,

01Risingbd_Aminul-2201190231

করোনা টিকার বিড়ম্বনায় মেরিনাররা, দেশে আসতে পারছেন না অনেকে

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমন রোধে বর্তমানে সরকারের ১১ দফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এছাড়া সরকারের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোভিড-১৯ টিকা সনদ ছাড়া বাইরের কোনো দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেন না। এসব কারণে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নাবিকরা বিরাট বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

অনেক বাংলাদেশি নাবিকই জাহাজে অবস্থান করার কারণে এখনও টিকা গ্রহণ করতে পারেননি। জাহাজে নাবিকদের অবস্থান কাল ক্ষেত্রবিশেষে ৪ থেকে ৯ মাস লেগে যায়। বিভিন্ন দেশের বন্দরে করোনা প্রতিরোধে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ কারণেও অনেকে সময়মত জাহাজ থেকে ফিরতে পারেননি। এছাড়া বাংলাদেশে মেরিনারদের করোনার টিকা প্রদান তুলনামূলক দেরিতে শুরু হয়েছিল। এসব কারণে দেশের অধিকাংশ মেরিনার করোনা টিকা নিতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে দেশের নামকরা মেরিন ম্যানিং এসেন্সি হক এন্ড সন্স এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন গোলাম মহিউদ্দিন কাদরি বলেন, ‘অনেক সীফেয়ারার যারা বর্তমানে জাহাজে আছেন, যাদের ভ্যাক্সিন দেওয়া নেই তারা কীভাবে বাড়ি ফিরবে? এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সীফেয়ারারের জন্যে ভ্যাক্সিন ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা জরুরি।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরি বলেন, ‘টিকাসনদ ছাড়া দেশে প্রবেশ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশি নাবিকদের মধ্যে বিশেষ করে বর্তমানে যারা জাহাজে কর্মরত আছেন তাদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সরকারকে বাংলাদেশি নাবিকদের এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও নাবিকদের খুব দ্রুত বুস্টার ডোজের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি।’

ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি নাবিকদের সাইন অফ সহজীকরণে এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত না রাখলে নাবিক পরিবর্তন জটিল হয়ে পড়বে। যা বাংলাদেশি নাবিকদের আন্তর্জাতিক চাকুরির বাজারে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হারাবে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি নাবিকেরা বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করে থাকেন।

এ কারণে বিদেশি শিপিং কোম্পানিগুলোর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি মেরিনার নিয়োগে আগ্রহ কমছে বলেও জানা গেছে। এর সাথে টিকা জটিলতা বেশি হলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

সামগ্রিক বিষয়ে মঙ্গল পররাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা হচ্ছে দেশের সকল জনগণকে টিকার আওতায় আনা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টিকার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন।’

তিনি বলেছেন, ‘দেশের একজন মানুষও টিকাবঞ্চিত থাকবেনা। মেরিনাররা দেশের সম্মান বাড়াচ্ছেন দেশের বাইরে, বিভিন্ন স্থানে-বিভিন্ন দেশে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের টিকা এবং দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিলতার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। তবে বিষয়টির সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগ জড়িত। তাদেরও মতামত পর্যালোচনা প্রয়োজন।’

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর