ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীমণি ইস্যুতে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ০ বার

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সবশেষ ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

ঢাকার আশুলিয়ার বোট ক্লাবে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন ডিবি তৎকালীন কর্মকর্তা সাকলায়েন শিথিল। র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিত্রনায়িকা পরীমণিকে সিআইডিতে হস্তান্তর করেছিল বনানী থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব। মামলায় পরীমণির সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়েই গণমাধ্যমে উঠে আসে গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরীমণির ‘অন্তরঙ্গতা’র কথা।

২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।

ওই মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীমণি ইস্যুতে বাধ্যতামূলক অবসরে এডিসি সাকলায়েন

আপডেট টাইম : ১০:০৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সবশেষ ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

ঢাকার আশুলিয়ার বোট ক্লাবে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন ডিবি তৎকালীন কর্মকর্তা সাকলায়েন শিথিল। র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিত্রনায়িকা পরীমণিকে সিআইডিতে হস্তান্তর করেছিল বনানী থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব। মামলায় পরীমণির সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়েই গণমাধ্যমে উঠে আসে গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরীমণির ‘অন্তরঙ্গতা’র কথা।

২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।

ওই মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির।