরকারকে করমুক্ত চিনি আমদানির সুযোগ দিতে হবে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী ট্যাক্স, ভ্যাট, কাস্টম ডিউটিসহ প্রতি কেজি চিনির সম্ভাব্য আমদানি মূল্য ৯২ টাকা ৮০ পয়সা। কিন্তু বিএসএফআইসির চিনির বর্তমান বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ৭৪ টাকা।

আরিফুর রহমান অপু বলেন, এ পরিস্থিতিতে চিনি আমদানি করলে বিএসএফআইসি প্রচণ্ড আর্থিক চাপে পড়বে। প্রয়োজনে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে চিনি আমদানি করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, বর্তমানে চিনি আমদানির প্রয়োজন নেই বলে দাবি করছে বিএসএফআইসি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলছে, দেশে র-চিনির আমদানি বেড়েছে। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি করা চিনির পরিমাণ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ২৬৭ টন। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ টন বেশি। ওই সময়ে আমদানি করা চিনির পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯২ টন। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন মিলে বিএসএফআইসির চিনির মজুত ১৯ হাজার ৭৯৭ টন। সবমিলিয়ে চিনির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা কম।

তবে দেশের চিনিশিল্পের একমাত্র সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আর্থিক এ সক্ষমতার ঘাটতির বিষয়টি যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করেন সাবেক বাণিজ্যসচিব ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি

তিনি বলেন, চিনির বাজার স্থিতিশীল নয়। এটা আরও অস্থিতিশীল হতে পারে। এমন পর্যায়ে আমদানিতে বিএসএফআইসির অর্থসংকটের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এটি সরকারি সংস্থা, সরকার চাইলেই অর্থের সংস্থান করতে পারে। এ অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে তথ্য বলছে, একসময় লাভজনক হলেও বিগত কয়েক দশক লোকসানে চলছে বিএসএফআইসি। গত পাঁচ বছরে বিএসএফআইসির লোকসান হয়েছে তিন হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরে করপোরেশনের লোকসান হয়েছে ৯৭০ কোটি টাকা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর