ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন নোবেল ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে: আরিফুল হক চৌধুরী

গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ বার

গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা কোনোভাবেই আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু একটি পরিবারের সদস্য নন, তারা সমগ্র জাতিরই অংশ। তারা আমার ভাই, আমার স্বজন, আমার সহকর্মী—বাংলাদেশের মানুষ। তাদের প্রতি অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি জানান, গুম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশসমূহ পর্যালোচনা করে আরও শক্তিশালী ও জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদের চলতি অধিবেশন বা পরবর্তীতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট বিল আনা হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় না পায়।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন, ১৯৭৩-এ গুমকে ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা গুমের শিকারদের প্রতি অবিচার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় তদন্ত ব্যবস্থায়ও দ্বৈততা তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিটি আইনে তদন্তের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ আইনে ভিন্ন তদন্ত প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে। এই অসামঞ্জস্য দূর করা প্রয়োজন।

এছাড়া মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, গত সরকারের সময় বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকেই আর ফিরে আসেননি। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সেই অন্ধকার স্থান থেকে ফিরে এসেছি, যেখানে আমার মতো আরও শত শত মানুষকে নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি জানান, এক পর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন তাকে হত্যা করা হবে এবং সেই সময় তিনি সূরা ইয়াসিন পাঠ শুরু করেন। পরে কিছু সাহসী তরুণের উদ্যোগে তিনি জীবিত ফিরে আসার সুযোগ পান বলে উল্লেখ করেন।

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আইন বাতিলের সুপারিশে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রণীত আইন কেন বাতিলের কথা বলা হচ্ছে।

আলোচনার একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে এমন কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিক গুম বা হত্যার শিকার না হন।

আইনমন্ত্রী পুনরায় আশ্বাস দিয়ে বলেন, সব ধরনের অসঙ্গতি দূর করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে, যা গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা

গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা কোনোভাবেই আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু একটি পরিবারের সদস্য নন, তারা সমগ্র জাতিরই অংশ। তারা আমার ভাই, আমার স্বজন, আমার সহকর্মী—বাংলাদেশের মানুষ। তাদের প্রতি অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি জানান, গুম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশসমূহ পর্যালোচনা করে আরও শক্তিশালী ও জনকল্যাণমুখী আইন প্রণয়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে সংসদের চলতি অধিবেশন বা পরবর্তীতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট বিল আনা হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় না পায়।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন, ১৯৭৩-এ গুমকে ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা গুমের শিকারদের প্রতি অবিচার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গুমের ঘটনায় তদন্ত ব্যবস্থায়ও দ্বৈততা তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিটি আইনে তদন্তের বিধান রয়েছে, অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ আইনে ভিন্ন তদন্ত প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে। এই অসামঞ্জস্য দূর করা প্রয়োজন।

এছাড়া মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, গত সরকারের সময় বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকেই আর ফিরে আসেননি। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সেই অন্ধকার স্থান থেকে ফিরে এসেছি, যেখানে আমার মতো আরও শত শত মানুষকে নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি জানান, এক পর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন তাকে হত্যা করা হবে এবং সেই সময় তিনি সূরা ইয়াসিন পাঠ শুরু করেন। পরে কিছু সাহসী তরুণের উদ্যোগে তিনি জীবিত ফিরে আসার সুযোগ পান বলে উল্লেখ করেন।

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আইন বাতিলের সুপারিশে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রণীত আইন কেন বাতিলের কথা বলা হচ্ছে।

আলোচনার একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে এমন কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিক গুম বা হত্যার শিকার না হন।

আইনমন্ত্রী পুনরায় আশ্বাস দিয়ে বলেন, সব ধরনের অসঙ্গতি দূর করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে, যা গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।