ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

থানীয় সরকার নির্বাচন : খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে সিদ্ধান্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:২১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৫
  • ১৯১ বার

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। হঠাৎ করে সরকার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলো, কেন ডিসেম্বর থেকে মার্চ এই সময়টা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেছে নেয়া হলো, সেই মোটিভ বোঝার চেষ্টা করছে দলটি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে লন্ডন সফররত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর। তবে দলটির নেতারা বলছেন, শেষতক সরকারি দলকে তারা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে রাজি নয়।
গত ১২ অক্টোবর স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা ও মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে। সরকারের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞ মহল একদলীয় ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্তকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি যখন প্রশ্নবিদ্ধ, সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নিরপে সরকারের অধীনে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচনের দাবি যখন সব মহলের, তখন সে দাবিকে পাশ কাটিয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজনের পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য মহাদুরভিসন্ধিমূলক।
সরকার প্রধানত তিনটি কারণে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। প্রথমত. জাতীয় নির্বাচনের দাবিকে ধামাচাপা দেয়া, দ্বিতীয়ত. আন্দোলন দমনে তৃণমূলেও দলীয় নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করা এবং তৃতীয়ত. যেকোনো উপায়ে নির্বাচনের ফলাফল অনুকূলে নিয়ে দেশে-বিদেশে সরকারের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়া।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে সময়টা বেছে নেয়া হয়েছে, তাও উদ্দেশ্যমূলক। সরকার মনে করছে, বিএনপি দল গুছিয়ে ডিসেম্বর নাগাদ আবারো ঘুঁরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তিকে ঘিরে যাতে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনের মধ্যে বিরোধী নেতাকর্মীদের ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়া হয়েছে। সরকারের এসব কৌশল আমলে নিয়েই তারা এখন পাল্টা কৌশল নির্ধারণ করবেন।
দলের যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের গণদাবিকে ধামাচাপা দেয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তাকে পাশ কাটানো। তিনি বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে, কিন্তু তা সম্ভব হবে না।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে নির্বাচনে যেতে পারে বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। মো: শাহজাহান জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষ। তাদের মতে, বিগত দুই দফা ব্যর্থ আন্দোলনের পর তৃণমূলে স্থবিরতা নেমে এসেছে। মামলা-হামলায় জর্জরিত অনেক নেতাকর্মী এখনো আত্মগোপনে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক গতি ফিরে আসবে। তৃণমূল পুনর্গঠনেও গতি আসবে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে নেতাদের মাঝে সৃষ্টি হবে প্রতিযোগিতা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থন নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেবেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে একটা চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন হবে এমনটি ধরে নিয়েই সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতারা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নির্বাচন করবেন বলে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, নানা বিরোধিতা সত্ত্বেও অতীতে সব কটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর, দণি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয় দলটি।
বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে হার-জিত যাই হোক উভয়ই বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীদের ব্যাপক জয় হবে। একই সঙ্গে সরকারের জনপ্রিয়তা নেই তাও প্রমাণিত হবে। অপর দিকে সরকার কারচুপি করলে আবারো প্রমাণিত হবে এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দেয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

থানীয় সরকার নির্বাচন : খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে সিদ্ধান্ত

আপডেট টাইম : ০৪:২১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৫

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। হঠাৎ করে সরকার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলো, কেন ডিসেম্বর থেকে মার্চ এই সময়টা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেছে নেয়া হলো, সেই মোটিভ বোঝার চেষ্টা করছে দলটি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে লন্ডন সফররত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর। তবে দলটির নেতারা বলছেন, শেষতক সরকারি দলকে তারা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে রাজি নয়।
গত ১২ অক্টোবর স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা ও মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে। সরকারের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞ মহল একদলীয় ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্তকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি যখন প্রশ্নবিদ্ধ, সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নিরপে সরকারের অধীনে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচনের দাবি যখন সব মহলের, তখন সে দাবিকে পাশ কাটিয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজনের পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য মহাদুরভিসন্ধিমূলক।
সরকার প্রধানত তিনটি কারণে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। প্রথমত. জাতীয় নির্বাচনের দাবিকে ধামাচাপা দেয়া, দ্বিতীয়ত. আন্দোলন দমনে তৃণমূলেও দলীয় নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করা এবং তৃতীয়ত. যেকোনো উপায়ে নির্বাচনের ফলাফল অনুকূলে নিয়ে দেশে-বিদেশে সরকারের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়া।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে সময়টা বেছে নেয়া হয়েছে, তাও উদ্দেশ্যমূলক। সরকার মনে করছে, বিএনপি দল গুছিয়ে ডিসেম্বর নাগাদ আবারো ঘুঁরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তিকে ঘিরে যাতে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনের মধ্যে বিরোধী নেতাকর্মীদের ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়া হয়েছে। সরকারের এসব কৌশল আমলে নিয়েই তারা এখন পাল্টা কৌশল নির্ধারণ করবেন।
দলের যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের গণদাবিকে ধামাচাপা দেয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তাকে পাশ কাটানো। তিনি বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে, কিন্তু তা সম্ভব হবে না।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে নির্বাচনে যেতে পারে বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। মো: শাহজাহান জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষ। তাদের মতে, বিগত দুই দফা ব্যর্থ আন্দোলনের পর তৃণমূলে স্থবিরতা নেমে এসেছে। মামলা-হামলায় জর্জরিত অনেক নেতাকর্মী এখনো আত্মগোপনে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক গতি ফিরে আসবে। তৃণমূল পুনর্গঠনেও গতি আসবে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে নেতাদের মাঝে সৃষ্টি হবে প্রতিযোগিতা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থন নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেবেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে একটা চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন হবে এমনটি ধরে নিয়েই সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতারা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নির্বাচন করবেন বলে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, নানা বিরোধিতা সত্ত্বেও অতীতে সব কটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর, দণি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয় দলটি।
বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে হার-জিত যাই হোক উভয়ই বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীদের ব্যাপক জয় হবে। একই সঙ্গে সরকারের জনপ্রিয়তা নেই তাও প্রমাণিত হবে। অপর দিকে সরকার কারচুপি করলে আবারো প্রমাণিত হবে এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দেয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।