ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮
  • ৩৫১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে গাজীপুরের পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি।

গত ১৭ এপ্রিল খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির সাত সদস্যের এক প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে দেখা করে এই প্রত্যাহার দাবি করে।

বিএনপির প্রত্যাহার চাওয়া গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশিদ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) লাভ করেন। গাজীপুরে জঙ্গি দমন, সন্ত্রাস, নাশকতা প্রতিরোধ ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে অবদানের জন্য তিনি এ পদক পান।

অবশ্য পদক লাভের প্রায় ৯ মাস আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালে ২১ এপ্রিল তৎকালীন গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশিদকে প্রত্যাহার করেছিল ইসি। গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। তবে তাকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা উল্লেখ করেনি কমিশন। প্রত্যাহারের ১৫ দিন না পেরোতেই (৩ মে) এসপির প্রত্যাহার তুলে নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএনপির দাবি, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করায় এসপি হারুনকে প্রত্যাহার করেছিল ইসি। এ বিষয়ে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালের গাজীপুরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি বিশেষ দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে নির্বাচন কমিশন প্রত্যাহার করেছিল।’

শুধু এসপি হারুন অর রশিদ নন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে দলবাজ যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের সবারই প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপির এই প্রতিনিধিদল। আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে ইসি। গাজীপুর সিটিতে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন এবং খুলনা সিটিতে চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন ভোটার রয়েছেন। গত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল গাজীপুরে ৩৯২টি ও খুলনায় ২২৮টি।

গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠক শেষে ইসির কাছে একটি প্রস্তাবনা তুলে দেয় বিএনপির এই প্রতিদিধিদল। ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়, গাজীপুর জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ইতোপূর্বে ২০১৬ সালে গাজীপুরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় একটি বিশেষ দলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণের কারণে তাকে প্রত্যাহার করেছিল নির্বাচন কমিশন। তা ছাড়া গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী এলাকায় কর্মরত হারুন অর রশিদের মতো সিভিল প্রশাসন ও পুলিশের চিহ্নিত দলবাজ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বদলি করতে হবে। তাদের পরিবর্তে নিরপেক্ষ পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে হাওর বার্তার পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও এসপি হারুন অর রশিদ ফোন রিসিভ করেননি।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্ম নেন হারুন অর রশিদ। ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন হারুন অর রশিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান থেকে স্নাতকোত্তর শেষে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশে যোগ দেন হারুন।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘হারুন অর রশিদের কথা উনারা নির্দিষ্টভাবে বলেছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এগুলোর ব্যাপারে পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।’ তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কমিশনকে।

হেলালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, ‘বিতর্কিত কর্মকর্তার সংখ্যা বা পরিসংখ্যান উনারা দেননি। নির্বাচন কমিশনের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় কোনো কর্মকর্তা বিতর্কিত, তাহলে উনারা অনুরোধ করেছেন, তাদেরকে প্রত্যাহার করার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আপডেট টাইম : ০৫:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে গাজীপুরের পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি।

গত ১৭ এপ্রিল খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির সাত সদস্যের এক প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে দেখা করে এই প্রত্যাহার দাবি করে।

বিএনপির প্রত্যাহার চাওয়া গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশিদ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) লাভ করেন। গাজীপুরে জঙ্গি দমন, সন্ত্রাস, নাশকতা প্রতিরোধ ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে অবদানের জন্য তিনি এ পদক পান।

অবশ্য পদক লাভের প্রায় ৯ মাস আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালে ২১ এপ্রিল তৎকালীন গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশিদকে প্রত্যাহার করেছিল ইসি। গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। তবে তাকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা উল্লেখ করেনি কমিশন। প্রত্যাহারের ১৫ দিন না পেরোতেই (৩ মে) এসপির প্রত্যাহার তুলে নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএনপির দাবি, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করায় এসপি হারুনকে প্রত্যাহার করেছিল ইসি। এ বিষয়ে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০১৬ সালের গাজীপুরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি বিশেষ দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে নির্বাচন কমিশন প্রত্যাহার করেছিল।’

শুধু এসপি হারুন অর রশিদ নন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে দলবাজ যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের সবারই প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপির এই প্রতিনিধিদল। আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে ইসি। গাজীপুর সিটিতে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন এবং খুলনা সিটিতে চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন ভোটার রয়েছেন। গত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল গাজীপুরে ৩৯২টি ও খুলনায় ২২৮টি।

গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠক শেষে ইসির কাছে একটি প্রস্তাবনা তুলে দেয় বিএনপির এই প্রতিদিধিদল। ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়, গাজীপুর জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ইতোপূর্বে ২০১৬ সালে গাজীপুরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় একটি বিশেষ দলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণের কারণে তাকে প্রত্যাহার করেছিল নির্বাচন কমিশন। তা ছাড়া গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী এলাকায় কর্মরত হারুন অর রশিদের মতো সিভিল প্রশাসন ও পুলিশের চিহ্নিত দলবাজ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বদলি করতে হবে। তাদের পরিবর্তে নিরপেক্ষ পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে হাওর বার্তার পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও এসপি হারুন অর রশিদ ফোন রিসিভ করেননি।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্ম নেন হারুন অর রশিদ। ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন হারুন অর রশিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান থেকে স্নাতকোত্তর শেষে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশে যোগ দেন হারুন।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ‘হারুন অর রশিদের কথা উনারা নির্দিষ্টভাবে বলেছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এগুলোর ব্যাপারে পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।’ তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কমিশনকে।

হেলালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, ‘বিতর্কিত কর্মকর্তার সংখ্যা বা পরিসংখ্যান উনারা দেননি। নির্বাচন কমিশনের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় কোনো কর্মকর্তা বিতর্কিত, তাহলে উনারা অনুরোধ করেছেন, তাদেরকে প্রত্যাহার করার।