দেশের রাজনীতি, শিল্প ও রপ্তানি খাতে এক উজ্জ্বল নাম মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বহুমাত্রিক প্রতিভা, দক্ষ নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি আজ জাতীয় অঙ্গনে একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
১৯৫৮ সালের ২৩ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা আলী মিয়া ও মাতা আমেনা বেগম। শৈশব থেকেই পারিবারিক শিক্ষায় গড়ে ওঠা দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নেতৃত্বগুণ পরবর্তীকালে তাঁর কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন আমিন উর রশিদ। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে একজন দক্ষ ও নিষ্ঠাবান সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সহকৃষি বিষয়ক সম্পাদক এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দেশের ফুটওয়্যার শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ উদ্যোক্তা। লালমাই গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। রপ্তানি খাতে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠান ১২ বার জাতীয় রপ্তানি পদক অর্জন করেছে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১৩ বার সিআইপি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠান চারবার দেশের শীর্ষ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
তিনি লালমাই ফুটওয়্যার লিমিটেড, আরকু ইন্ডাস্ট্রিজ ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, বেবী নিউট্রিশন লিমিটেড, লালমাই ফুড প্রোডাক্টস, অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেড এবং আরকু ফুডস লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমাজকল্যাণেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত বারপাড়া আমেনা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নারীশিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে তিনি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বাণিজ্য মেলা ও বিনিয়োগ সভায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের পণ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মোছাঃ তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে বিবাহিত। তাঁদের দুই পুত্র—ইফতেখার রশিদ ও এনায়েত রশিদ।
সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমকে মূলমন্ত্র করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ রাজনীতি, শিল্প ও সমাজসেবায় সমানভাবে অবদান রেখে চলেছেন—যা তাকে সমসাময়িক সময়ের একজন সফল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
Reporter Name 





















