ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন” মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: রাজনীতি ও শিল্পে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস

খালেদার জন্য ‘পাগলা’ রিজভীর কেক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৫
  • ৭৭১ বার

ঠিকভাবে তিনবেলা খাবার খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুযোগ-সুবিধা পাবেন সেই আশাও নেই। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচেই সার্বক্ষণিক তার অবস্থান।

রাজনৈতিক ওই কার্যালয়টিই যেন তার ঘর-বাড়ি। পরিচিত দলের কাউকে দেখলেই কিছু খাওয়ার জন্য কয়েকটি টাকার জন্য আকুতি করেন। কেউ দয়া করে কিছু টাকা দেন, কেউ ধমকে দূরে সরিয়ে দেন। তবে না দিলেও আপত্তি নেই। কারণ, তার একটাই কথা ‘আমি বিএনপিকে ভালোবাসি। খালেদা জিয়া তার মা। মায়ের জন্য মরতেও রাজি।’

ভাইয়ের মতো ভালোবাসেন তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে। কোকোর মৃত্যুতে দারুণভাবে শোকাহত হয়েছিলেন এ মানুষটি। না খেয়ে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে কোকোর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে গুলশান কার্যালয়ের সামনে ব্যানার সাঁটিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

শীর্ণকায় এ মানুষটির নাম রিজভী হাওলাদার। বরিশালের কোনো এক জেলায় জন্ম হলেও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ঠিকানাই সবাইকে জানান। বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সকলে জানে। তবে কোনো পদ-পদবি নেই। অনেকে তাকে পাগলা রিজভী বলেও ডাকেন। তাতে কোনো রাগ নেই। বরং মাঝে মাঝে নিজেই নিজেকে পাগলা রিজভী বলে পরিচয় দেন।

কোকোর মৃত্যুর পরে তার ভাষ্য ছিল, ‘আমি বিএনপিকে ভালবাসি, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) ভালবাসি। ম্যাডামের জন্য আমি আমার জীবন দিতে পারি। নিজের স্ত্রী-সন্তান ছাড়তে পারি।’

সেই রিজভীই এবারও নিজের জমানো টাকা দিয়ে কেক কিনে তা কেটে বিএনপি চেয়ারপারসনের ৭০তম জন্মদিন উদযাপন করলেন। মৌচাক থেকে তিন শ’ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল কেকটি। কেকে লেখা— শুভ জন্মদিন খালেদা জিয়া, প্রচারে রিজভী।

রবিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে নিচে নামতেই এ প্রতিবেদকের পথ আগলে দাঁড়ান রিজভী। হাতে থাকা কাগজের বাক্স খুলে কেক বের করে তার ছবি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। বললেন, ‘শুধু ছবি নিবেন, নিউজ করবেন না?’

পরে কেক নিয়ে চলে যান কার্যালয়ের তিনতলার কনফারেন্স রুমে। সেখানে উপস্থিত বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন। পরে নিজে এসেই কেক কাটার খবর দেন বিএনপি পাগল রিজভী।

কেন এ কেক? প্রশ্ন করলে রিজভী বলেন, ‘ম্যাডাম আমার মায়ের মতো। আমরা জন্মদিন পালন না করলে কারা করবে। আমি ম্যাডামকে ভালোবাসি। তার জন্য জীবন দিতে পারি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন”

খালেদার জন্য ‘পাগলা’ রিজভীর কেক

আপডেট টাইম : ১১:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৫

ঠিকভাবে তিনবেলা খাবার খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সুযোগ-সুবিধা পাবেন সেই আশাও নেই। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচেই সার্বক্ষণিক তার অবস্থান।

রাজনৈতিক ওই কার্যালয়টিই যেন তার ঘর-বাড়ি। পরিচিত দলের কাউকে দেখলেই কিছু খাওয়ার জন্য কয়েকটি টাকার জন্য আকুতি করেন। কেউ দয়া করে কিছু টাকা দেন, কেউ ধমকে দূরে সরিয়ে দেন। তবে না দিলেও আপত্তি নেই। কারণ, তার একটাই কথা ‘আমি বিএনপিকে ভালোবাসি। খালেদা জিয়া তার মা। মায়ের জন্য মরতেও রাজি।’

ভাইয়ের মতো ভালোবাসেন তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে। কোকোর মৃত্যুতে দারুণভাবে শোকাহত হয়েছিলেন এ মানুষটি। না খেয়ে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে কোকোর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে গুলশান কার্যালয়ের সামনে ব্যানার সাঁটিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

শীর্ণকায় এ মানুষটির নাম রিজভী হাওলাদার। বরিশালের কোনো এক জেলায় জন্ম হলেও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ঠিকানাই সবাইকে জানান। বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সকলে জানে। তবে কোনো পদ-পদবি নেই। অনেকে তাকে পাগলা রিজভী বলেও ডাকেন। তাতে কোনো রাগ নেই। বরং মাঝে মাঝে নিজেই নিজেকে পাগলা রিজভী বলে পরিচয় দেন।

কোকোর মৃত্যুর পরে তার ভাষ্য ছিল, ‘আমি বিএনপিকে ভালবাসি, ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) ভালবাসি। ম্যাডামের জন্য আমি আমার জীবন দিতে পারি। নিজের স্ত্রী-সন্তান ছাড়তে পারি।’

সেই রিজভীই এবারও নিজের জমানো টাকা দিয়ে কেক কিনে তা কেটে বিএনপি চেয়ারপারসনের ৭০তম জন্মদিন উদযাপন করলেন। মৌচাক থেকে তিন শ’ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল কেকটি। কেকে লেখা— শুভ জন্মদিন খালেদা জিয়া, প্রচারে রিজভী।

রবিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে নিচে নামতেই এ প্রতিবেদকের পথ আগলে দাঁড়ান রিজভী। হাতে থাকা কাগজের বাক্স খুলে কেক বের করে তার ছবি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। বললেন, ‘শুধু ছবি নিবেন, নিউজ করবেন না?’

পরে কেক নিয়ে চলে যান কার্যালয়ের তিনতলার কনফারেন্স রুমে। সেখানে উপস্থিত বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন। পরে নিজে এসেই কেক কাটার খবর দেন বিএনপি পাগল রিজভী।

কেন এ কেক? প্রশ্ন করলে রিজভী বলেন, ‘ম্যাডাম আমার মায়ের মতো। আমরা জন্মদিন পালন না করলে কারা করবে। আমি ম্যাডামকে ভালোবাসি। তার জন্য জীবন দিতে পারি।’