সাধারণত আঙুর চাষ বলতে আমরা বিদেশ বা দেশের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের কথাই ভাবি। তবে সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন নাটোরের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন তার সাফল্যের গল্প হয়ে উঠেছে। বছর খানেক আগে বাড়ির আঙ্গিনাতে অল্প পরিসরে আঙুর গাছ লাগান আমজাদ। ফেসবুক থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখে ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন।
শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য ও পরিশ্রমে তিনি সফলতা অর্জন করেন। আমজাদের আঙ্গুর চাষে উৎসাহিত হয়ে বাগানে ভিড় জমাচ্ছেন নতুন চাষীরা, নিচ্ছেন পরামর্শসহ চারা গাছ। নিয়ন্ত্রীত আবহাওয়ায় বাইকুনুর ,ভ্যালেজ ও ডিক্সন জাতের আঙ্গুর চাষ করে লাভবান হচ্ছেন আমজাদ। আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে আঙুর চাষ করা যেতে পারে বলে জানান, কৃষি কর্মকর্তা।

আমজাদ হোসেন বলেন, শুরুতে এটা শুধু শখ ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। আমজাদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে নতুন কিছু করাও সম্ভব। তার উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। প্রথম অবস্থাতে আমি শখের বসে বাইকুনুর জাতের চারটা চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনাতে রোপন করেন। পরিচর্যা শেষে একটি গাছ থেকে ৭-৮ কেজি পরিমাণে আঙ্গুর সংগ্রহ করি। সেখান থেকে আমি চিন্তা চেতনা পরিবর্তন করি বাণিজ্যিক ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করি। ফলটা যেহেতু মিষ্টি হচ্ছে ওইখান থেকে আমি বাণিজ্যিকভাবে নাটোর সদর উপজেলার বাগরোম ও কান্দিভিটা এলাকায় দুইটা বাগান করি। সেখানে বাইকুনুর জাতের সাথে রয়েছে ভ্যালেজ, ডিক্সন জাতের দুই’শ ৪৭টি আঙ্গুর গাছ। প্রতিটি গাছে আঙ্গুরে ভরপুর।
তিনি আরও বলেন, বাজার ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন আমজাদ। আমি অনেক লাভবান যারা বেকার আছে আমি তাদের বলব চাকরির পেছনে না ছুটে তারা যেন আঙ্গুর চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। তারা এখান থেকে লাভবান হতে পারবে।

স্থানীয় মানুষজন তার এই উদ্যোগ দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। সেখান থেকে অনেক নতুন চাষী তার সাথে যোগাযোগ করেন ও গাছের চারা কিনে নিয়ে যান।
বাগান দেখতে আসা মিষ্টি সরকার বলেন, ভিডিওতে আঙ্গুর চাষ দেখেছি। এখানে এসে সরাসরি বাগানে অনেক আঙ্গুর ফল দেখে ভালো লাগছে। এখান থেকে চারা কিনে বাড়ির আঙ্গিনাতে রোপন করব।
নতুন চাষী হোসেন মাহমুদ বলেন, আমি ইউটিউবে দেখার পরে আমজাদ ভাইয়ের কাছ থেকে চারা নিয়ে রোপন করি। উনার কাছ থেকে গাছ নিয়ে আমি সাফলতা পেয়েছি। আমি বাংলার মানুষদেরকে বলবো আপনারাও বেকার যারা আছেন বেকার না বাড়ির আঙ্গিনায় আঙ্গুর চাষ করেন। সফলতা আসবে।
আতিকুর করহমান আতিক বলেন, বাগানে এসে দেখছি অনেক ভালো ফল হয়েছে। আশা করি এটা আমাদের জন্য খুব ভালো । এবছর দুই বিঘা লাগানোর জন্য আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আরিফুল ইসলাম বলেন, নিজের জেলায় এই আঙ্গুর চাষ করে অনেকে স্বাবলম্বী হবে। জেলার চাহিদা পুরন করে এক সময় অন্য জেলায় আঙ্গুর রফতানি করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই দর্শনার্থী।
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, গত বছর আমজাদ হোসেন নামে এক কৃষক পলিথিন সেড নির্মিত করে সেখানে আঙ্গুর উৎপাদন করেছেন। সাথে অনেকগুলো চারাও উৎপাদন করেছে।
বিশেষ করে বাইকুনুর জাতটির ফলন খুবই ভালো এছাড়া ডিক্সন, ভ্যালেজ এ জাতগুলো কম বেশি চাষ হচ্ছে। খেতে সুস্বাদু। আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে আঙুর চাষ করা যেতে পারে। এটি একটি ভালো বিষয় দেশের উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটাতো পারবো।
Reporter Name 

























