ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক প্রশাসনের নাকের ডগায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে আপিলের আদেশ সোমবার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮
  • ৪১১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলবে কিনা সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে সোমবার। হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলে শুনানি শেষে রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচাপতির আপিল বেঞ্চ বিষয়টি সোমবার আদেশের জন্য রেখেছে।

রোববার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী; সঙ্গে ছিলেন জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল ও এ কে এম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।

এদিকে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে সোমবারই এ মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে সোয়া তিন কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় সর্বোচ্চ সাত বছর সাজা হতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার।

আপিল বিভাগে শুনানি শেষে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “কাল বিচারিক আদালতের রায় হবে কিনা তা নির্ভর করছে আপিল বিভাগের আদেশের ওপর।”অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশা করছি লিভ টু আপিল খারিজ হবে।”

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য বিচারিক আদালতের রায় আটকাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাল রায় হবে কি হবে না সেটা বিচারিক আদালতের এখতিয়ার।”

এ মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি।

‘অসুস্থতার কারণে’ তাকে সাত মাসে একবারও তাকে আদালতে হাজির করতে না পারায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করতে সরকারের নির্দেশে আদালত স্থানান্তর করা হয় ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতরে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ জজ আদালতের ওই অস্থায়ী এজলাসে হাজির হয়ে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বিচারককে বলেছিলেন, তিনি বার বার আদালতে আসতে পারবেন না, বিচারক তাকে ‘যতদিন খুশি’ সাজা দিতে পারেন।

এরপর শুনানির দুটি তারিখে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদাকে আদালত কক্ষে আনতে ব্যর্থ হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারা অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চালানোর আর্জি জানান দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান ১০ অক্টোবর তার আদেশে বলেন, “এক বছর ৯ মাস মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে থাকায় এবং আসামি বেগম খালো জিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারায় প্রসিকিউশনের দরখাস্তটি ন্যায়বিচারের স্বার্থে গ্রহণ করা যায়।” এ মামলায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত হাজিরা অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য মওকুফ করে তার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম যথারীতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচারক বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা চাইলে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারবেন।

ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে খালেদার পক্ষে তার আইনজীবীরা গত ২৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। জজ আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে রুল চাওয়ার পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত চওয়া হয় সেই আবেদনে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হননি। সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে তার সুস্থতা সবার আগে দেখা উচিত। আর তিনি যেহেতু কারাবন্দি, সেহেতু তার অনুপস্থিতিতে এ মামলার বিচার চালানো যায় না।

কিন্তু বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৪ অক্টোবর খালেদার রিভিশন আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিলে জজ আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

এরার গত ১৮ অক্টোবর হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনর ওপর শুনানি শেষ করেই সোমবার আদেশের তারিখ রেখেছে আপিল বিভাগ।

এদিকে কয়েকটি ধার্য তারিখে আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন না করায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান গত ১৮ অক্টোবর এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করে ২৯ অক্টোবর রায়ের নি রাখেন।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক।

মামলার চার আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী পলাতক। হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আছেন কারাগারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে আপিলের আদেশ সোমবার

আপডেট টাইম : ০৩:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলবে কিনা সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে সোমবার। হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলে শুনানি শেষে রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচাপতির আপিল বেঞ্চ বিষয়টি সোমবার আদেশের জন্য রেখেছে।

রোববার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী; সঙ্গে ছিলেন জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল ও এ কে এম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।

এদিকে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে সোমবারই এ মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে সোয়া তিন কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় সর্বোচ্চ সাত বছর সাজা হতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার।

আপিল বিভাগে শুনানি শেষে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “কাল বিচারিক আদালতের রায় হবে কিনা তা নির্ভর করছে আপিল বিভাগের আদেশের ওপর।”অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশা করছি লিভ টু আপিল খারিজ হবে।”

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য বিচারিক আদালতের রায় আটকাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাল রায় হবে কি হবে না সেটা বিচারিক আদালতের এখতিয়ার।”

এ মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি।

‘অসুস্থতার কারণে’ তাকে সাত মাসে একবারও তাকে আদালতে হাজির করতে না পারায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করতে সরকারের নির্দেশে আদালত স্থানান্তর করা হয় ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতরে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ জজ আদালতের ওই অস্থায়ী এজলাসে হাজির হয়ে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বিচারককে বলেছিলেন, তিনি বার বার আদালতে আসতে পারবেন না, বিচারক তাকে ‘যতদিন খুশি’ সাজা দিতে পারেন।

এরপর শুনানির দুটি তারিখে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদাকে আদালত কক্ষে আনতে ব্যর্থ হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারা অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চালানোর আর্জি জানান দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান ১০ অক্টোবর তার আদেশে বলেন, “এক বছর ৯ মাস মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে থাকায় এবং আসামি বেগম খালো জিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারায় প্রসিকিউশনের দরখাস্তটি ন্যায়বিচারের স্বার্থে গ্রহণ করা যায়।” এ মামলায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত হাজিরা অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য মওকুফ করে তার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম যথারীতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচারক বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা চাইলে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারবেন।

ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে খালেদার পক্ষে তার আইনজীবীরা গত ২৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। জজ আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে রুল চাওয়ার পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত চওয়া হয় সেই আবেদনে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হননি। সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে তার সুস্থতা সবার আগে দেখা উচিত। আর তিনি যেহেতু কারাবন্দি, সেহেতু তার অনুপস্থিতিতে এ মামলার বিচার চালানো যায় না।

কিন্তু বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৪ অক্টোবর খালেদার রিভিশন আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিলে জজ আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

এরার গত ১৮ অক্টোবর হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সে আবেদনর ওপর শুনানি শেষ করেই সোমবার আদেশের তারিখ রেখেছে আপিল বিভাগ।

এদিকে কয়েকটি ধার্য তারিখে আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন না করায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান গত ১৮ অক্টোবর এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করে ২৯ অক্টোবর রায়ের নি রাখেন।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক।

মামলার চার আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী পলাতক। হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আছেন কারাগারে।