ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

নাসির-তামিমার মামলায় কোন ধারায় কি সাজা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ২৩ বার

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে ঘিরে আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বুধবার  ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। অভিযোগ রয়েছে, তামিমা সুলতানা তাম্মি তার আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন তামিমা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ হয়ে যায়। একই বছরের ২০ মার্চ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। সবশেষে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।

শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন।

অভিযোগ প্রমাণ হলে কী শাস্তি হতে পারে?
এই মামলায় নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা হলো ব্যভিচার বা পরকীয়া। এই ধারার অভিযোগ প্রমাণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

৪৯৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত নারীকে অপরাধজনক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা, ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া বা বেআইনিভাবে আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

৪৯৪ ধারা : স্বামী বা স্ত্রী জীবিত ও বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকা অবস্থায় গোপনে বা তালাক ব্যতীত পুনরায় বিবাহ করার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রতারণাকারী সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং সেই সাথে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারেন।

৪৬৮ ধারা হলো প্রতারণা বা ঠকানোর উদ্দেশ্যে কোনো জাল দলিল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড তৈরি করার অপরাধ। সহজ কথায়, কাউকে ধোঁকা দেওয়ার বা নিজের কোনো অনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যা বা বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি করাই হলো এই ধারার মূল অপরাধ। তামিমার বিরুদ্ধে তালাকের রাকিব হাসানকে আইনগতভাবে তালাক না দিয়েই জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা তালাক নোটিশ সৃজনের অভিযোগ রয়েছে। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সেই সাথে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

৪৭১ ধারা : দণ্ডবিধির ৪৭১ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে এমন একটি দলিলকে খাঁটি দলিল হিসাবে ব্যবহার করে, যে দলিলটি একটি জাল দলিল বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি যেন সে নিজে দলিলটি জাল করেছে। এমন অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

নাসির-তামিমার মামলায় কোন ধারায় কি সাজা

আপডেট টাইম : ১১:১৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে ঘিরে আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বুধবার  ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। অভিযোগ রয়েছে, তামিমা সুলতানা তাম্মি তার আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন তামিমা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ হয়ে যায়। একই বছরের ২০ মার্চ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। সবশেষে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।

শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন।

অভিযোগ প্রমাণ হলে কী শাস্তি হতে পারে?
এই মামলায় নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা হলো ব্যভিচার বা পরকীয়া। এই ধারার অভিযোগ প্রমাণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

৪৯৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত নারীকে অপরাধজনক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা, ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া বা বেআইনিভাবে আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

৪৯৪ ধারা : স্বামী বা স্ত্রী জীবিত ও বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকা অবস্থায় গোপনে বা তালাক ব্যতীত পুনরায় বিবাহ করার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রতারণাকারী সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং সেই সাথে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারেন।

৪৬৮ ধারা হলো প্রতারণা বা ঠকানোর উদ্দেশ্যে কোনো জাল দলিল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড তৈরি করার অপরাধ। সহজ কথায়, কাউকে ধোঁকা দেওয়ার বা নিজের কোনো অনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যা বা বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি করাই হলো এই ধারার মূল অপরাধ। তামিমার বিরুদ্ধে তালাকের রাকিব হাসানকে আইনগতভাবে তালাক না দিয়েই জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা তালাক নোটিশ সৃজনের অভিযোগ রয়েছে। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সেই সাথে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

৪৭১ ধারা : দণ্ডবিধির ৪৭১ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে এমন একটি দলিলকে খাঁটি দলিল হিসাবে ব্যবহার করে, যে দলিলটি একটি জাল দলিল বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি যেন সে নিজে দলিলটি জাল করেছে। এমন অভিযোগে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।