ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

‘বিচার চেয়েছি বন্দিজীবন চাইনি, এমন জানলে মামলা করতাম না, আগেই শহর ছেড়ে চলে যেতাম’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অগাস্ট ২০১৭
  • ৩৬৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বগুড়ার আলোচিত মা-মেয়েকে আদালতের নির্দেশে মেয়েকে সেফ হোমে এবং তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডিবি কার্যালয় থেকে কঠোর নিরাপত্তায় মেয়েটিকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়। এ সময় বারবার তাকে ভেজা চোখ মুছতে দেখা যায়।

অশ্রুসীক্ত নয়নে মেয়েটি গণমাধ্যমকে জানায়, ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচার চেয়েছি। বন্দিজীবন চাইনি। এমন জানলে মামলা করতাম না। তার চেয়ে শহর ছেড়ে কোথাও চলে যেতাম। কেউ আমার কষ্ট বুঝত না। এখন আমার পড়াশোনার কী হবে? আমার কলেজে ভর্তির কী হবে? এভাবে সেফ হোমে বেশি দিন রাখলে দম বন্ধ হয়ে মরে যাব। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন ‘আমাকে বাঁচান। আমি মুক্তভাবে বাঁচতে চাই। পড়াশোনা করতে চাই’।’ মেয়েটি আরো বলেন, হাসপাতালে ১১ দিন মা-মেয়ে একসঙ্গে ছিল। সোমবার রাতে মায়ের সঙ্গে ছিল ডিবি কার্যালয়ে। নির্যাতন-লাঞ্ছনার পরও মায়ের কাছাকাছি থাকায় মনে সাহস ছিল। কিন্তু এখন আলাদা থাকতে হবে, পরিবার ছেড়ে বন্দিজীবন কাটাতে হবে। এটা ভেবে কান্না পাচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার মা বলেন, ‘মেয়েকে ছেড়ে একা থাকতে খুব কষ্ট হবে। মেয়েটা আমার কাছে থাকলে এত কষ্টের মধ্যেও শান্তি পেতাম।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মা-মেয়েকে হাজির করা হয় বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এবং শিশু আদালতের বিচারক ইমদাদুল হকের এজলাসে। এরপর দুজনের নিরাপত্তা হেফাজতের আবেদন করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. আমানুল্লাহ মা-মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করেন। কিন্তু মা-মেয়ে দুজনই পরিবারের কাছে যেতে চায়। এ পর্যায়ে আদালত মেয়েটির বাবার বক্তব্য শুনতে চান। মেয়েটির বাবা আদালতে হাজির হয়ে বলেন, তাঁর নিজের কোনো বাড়ি নেই। স্ত্রী-কন্যার নিরাপত্তা দিতে পারবেন না।

পরে আদালত মেয়েটিকে রাজশাহী সেফ হোমে এবং মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

‘বিচার চেয়েছি বন্দিজীবন চাইনি, এমন জানলে মামলা করতাম না, আগেই শহর ছেড়ে চলে যেতাম’

আপডেট টাইম : ০৭:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অগাস্ট ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বগুড়ার আলোচিত মা-মেয়েকে আদালতের নির্দেশে মেয়েকে সেফ হোমে এবং তার মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডিবি কার্যালয় থেকে কঠোর নিরাপত্তায় মেয়েটিকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়। এ সময় বারবার তাকে ভেজা চোখ মুছতে দেখা যায়।

অশ্রুসীক্ত নয়নে মেয়েটি গণমাধ্যমকে জানায়, ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচার চেয়েছি। বন্দিজীবন চাইনি। এমন জানলে মামলা করতাম না। তার চেয়ে শহর ছেড়ে কোথাও চলে যেতাম। কেউ আমার কষ্ট বুঝত না। এখন আমার পড়াশোনার কী হবে? আমার কলেজে ভর্তির কী হবে? এভাবে সেফ হোমে বেশি দিন রাখলে দম বন্ধ হয়ে মরে যাব। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন ‘আমাকে বাঁচান। আমি মুক্তভাবে বাঁচতে চাই। পড়াশোনা করতে চাই’।’ মেয়েটি আরো বলেন, হাসপাতালে ১১ দিন মা-মেয়ে একসঙ্গে ছিল। সোমবার রাতে মায়ের সঙ্গে ছিল ডিবি কার্যালয়ে। নির্যাতন-লাঞ্ছনার পরও মায়ের কাছাকাছি থাকায় মনে সাহস ছিল। কিন্তু এখন আলাদা থাকতে হবে, পরিবার ছেড়ে বন্দিজীবন কাটাতে হবে। এটা ভেবে কান্না পাচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার মা বলেন, ‘মেয়েকে ছেড়ে একা থাকতে খুব কষ্ট হবে। মেয়েটা আমার কাছে থাকলে এত কষ্টের মধ্যেও শান্তি পেতাম।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মা-মেয়েকে হাজির করা হয় বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এবং শিশু আদালতের বিচারক ইমদাদুল হকের এজলাসে। এরপর দুজনের নিরাপত্তা হেফাজতের আবেদন করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. আমানুল্লাহ মা-মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করেন। কিন্তু মা-মেয়ে দুজনই পরিবারের কাছে যেতে চায়। এ পর্যায়ে আদালত মেয়েটির বাবার বক্তব্য শুনতে চান। মেয়েটির বাবা আদালতে হাজির হয়ে বলেন, তাঁর নিজের কোনো বাড়ি নেই। স্ত্রী-কন্যার নিরাপত্তা দিতে পারবেন না।

পরে আদালত মেয়েটিকে রাজশাহী সেফ হোমে এবং মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।