ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেট চ্যালেঞ্জ: বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও বিদেশি ঋণ পরিশোধ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ০ বার

মূল্যস্ফীতির চাপে নাকাল সীমিত আয়ের মানুষ। মেলে না আয়-ব্যয়ের হিসাব। যতই দিন যাচ্ছে ততই কঠিন হচ্ছে যাপিত জীবন। নানা সংকটে আরও দরিদ্র হচ্ছে মানুষ। সমীক্ষা বলছে, এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৪ শতাংশের উপরে। যদিও এবারের বাজেটে সরকার এই হারকে টেনে নামিয়ে আনতে চায় সাড়ে ৭ শতাংশে।

কিছুটা স্বস্তি নিশ্চিতে ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব আছে এবারের বাজেটে। সামাজিক সুরক্ষা বলয় আরও বাড়ানো হবে। কিন্তু কাগজ-কলমের সুফল বাস্তবে আনাই যে বড় চ্যালেঞ্জ।

অবশ্য প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা স্থির করেছে। এর মধ্যে এনবিআর একাই আদায় করবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও বাস্তবতা বলছে বরাবরের মতো এবারো রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে এনবিআর। ঘাটতি দাঁড়িয়ে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। তাহলে বিশাল এই বাজেটের অর্থের জোগান-ই বা কীভাবে হবে!

অর্থনীতিবিদ ড. এম আবু ইউসুফ বলেছেন, আমাদের এখানে কোটিখানেক করদাতা আছে। অটোমেশন না করার কারণে ম্যানুয়ালি হওয়ায় অনেক ট্যাক্স-ভ্যাট সরকারের খাতে যায় না। এটি ঠিক করা গেলে সরকারের রাজস্ব অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, আমরা শঙ্কিত! অতীতেও যখনই বাজেটের আকার বেড়েছে, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। কিন্তু রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি করজালের আওতা কখনোই বাড়েনি। যার ফলে আমরা কিছু সংখ্যক ব্যক্তি যারা করের আওতার মধ্যে রয়েছি, তাদের ওপরেই কিন্তু এই চাপটা বেড়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আরেক দুশ্চিন্তার নাম বিশাল ঘাটতি, যার পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সংকট মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যত ঋণ নিবে, তত ঋণ প্রবাহ সংকুচিত হবে বেসরকারি খাতে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বাজেট ঘাটতি যেটা হবে সেটা কীভাবে অর্থায়ন করা হবে? সরকার যদি বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকিং ব্যাবস্থার ওপর নির্ভর করে… গত বছরও সেটা সরকার করেছিল, তাহলে যেটা হবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের চাপটা থেকে যাবে, সেটা থেকে গেলে কোনোভাবেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিরতা আসা সম্ভব হবে না।

এবারের বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে গেলে অর্থবছর শেষে সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় আরও বাড়তে পারে, এমন শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেট চ্যালেঞ্জ: বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও বিদেশি ঋণ পরিশোধ

আপডেট টাইম : ১২:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মূল্যস্ফীতির চাপে নাকাল সীমিত আয়ের মানুষ। মেলে না আয়-ব্যয়ের হিসাব। যতই দিন যাচ্ছে ততই কঠিন হচ্ছে যাপিত জীবন। নানা সংকটে আরও দরিদ্র হচ্ছে মানুষ। সমীক্ষা বলছে, এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৪ শতাংশের উপরে। যদিও এবারের বাজেটে সরকার এই হারকে টেনে নামিয়ে আনতে চায় সাড়ে ৭ শতাংশে।

কিছুটা স্বস্তি নিশ্চিতে ৬০ ধরনের নিত্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব আছে এবারের বাজেটে। সামাজিক সুরক্ষা বলয় আরও বাড়ানো হবে। কিন্তু কাগজ-কলমের সুফল বাস্তবে আনাই যে বড় চ্যালেঞ্জ।

অবশ্য প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা স্থির করেছে। এর মধ্যে এনবিআর একাই আদায় করবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও বাস্তবতা বলছে বরাবরের মতো এবারো রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে এনবিআর। ঘাটতি দাঁড়িয়ে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। তাহলে বিশাল এই বাজেটের অর্থের জোগান-ই বা কীভাবে হবে!

অর্থনীতিবিদ ড. এম আবু ইউসুফ বলেছেন, আমাদের এখানে কোটিখানেক করদাতা আছে। অটোমেশন না করার কারণে ম্যানুয়ালি হওয়ায় অনেক ট্যাক্স-ভ্যাট সরকারের খাতে যায় না। এটি ঠিক করা গেলে সরকারের রাজস্ব অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, আমরা শঙ্কিত! অতীতেও যখনই বাজেটের আকার বেড়েছে, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। কিন্তু রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি করজালের আওতা কখনোই বাড়েনি। যার ফলে আমরা কিছু সংখ্যক ব্যক্তি যারা করের আওতার মধ্যে রয়েছি, তাদের ওপরেই কিন্তু এই চাপটা বেড়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আরেক দুশ্চিন্তার নাম বিশাল ঘাটতি, যার পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সংকট মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যত ঋণ নিবে, তত ঋণ প্রবাহ সংকুচিত হবে বেসরকারি খাতে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বাজেট ঘাটতি যেটা হবে সেটা কীভাবে অর্থায়ন করা হবে? সরকার যদি বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকিং ব্যাবস্থার ওপর নির্ভর করে… গত বছরও সেটা সরকার করেছিল, তাহলে যেটা হবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের চাপটা থেকে যাবে, সেটা থেকে গেলে কোনোভাবেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিরতা আসা সম্ভব হবে না।

এবারের বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে গেলে অর্থবছর শেষে সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় আরও বাড়তে পারে, এমন শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।