ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ সাড়ে ৩ কেজি ওজনের দুই ইলিশ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প ও তদারকি, মন্ত্রণালয়ে ঘুরছেন এমপিরা কেন শিশুদের ঘ্রাণবিষয়ক শিক্ষা দিতে বললেন এই বিশেষজ্ঞ নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বাড়ল বেতন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শোকবইয়ে স্বাক্ষর স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর যশোরে নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের নামে মামলা হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

রাস্তার পাশে লাউ চাষে সফল হয়েছে কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৪৫৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাস্তার পাশে লাউ চাষ করে সাফল্য এসেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেরছি গ্রামর শৌখিন কৃষকের। প্রথমে শখের বসে লাউয়ের আবাদ করলেও এখন রীতিমত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আবাদ করছেন তারা। তেরছি গ্রামের মাঠে প্রায় ৩০০ ফুট রাস্তার ধারে বেড়া দিয়ে গড়ে ওঠা লাউয়ের মাচা তাদের অর্থনৈতিক সাফল্য এনে দিয়েছে।

পাশাপাশি নজর কাড়ছে পথচারীদের। তাদের দেখে এলাকার অনেকে এখন সাদা জমিতেও আবাদ করছেন লাউয়ের।

তেরছি বাজার থেকে মদনপুর মহাসড়ক অভিমুখী প্রায় ২০০ ফুট রাস্তার দুই পাশে গড়ে ওঠা পৌষি লাউয়ের মাচা ওই এলাকার শৌখিন চাষিকে পথ দেখিয়েছে। ফেলে রাখা পতিত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝিতে চারা রোপণ করেন এখানকার কৃষকরা। ফলে বাজারে তাদের লাউ আগাম আসে।

উৎপাদনও নজর কাড়া, দামও ভালো। এখন পর্যন্ত বাজারে পর্যাপ্ত লাউ না উঠলেও তাদের উৎপাদিত লাউয়ে বাজার সয়লাব। প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন তারা। রাস্তার পাশে যার যার জমির মাথা, তার তার আবাদ- এ নিয়ে কারও সঙ্গে কারও গোলযোগ নেই। এ যেন বিকল্প পদ্ধতিতে পতিত জমিতে কৃষি বিপ্লবের এক নতুন সূচনা।

প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে শত শত পথচারীর নজর কাড়ে লাউয়ের আবাদ। চাষি মোঃ আজগর মোল্লা জানান, লাউ আবাদে শত শত মানুষের নজর কাড়লেও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের এখনও দৃষ্টিগোচর হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো পরামর্শ পাননি তারা। নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তাদের বৈপ্লবিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রথমত নিতান্তই শখের বসে রাস্তার পাশে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে বেড়া দিয়েই শুরু করেছিলেন লাউয়ের চারা রোপণ। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এ গাছ। পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে সপ্তাহে এক দিন কীটনাশক ও ওন্ডার স্প্রে করেন তারা।

আর এতেই পোকার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় গবাদি পশুর হাত থেকেও রক্ষা মেলে। সবচেয়ে বড় কথা লাউয়ের এ পরিকল্পিত আবাদে তাদের কোনো বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করতে হয় না। নিজেরাই নিজেদের ক্ষেতের শ্রমিক।

সব মিলিয়ে ভালো আছেন তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের এ শৌখিন লাউ চাষিরা। তারা এখন এলাকার মডেল চাষি। তারা মনে করেন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেলে পরিকল্পিত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষিকে নিয়ে যেতে পারতেন অনন্য উচ্চতায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার সঙ্গে বড় ভাইয়ের শ্বশুরের অনন্য বন্ধন, স্মৃতিতে আজও অমলিন দুই প্রিয় মানুষ

রাস্তার পাশে লাউ চাষে সফল হয়েছে কৃষক

আপডেট টাইম : ১২:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ রাস্তার পাশে লাউ চাষ করে সাফল্য এসেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেরছি গ্রামর শৌখিন কৃষকের। প্রথমে শখের বসে লাউয়ের আবাদ করলেও এখন রীতিমত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আবাদ করছেন তারা। তেরছি গ্রামের মাঠে প্রায় ৩০০ ফুট রাস্তার ধারে বেড়া দিয়ে গড়ে ওঠা লাউয়ের মাচা তাদের অর্থনৈতিক সাফল্য এনে দিয়েছে।

পাশাপাশি নজর কাড়ছে পথচারীদের। তাদের দেখে এলাকার অনেকে এখন সাদা জমিতেও আবাদ করছেন লাউয়ের।

তেরছি বাজার থেকে মদনপুর মহাসড়ক অভিমুখী প্রায় ২০০ ফুট রাস্তার দুই পাশে গড়ে ওঠা পৌষি লাউয়ের মাচা ওই এলাকার শৌখিন চাষিকে পথ দেখিয়েছে। ফেলে রাখা পতিত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। অগ্রহায়ণের মাঝামাঝিতে চারা রোপণ করেন এখানকার কৃষকরা। ফলে বাজারে তাদের লাউ আগাম আসে।

উৎপাদনও নজর কাড়া, দামও ভালো। এখন পর্যন্ত বাজারে পর্যাপ্ত লাউ না উঠলেও তাদের উৎপাদিত লাউয়ে বাজার সয়লাব। প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন তারা। রাস্তার পাশে যার যার জমির মাথা, তার তার আবাদ- এ নিয়ে কারও সঙ্গে কারও গোলযোগ নেই। এ যেন বিকল্প পদ্ধতিতে পতিত জমিতে কৃষি বিপ্লবের এক নতুন সূচনা।

প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে শত শত পথচারীর নজর কাড়ে লাউয়ের আবাদ। চাষি মোঃ আজগর মোল্লা জানান, লাউ আবাদে শত শত মানুষের নজর কাড়লেও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের এখনও দৃষ্টিগোচর হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো পরামর্শ পাননি তারা। নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তাদের বৈপ্লবিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রথমত নিতান্তই শখের বসে রাস্তার পাশে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে বেড়া দিয়েই শুরু করেছিলেন লাউয়ের চারা রোপণ। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এ গাছ। পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে সপ্তাহে এক দিন কীটনাশক ও ওন্ডার স্প্রে করেন তারা।

আর এতেই পোকার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় গবাদি পশুর হাত থেকেও রক্ষা মেলে। সবচেয়ে বড় কথা লাউয়ের এ পরিকল্পিত আবাদে তাদের কোনো বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করতে হয় না। নিজেরাই নিজেদের ক্ষেতের শ্রমিক।

সব মিলিয়ে ভালো আছেন তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের এ শৌখিন লাউ চাষিরা। তারা এখন এলাকার মডেল চাষি। তারা মনে করেন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেলে পরিকল্পিত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষিকে নিয়ে যেতে পারতেন অনন্য উচ্চতায়।