ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

কিশোরগঞ্জে নৌকা বাইচে লাখো মানুষের ঢল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • ৪২৭ বার

দুপুর গড়িয়ে বিকাল। ভাদ্রের তালপাকা রোদের তেজ কিছুটা কমে এসেছে। বইছে অল্প অল্প হাওয়া। সে হাওয়া ছোট ছোট ঢেউ তুলেছে হাওরের বুকে। যেন হাওরজুড়ে ছন্দের দুলুনি! এই দুলুনির মধ্যেই পানি কেটে কেটে ছিপছিপে দীঘল নৌকাগুলোর সে কী ছুটে চলা! কে কাকে পেছনে ফেলবে এই নিয়ে প্রতিযোগিতা। নৌকার দু’পাশে সারি বেঁধে বসা মাঝিরা গানের তালে তালে টেনে চলেছেন বৈঠা। নৌকার গলুইয়ে বসা গায়েনের কণ্ঠে দরাজ সুর, …‘আল্লাহ বলিয়া নাও খোলরে ভাই সক্কলি। আল্লাহ বলিয়া খোল।। ওরে আল্লাহ বলিয়া নাও খোল শয়তান যাবে দূরে। ওরে যে কলমা পইড়া দেছে মুহাম্মদ রাসূলরে ভাই সক্কলে…।’ একেকটা কলি শেষ হতেই মাঝিদের সমস্বরে চিৎকার ‘হৈ-হৈ’। পেছনের নৌকা কাছাকাছি চলে আসছে! গায়েন কাঁসির শব্দে বৈঠার গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে গানের গতিও বাড়িয়ে দেন। অসম্ভব দ্রুততায় ছুটে চলে নৌকা! হাওর পাড়ের লাখো মানুষ সে দৃশ্য দেখে উল্লাসে ফেটে পড়েন। দেহ ও মনের উত্তেজনার বশে তারাও চিৎকার করছেন ‘হৈ হৈ… হৈ হৈ, আগ্গইয়া যাও আগ্গইয়া যাও’ (এগিয়ে যাও, এগিয়ে যাও)। কিশোরগঞ্জের বড় হাওর এলাকায় এমনই একটি উৎসবমুখর ও উত্তেজনাকর নৌকাবাইচ হয়ে গেলো শনিবার। সদরের দানাপাটুলি ইউনিয়নের চাঁদের হাসি গ্রামের সামনে ‘বড় হাওরে’ এ নৌকাবাইচের আয়োজন করে সদর উপজেলা পরিষদ। এবারই প্রথম এ গ্রামের সামনে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে কারণে স্থানীয়দের মাঝে উৎসব আনন্দটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। নৌকাবাইচ উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় লক্ষাধিক দর্শক দুপুরের আগেই সংলগ্ন হাওর ও চাঁদের হাসি গ্রামে ভিড় জমান। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা মনোরম এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। জেলার হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর ৯টি নৌকা এই বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নৌকাবাইচ কমিটির আহবায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু নাসের বেগের সভাপতিত্বে আয়োজিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউল্লাহ। প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া নিকলীর আলী হোসেনের নৌকাকে পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় হওয়া নিকলীর ফজলুর রহমানের নৌকাকে একটি ২১ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন ও তৃতীয় হওয়া নিকলীর কারার বোরহান উদ্দিনের নৌকাকে একটি ১৭ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন দেয়া হয়। এছাড়া অন্য প্রতিযোগীদের প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা করে সান্ত্বনা পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

কিশোরগঞ্জে নৌকা বাইচে লাখো মানুষের ঢল

আপডেট টাইম : ০৯:০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

দুপুর গড়িয়ে বিকাল। ভাদ্রের তালপাকা রোদের তেজ কিছুটা কমে এসেছে। বইছে অল্প অল্প হাওয়া। সে হাওয়া ছোট ছোট ঢেউ তুলেছে হাওরের বুকে। যেন হাওরজুড়ে ছন্দের দুলুনি! এই দুলুনির মধ্যেই পানি কেটে কেটে ছিপছিপে দীঘল নৌকাগুলোর সে কী ছুটে চলা! কে কাকে পেছনে ফেলবে এই নিয়ে প্রতিযোগিতা। নৌকার দু’পাশে সারি বেঁধে বসা মাঝিরা গানের তালে তালে টেনে চলেছেন বৈঠা। নৌকার গলুইয়ে বসা গায়েনের কণ্ঠে দরাজ সুর, …‘আল্লাহ বলিয়া নাও খোলরে ভাই সক্কলি। আল্লাহ বলিয়া খোল।। ওরে আল্লাহ বলিয়া নাও খোল শয়তান যাবে দূরে। ওরে যে কলমা পইড়া দেছে মুহাম্মদ রাসূলরে ভাই সক্কলে…।’ একেকটা কলি শেষ হতেই মাঝিদের সমস্বরে চিৎকার ‘হৈ-হৈ’। পেছনের নৌকা কাছাকাছি চলে আসছে! গায়েন কাঁসির শব্দে বৈঠার গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে গানের গতিও বাড়িয়ে দেন। অসম্ভব দ্রুততায় ছুটে চলে নৌকা! হাওর পাড়ের লাখো মানুষ সে দৃশ্য দেখে উল্লাসে ফেটে পড়েন। দেহ ও মনের উত্তেজনার বশে তারাও চিৎকার করছেন ‘হৈ হৈ… হৈ হৈ, আগ্গইয়া যাও আগ্গইয়া যাও’ (এগিয়ে যাও, এগিয়ে যাও)। কিশোরগঞ্জের বড় হাওর এলাকায় এমনই একটি উৎসবমুখর ও উত্তেজনাকর নৌকাবাইচ হয়ে গেলো শনিবার। সদরের দানাপাটুলি ইউনিয়নের চাঁদের হাসি গ্রামের সামনে ‘বড় হাওরে’ এ নৌকাবাইচের আয়োজন করে সদর উপজেলা পরিষদ। এবারই প্রথম এ গ্রামের সামনে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে কারণে স্থানীয়দের মাঝে উৎসব আনন্দটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। নৌকাবাইচ উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় লক্ষাধিক দর্শক দুপুরের আগেই সংলগ্ন হাওর ও চাঁদের হাসি গ্রামে ভিড় জমান। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা মনোরম এ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। জেলার হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর ৯টি নৌকা এই বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নৌকাবাইচ কমিটির আহবায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু নাসের বেগের সভাপতিত্বে আয়োজিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউল্লাহ। প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া নিকলীর আলী হোসেনের নৌকাকে পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় হওয়া নিকলীর ফজলুর রহমানের নৌকাকে একটি ২১ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন ও তৃতীয় হওয়া নিকলীর কারার বোরহান উদ্দিনের নৌকাকে একটি ১৭ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন দেয়া হয়। এছাড়া অন্য প্রতিযোগীদের প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা করে সান্ত্বনা পুরস্কার দেয়া হয়েছে।