ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২০
  • ২৯১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চার মাসের বেশি সময় ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম নতুন করে আরও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ এক কেজি কাঁচামরিচের দাম পড়ছে ৩২০ টাকা। অবশ্য আধা কেজি বা এক কেজি নিলে দাম কিছুটা কম পড়ছে। ভালোমানের আধা কেজি কাঁচামরিচ ১৫০ টাকা এবং এক কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন কিছু কিছু ব্যবসায়ী।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর এবং খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

নতুন করে কাঁচামরিচের দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যায় কাঁচামরিচের খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যে কারণে জুলাই মাস থেকেই কাঁচামরিচের দাম চড়া। এখন বৃষ্টি কাঁচামরিচের খেতের আরেক দফা ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে দাম নতুন করে বেড়ে গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের কাঁচামরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আর নিম্ন মানের (কিছু অংশ পচা অথবা বেশিরভাগ লাল হয়ে যাওয়া) কাঁচামরিচের পোয়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

শান্তিনগর বাজারে ৮০ টাকা পোয়া কাঁচামরিচ বিক্রি করা মো. জুয়েল বলেন, আড়তে ফ্রেশ মরিচ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। বেশিরভাগ মরিচের বোটা পচা। কয়েকদিন ধরে এই অবস্থা। এ কারণেই মরিচের দাম বাড়তি। তিনি বলেন, গত শুক্রবার যে দামে মরিচ কিনেছিলাম, আজ কেজিতে তার থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। এই ৮০ টাকা পোয়া বিক্রি করলে লাভ তেমন হবে না। সকালে প্রথমদিকে কেউ কেউ কাঁচামরিচের পোয়া ১০০ টাকাও বিক্রি করেছে।

খিলগাঁও তালতলায় ৮০ টাকা পোয়া কাঁচামরিচ বিক্রি করা নুরুন্নবী মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে এক পোয়া কাঁচামরিচ ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ যে দামে কিনতে হয়েছে তাতে ৮০ টাকার নিচে পোয়া বিক্রি করা সম্ভব না। তবে আধা কেজি নিলে ১৫০ টাকা এবং এক কেজি নিলে ৩০০ টাকা রাখা যাবে।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌ-বাজারে ভালো-নষ্ট মিশিয়ে কাঁচামরিচের পোয়া ৬০ টাকা বিক্রি করা আশরাফ আলী বলেন, দুদিন ধরে কাঁচামরিচের দাম বেশি। বুধবারও এক পোয়া কাঁচামরিচ ৪০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু গতকাল থেকে ৬০ টাকা পোয়া বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ এ মরিচের মান আগের মরিচের থেকে খারাপ। তিনি বলেন, দাম বেশি হওয়ায় পরও আড়তে ঠিকমতো কাঁচামরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। আড়ত থেকে মরিচ বেছে নেওয়ারও সুযোগ নেই। একপাল্লা মরিচে প্রায় আধা কেজি পচা গলা থাকছে। আড়ত থেকে আনার পর এসব মরিচ বেছে ফেলে দিতে হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান সরদার বলেন, কাঁচামরিচের খেত সব শেষ। বন্যায় কাঁচামরিচের গাছ পচে যাওয়ার পর এখন বৃষ্টিতে আবার কাঁচামরিচের খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মূলত এ কারণেই কাঁচামরিচের দাম বেশি। আড়তে আসার আগেই ট্রাকে অনেক মরিচ পচে যাচ্ছে। খেত থেকেও তেমন মরিচ উঠছে না। এরপরও বাজারে কাঁচামরিচ পাওয়া যাচ্ছে এটাই বড় কথা। আমাদের ধারণা সামনে কাঁচামরিচের দাম আরও বাড়বে।

কারওয়ানবাজার থেকে কাঁচামরিচ কেনা লিটন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে এখান থেকে বাজার করি। এলাকার বাজার থেকে এখানে কম দামে কেনা যায়। আজ মরিচের দাম শুনতেই ব্যবসায়ী বলেন- এক পোয়া ৭০ টাকা। পরিচিত ব্যবসায়ী, তাই প্রথমে মনে করেছিলাম মজা করছে। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম আসলেই মরিচের এতো দাম। কিছুটা অবাক হয়েছি। কারণ গত সপ্তাহেই ৪০ টাকা পোয়া কিনেছি। সপ্তাহ ঘুরতেই দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাজারে সবকিছুর দামে আগুন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে দেশটা যেন মগের মুল্লুক।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা জাফর বলেন, কিছুদিন আগে যে কাঁচামরিচ ৪০ টাকা পোয়া কিনেছি, আজ সেই কাঁচামরিচের দাম চাওয়া হলো ৮০ টাকা। কয়েক দোকান ঘুরে ৭০ টাকা দিয়ে এক পোয়া কাঁচামরিচ কিনেছি। আমার হিসেবে কাঁচামরিচের পোয়া ৪০ টাকা হওয়ায় বেশি, সেখানে ৮০ টাকা পোয়া কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারে না। সংশ্লিষ্টের উচিত দ্রুত বাজার মনিটরিংয়ে নামা। কারণ শুধু কাঁচামরিচ না এখন সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকা

আপডেট টাইম : ০৩:১২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চার মাসের বেশি সময় ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম নতুন করে আরও বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ এক কেজি কাঁচামরিচের দাম পড়ছে ৩২০ টাকা। অবশ্য আধা কেজি বা এক কেজি নিলে দাম কিছুটা কম পড়ছে। ভালোমানের আধা কেজি কাঁচামরিচ ১৫০ টাকা এবং এক কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন কিছু কিছু ব্যবসায়ী।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর এবং খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

নতুন করে কাঁচামরিচের দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যায় কাঁচামরিচের খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যে কারণে জুলাই মাস থেকেই কাঁচামরিচের দাম চড়া। এখন বৃষ্টি কাঁচামরিচের খেতের আরেক দফা ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে দাম নতুন করে বেড়ে গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের কাঁচামরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আর নিম্ন মানের (কিছু অংশ পচা অথবা বেশিরভাগ লাল হয়ে যাওয়া) কাঁচামরিচের পোয়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

শান্তিনগর বাজারে ৮০ টাকা পোয়া কাঁচামরিচ বিক্রি করা মো. জুয়েল বলেন, আড়তে ফ্রেশ মরিচ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। বেশিরভাগ মরিচের বোটা পচা। কয়েকদিন ধরে এই অবস্থা। এ কারণেই মরিচের দাম বাড়তি। তিনি বলেন, গত শুক্রবার যে দামে মরিচ কিনেছিলাম, আজ কেজিতে তার থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। এই ৮০ টাকা পোয়া বিক্রি করলে লাভ তেমন হবে না। সকালে প্রথমদিকে কেউ কেউ কাঁচামরিচের পোয়া ১০০ টাকাও বিক্রি করেছে।

খিলগাঁও তালতলায় ৮০ টাকা পোয়া কাঁচামরিচ বিক্রি করা নুরুন্নবী মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে এক পোয়া কাঁচামরিচ ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ যে দামে কিনতে হয়েছে তাতে ৮০ টাকার নিচে পোয়া বিক্রি করা সম্ভব না। তবে আধা কেজি নিলে ১৫০ টাকা এবং এক কেজি নিলে ৩০০ টাকা রাখা যাবে।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌ-বাজারে ভালো-নষ্ট মিশিয়ে কাঁচামরিচের পোয়া ৬০ টাকা বিক্রি করা আশরাফ আলী বলেন, দুদিন ধরে কাঁচামরিচের দাম বেশি। বুধবারও এক পোয়া কাঁচামরিচ ৪০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু গতকাল থেকে ৬০ টাকা পোয়া বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ এ মরিচের মান আগের মরিচের থেকে খারাপ। তিনি বলেন, দাম বেশি হওয়ায় পরও আড়তে ঠিকমতো কাঁচামরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। আড়ত থেকে মরিচ বেছে নেওয়ারও সুযোগ নেই। একপাল্লা মরিচে প্রায় আধা কেজি পচা গলা থাকছে। আড়ত থেকে আনার পর এসব মরিচ বেছে ফেলে দিতে হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান সরদার বলেন, কাঁচামরিচের খেত সব শেষ। বন্যায় কাঁচামরিচের গাছ পচে যাওয়ার পর এখন বৃষ্টিতে আবার কাঁচামরিচের খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মূলত এ কারণেই কাঁচামরিচের দাম বেশি। আড়তে আসার আগেই ট্রাকে অনেক মরিচ পচে যাচ্ছে। খেত থেকেও তেমন মরিচ উঠছে না। এরপরও বাজারে কাঁচামরিচ পাওয়া যাচ্ছে এটাই বড় কথা। আমাদের ধারণা সামনে কাঁচামরিচের দাম আরও বাড়বে।

কারওয়ানবাজার থেকে কাঁচামরিচ কেনা লিটন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে এখান থেকে বাজার করি। এলাকার বাজার থেকে এখানে কম দামে কেনা যায়। আজ মরিচের দাম শুনতেই ব্যবসায়ী বলেন- এক পোয়া ৭০ টাকা। পরিচিত ব্যবসায়ী, তাই প্রথমে মনে করেছিলাম মজা করছে। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম আসলেই মরিচের এতো দাম। কিছুটা অবাক হয়েছি। কারণ গত সপ্তাহেই ৪০ টাকা পোয়া কিনেছি। সপ্তাহ ঘুরতেই দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাজারে সবকিছুর দামে আগুন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে দেশটা যেন মগের মুল্লুক।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা জাফর বলেন, কিছুদিন আগে যে কাঁচামরিচ ৪০ টাকা পোয়া কিনেছি, আজ সেই কাঁচামরিচের দাম চাওয়া হলো ৮০ টাকা। কয়েক দোকান ঘুরে ৭০ টাকা দিয়ে এক পোয়া কাঁচামরিচ কিনেছি। আমার হিসেবে কাঁচামরিচের পোয়া ৪০ টাকা হওয়ায় বেশি, সেখানে ৮০ টাকা পোয়া কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারে না। সংশ্লিষ্টের উচিত দ্রুত বাজার মনিটরিংয়ে নামা। কারণ শুধু কাঁচামরিচ না এখন সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক।