,

1

প্রসেসিং ফি ছাড়াই গ্রাহক প্রতি দুই কোটি টাকার তিন ধরণের লোন

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের আবাসন খাতে ভিন্ন ধারার তিন ঋণপণ্য নিয়ে এসেছে দেশের প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড। ‘স্বপ্ননীড়’, ‘স্বপ্নসাজ’, ‘আবাস’—এই তিনটি ঋণ প্রডাক্টের এরই মধ্যে গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে জানালেন প্রাইম ব্যাংকের কনজ্যুমার ব্যাংকিং প্রধান এ এন এম মাহফুজ। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, প্রাইম ব্যাংকের আওতাধীন ১৪৬টি শাখার মাধ্যমে ফ্ল্যাট এবং বাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘স্বপ্ননীড়’ ঋণ প্রদান করে থাকে।

তা ছাড়া, বাড়ি নির্মাণ, সম্প্রসারণ এবং সংস্কারের জন্য ‘স্বপ্ন সাজ’ ঋণ এবং একইভাবে সেমি পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য ‘আবাস’ ঋণ দেওয়া হয়। গৃহঋণে গ্রাহকদের বেশি কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে প্রাইম ব্যাংক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নির্মাণাধীন অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের ক্ষেত্রে টিপিএ-এর মাধ্যমে আবাসন ঋণের সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদি ও সর্বোচ্চ ঋণ সুবিধা, স্বল্প সময়ে ঋণ অনুমোদন এবং ছাড়করণ, ব্যক্তিগত জিম্মাদার বাধ্যতামূলক নয়, আকর্ষণীয় সুদহার, ডাক্তারদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা, সুবিধাজনক শর্তে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঋণ অগ্রিম পরিশোধের ব্যবস্থা এবং ঋণ অধিগ্রহণের জন্য কোনো প্রসেসিং ফি প্রযোজ্য নয়।

প্রাইম ব্যাংকের আবাসন ঋণের বর্তমান সীমা কত জানতে চাইলে এ এন এম মাহফুজ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের আবাসন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ব্যাংকের ক্ষেত্রে গ্রাহকপ্রতি দুই কোটি টাকা পর্যন্ত। এনবিএফআই বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে গ্রাহকপ্রতি এই সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত নেই। যার ফলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো একক গ্রাহককে যেকোনো পরিমাণের ঋণ প্রদান করতে পারে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মাথাপিছু আয় ও সম্পত্তির মূল্য উভয়ই বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে গ্রহঋণের সীমা আরো বাড়ানো যেতে পারে বলে মনে করেন প্রাইম ব্যাংকের কনজ্যুমার ব্যাংকিং প্রধান।’ আবাসন ঋণে কোন ধরনের গ্রাহককে প্রাধান্য দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত চাকরিজীবী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং মেরিনার গ্রাহককে আবাসন ঋণ প্রদান করে থাকি।’

এ এন এম মাহফুজ বলেন, প্রাইম ব্যাংক হোম লোন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড হলো গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা এবং ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে প্রদেয় সম্পত্তির আইনগত ও কাঠামোগত বৈধতা। ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের বয়স, মোট আয়, গ্রাহকের অন্যান্য সম্পদ ও দায়সক্রান্ত তথ্য, চাকরি বা ব্যবসার ধরন, স্থায়িত্ব, ধারাবাহিকতা এবং সঞ্চয় প্রবণতা বিবেচনা করা হয়।

ঋণের সুদহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রাইম ব্যাংক বিদ্যমান অনেক ব্যাংকের সুদের হারের তুলনায় কম এবং সর্বনিম্ন মার্জিনে ঋণ প্রদান করে থাকে। আবাসন ঋণের রেট অফ ইন্টারেস্ট ট্রেন্ড অ্যানালিসিস করলে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে সুদের হার ছিল গড়পড়তা ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানভেদে গড়পড়তা সুদের হার ৯ থেকে ১৪ শতাংশ হারে ঋণ প্রদান করে থাকে।

সুতরাং আমরা বলতে পারি আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য কনজ্যুমার ও এসএমই লোনের তুলনায় নিম্নগামী।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রাইম ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো নির্দেশনা পরিপালনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে থাকি। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত সুদের হারের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে তা পরিপালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।’

প্রাইম ব্যাংকের আবাসন ঋণের আদায় কেমন জানতে চাইলে এ এন এম মাহফুজ বলেন, ‘আবাসন ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী আমাদের আদায়ের হার প্রায় ৯৫%। আবাসন ঋণের আদায়ের হার ক্রমান্বয়ে বর্ধিত করায় আমরা সর্বদা সচেষ্ট আছি। বর্তমানে আবাসন ঋণের কাগজপত্র ব্যাংকের ক্রেডিট রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট নির্দেশনাবলি আনুযায়ী নির্ধারিত হয়, যা ঋণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরো সুবিন্যস্ত ও সহজতর করছে।’

তিনি বলেন, ‘আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে কিছু প্রচলিত ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভূমি প্রশাসন কাঠামো, দুর্বল আইনি অবকাঠামো, অভিজ্ঞ লিগাল অ্যাডভাইজার এবং আইনগত তথ্যাদি যাচাইয়ের অপ্রতুলতা। ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি, নিবন্ধন পদ্ধতির খরচ এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর পাশাপাশি সুবিন্যস্ত তথ্যভাণ্ডারের অভাব।

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে গ্রাহকের আয়ক্ষমতা না থাকলে এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো লস অফ এমপ্লয়মেন্ট ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা নেই। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্থায়ী অর্থনৈতিক অক্ষমতা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে গ্রাহকের মৃত্যু হলে এ ক্ষেত্রে আমরা লোন প্রটেকশন ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা করে থাকি। কিন্তু লোন প্রটেকশন ইনস্যুরেন্সের ব্যাপারে এখনো স্পষ্ট নীতিমালা নেই।’ খবর: কালের কন্ঠ।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর