হাওর বার্তা ডেস্কঃ জীবনের প্রত্যেকটা সময়ের আলাদা একটা সৌন্দর্য থাকে। তিনি তা নিজের মতো করেই উপভোগ করতে ভালোবাসেন। কৈশোরের দেখা স্বপ্নগুলোর জোরেই আজকের অবস্থানে। নিজের সেরাটা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ স্থান দখল করার স্বপ্ন নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন। সে পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু বাধা আসলেও পরাস্ত হননি তিনি। এখন স্বপ্নের সীমানাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন শবনম বুবলী।
কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদেও মুক্তির তালিকায় রয়েছে তার অভিনীত বিগ বাজেটের ‘পাসওয়ার্ড’ ছবি। এতে তার বিপরীতে রয়েছেন সময়ের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। আর ছবিটি নির্মাণ করেছেন মালেক আফসারী।
ইন্ডাস্ট্রিতে যাত্রা শুরুর পরপরই ‘ভিন্ন’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শবনম বুবলীকে যেতে হয়েছে। তবে চাপ সামলে নিয়ে লক্ষ্যের দিকে ছুটে যাওয়াই ছিল তার কাজ। সেটাও ঠিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে করেছেন। যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়াই ছিল তার কাজ। আর এখন নিজেই হয়ে উঠেছেন নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী। এটিই তার ক্যারিয়ারকে পরিণত রূপ দিয়েছে বলে মনে করছেন এই নায়িকা।
২০১৬ সালে মুক্তি পায় বুবলী অভিনীত ‘বসগিরি’ ও ‘শুটার’। এরপর ‘অহংকার’, ‘রংবাজ’, ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া ও নোয়াখাইল্লা মাইয়া’, ‘ক্যাপ্টেন খান’ ও ‘সুপারহিরো’ ছবিগুলো মুক্তি পায়। ‘পাসওয়ার্ড’ তার অষ্টম ছবি। সব ছবিতেই তিনি শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। এ পর্যন্ত মুক্তিপ্রাপ্ত সাতটি ছবি মুক্তি পেয়েছে ঈদের সময়।
শবনম বুবলীর জীবনযাপন অনেকটাই বদলে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস একটুও বদলায়নি। কারণ তিনি সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করেন। সব ধরনের পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন। তার ভাষ্য, ‘আমি নিজে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করি, আর সেই চ্যালেঞ্জের পিছে ছুটে যাইয়াই আমার কাজ বলে আমি মনে করি।’
ক্যারিয়ার নয়, ইন্ডাস্ট্রিকে কী দিলেন, সেটাই তার কাছে মুখ্য বিষয়। তিনি মনে করেন, ব্যক্তি অর্জনের চেয়ে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য যদি ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটাই তার জীবনে চলার পথে পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি চান, তার স্বপ্নের মতো অবিশ্বাস্য সেই সব রেকর্ডের অধিকারী হতে।
অভিনয়জীবনের প্রত্যেকটা কাজই বিশেষ। ‘পাসওয়ার্ড’ও তার কাছে তাই। বুবলীর ভাষায়, ‘পাসওয়ার্ড’ এখন পুরোপুরি লক করা। তাই এ নিয়ে তিনি কিছুই বলতে চান না। ঈদের দিনই দর্শকদের জন্য আনলক হবে পাসওয়ার্ড। দর্শক হলে গিয়ে ছবিটি দেখুক। তার বিশ্বাস ছবিটি দর্শকদের ভালো লাগবে। তাদের ঈদকে আরও রঙিন করে তুলবে।
এখন পর্যন্ত বুবলীর যতগুলো ছবি মুক্তি পেয়েছে, সবই হলে গিয়ে দেখেছেন। বারবরের মতো এবারও পরিকল্পনা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে এই নায়িকা বলছেন, দর্শকদের সঙ্গে পাশাপাশি চেয়ারে বসে ছবি দেখলে অনেক খুঁটিনাটি ভুল সহজেই ধরা যায়, শুধরে নেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়। বুবলী বিশ্বাস করেন, মানুষ নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেই সে মানুষ। যদি না পারত তাহলে ভিন্নকিছু হতো।
জীবনে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন, আর ঘৃণা করেন হেরে যেতে। তার ভাষায়, ‘জীবনটা তো একটা দৌড়ের প্রতিযোগিতার মতো। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে, সেই সময়ের মধ্য দিয়েই যেতে হবে। পিছন ফিরে তাকালে হবে না। আমি মনে করি মানুষ মাত্রই যোদ্ধা, সেটা হয়তো নিজ নিজ ভুবনে। সংগ্রাম ছাড়া কিন্তু কোনোভাবেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটা নিয়মিত জীবনেরই অংশ। আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।’
শবনম বুবলী কেন শুধু শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন, এ নিয়েও কথা শুনতে হয়েছে তাকে। তবে বিষয়টাকে তারকা-জীবনের অংশ হিসেবেই দেখেন তিনি। কখনো কখনো মেজাজ হারিয়ে ফেললেও দর্শকদের কথা চিন্তা করে নিজেকে সামলে নেন।
তিনি মনে করেন, শুধু প্রতিভা দিয়েই মানুষ সাফল্য অর্জন করতে পারে না। নিজের ওপর বিশ্বাস আর কঠিন শ্রমই পারে তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। বড় কিছু করার জন্য সুযোগ এলে তা কাজে লাগাতে হবে।
প্রায় তিন বছর হলো ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার শবনম বুবলীর। আর এই সময়টা চলচ্চিত্রের সংকট মুহূর্তও। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলা চলচ্চিত্রের এই ইন্ডাস্ট্রি। এরমধ্যেই তিনি তার সেরা কাজটাই ইন্ডাস্ট্রির জন্য করে যেতে চান। কীভাবে আরও ভালো ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দেওয়া যায়, সেটাই তার ভাবনার জগতে সবসময় খেলা করে।
বুবনী বিশ্বাস করেন, নিজের ওপর দৃঢ় বিশ্বাসই মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। সাময়িক বাধায় হতাশ হওয়া যাবে না। নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল আয়ত্ত করতে পারলেই জীবনে চলার পথটা অনেক সহজ হয়ে যায়। আর সেটাই জীবনের প্রতি মুহূর্তে নিজের জন্য কাজে লাগাতে হবে।
Reporter Name 

























