ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন প্রধানমন্ত্রী দেশকে তাঁর পিতার মতোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : ভূমিমন্ত্রী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় মেসি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার জাতীয় পতাকা বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানালো বাংলাদেশ ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুশল বিনিময়

সৎকর্মে অবিচলতা পরম সৌভাগ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০১৭
  • ৩৮২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  সৎকর্ম মানুষের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অর্জন, যার দ্বারা সে তার রবকে সন্তুষ্ট করে। দুনিয়ায় সুখ পায়। সবক্ষেত্রে সফল হয়। আখেরাতে উচ্চমর্যাদা লাভ করে। আল্লাহ তার জন্য যে অবস্থান নির্ধারণ করে রেখেছেন, সেখানে উত্তীর্ণ হয়। আল্লাহ বান্দার জন্য ইবাদতকে যখন সহজ করেন, কর্মে নিষ্ঠা দানের মাধ্যমে তাকে দয়া করেন, নবীর সুন্নত ও দিকনির্দেশনা মেনে চলা ও আঁকড়ে ধরার তৌফিক দেন, তখন আল্লাহ তাকে বিশাল মর্যাদায় ভূষিত করেন। তাকে সর্বোত্তম কাম্য বস্তু দান করেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ দুনিয়া দেন যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না। দ্বীন শুধু তাকেই দেন, যাকে তিনি ভালোবাসেন। তাই আল্লাহ যাকে দ্বীন দিয়েছেন তাকে তিনি ভালোবেসেছেন।’ (আহমাদ)। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন।’ (সূরা মায়েদা : ২৭)।
বান্দার কর্তব্য হলো সার্বক্ষণিক অবিচল থেকে তাকে দেয়া আল্লাহর আনুগত্যের এ মর্যাদার কৃতজ্ঞতা আদায় করা। যে সঠিক পথে সর্বদা অটল থাকে, সে যাবতীয় কল্যাণ পেয়ে সফল হয় এবং ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে মুক্তি পায়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা বলেছে আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক, তারপর তাতে অবিচল থেকেছে, তাদের কাছে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়ে বলেন, তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হতো।’ (সূরা ফুসসিলাত : ৩০)। সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ইসলাম বিষয়ে এমন কিছু বলুন, যা আপনি ছাড়া আর কাউকে আমি জিজ্ঞেস করব না। তিনি বললেন, ‘বল, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, তারপর অবিচল থাকো।’ (মুসলিম)।
যেসব সৎকর্ম দ্বারা আল্লাহ তাঁর পছন্দের বান্দাদের সম্মানিত করেছেন, সেগুলোর প্রতি অবশ্যই যতœবান হতে হবে। যেসব গোনাহ ও পাপ সৎকর্মগুলোকে বিনষ্ট করে দেয় অথবা অন্যায় ও অপরাধের কারণে সওয়াবে ঘাটতি সৃষ্টি করে, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের কর্মগুলোকে বিনষ্ট করো না।’ (সূরা মুহাম্মাদ : ৩৩)। তুমি তোমার বর্তমানে তোমার অতীতের চেয়ে উত্তম হতে চেষ্টা করো এবং বর্তমানের চেয়ে তোমার ভবিষ্যতে উত্তম হতে পরিশ্রম করো। ইবাদত করতে ও হারাম কাজ থেকে দূরে থাকতে যে নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। তাকে সঠিক রাস্তা দেখান। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, নিশ্চয়ই আমি তাদের আমার পথ দেখাব। অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা আনকাবুত : ৬৯)।
আজ প্রতিযোগিতা এবং কাল অগ্রগামীদের পুরস্কার। যে ক্ষতির কোনো মাশুল হয় না, যে আঘাতের নিরাময় নেই, যে দুর্ভাগ্যের পরে কোনো সৌভাগ্য নেই, সেটি হলো ভালো কাজ করার পর সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া। অবিচলতায় ধস নামা। শয়তান মানুষের পেছনে ওত পেতে থাকে। ভালো কাজের সব পথ আগলে রেখে তাকে আল্লাহর কাছে থেকে দূরে সরায়। বাধা দেয়। বিভিন্ন সন্দেহ, সংশয় ও বেদাতকে মোহনীয় করে সৎকর্মগুলো ধ্বংস করে। শয়তানের অপতৎপরতা প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘সে বলল, আপনি আমাকে যেমন উ™£ান্ত করেছেন, আমিও অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব।’ (সূরা আরাফ : ১৬)।
তবে কল্যাণের পথও কম নয়। দয়া ও ক্ষমার পথ প্রশস্ত। আল্লাহর রহমত সর্বব্যাপী। শুধু কল্যাণবঞ্চিত নিঃস্ব ছাড়া আল্লাহর পথে কেউ ধ্বংস হয় না। ইবাদত ও কল্যাণকর কাজ প্রতিটি মাস ও প্রতিটি দিনেই আছে। আল্লাহ অল্প কাজ কবুল করে বিরাট বিনিময় দিয়ে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ অণু পরিমাণও অবিচার করেন না, একটি পুণ্য থাকলেও তাকে দ্বিগুণ করবেন এবং তার পক্ষ থেকে বিরাট বিনিময় প্রদান করবেন।’ (সূরা নিসা : ৪০)।
বিপুল কল্যাণ, প্রচুর লাভজনক ও সুদূরপ্রসারী ফলপ্রসূ ভালো কাজগুলোর অন্যতম হলো ঋণগ্রস্ত লোকদের ঋণ আদায়ে সাহায্য করা। তাদের ওপর ন্যস্ত ঋণের অর্থ পরিশোধ করে দেয়া। আল্লাহর কাছে বড় বদলা পাওয়ার আশায়, বিশেষ করে যারা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কারাগারে বন্দি হয়ে আছে। যারা দরদি দাতা একজন উদ্ধারকারীর দিকে তাকিয়ে আছে। যার হাত ধরে ডুবন্ত ব্যক্তির মতো সে শান্তির স্থলভাগে উঠে আসবে। ঈদে-উৎসবে অন্য লোকরা আনন্দে থাকলেও তারা ঋণের কারণে দুশ্চিন্তার অতলে হাবুডুবু খাচ্ছে। এরচেয়েও করুণ হলো তাদের পরিবারের লোকদের দুঃখ, যারা এদের কষ্ট ও অভাব দেখে আতঙ্কে থাকে।
মুসলমানরা দয়াবান ও দরদি।
ধনী লোকদের সম্পদে জাকাতের ও সদকার এত পরিমাণ অর্থ আছে, যা অভাবীদের চাহিদার চেয়েও বেশি হবে। কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঋণের দায়ে কারাবাসকারীদের পরিচয় জানা এবং নিশ্চিতভাবে পাওনাদারদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেয়া সহজ হবে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘দান করলে সম্পদ কমে না।’ মানুষের বিপদ দূর করার চেয়ে সৌভাগ্য আর কী আছে? নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের দুনিয়ার একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি বিপদ দূর করে দেবেন। যে বিপন্ন লোকের কষ্ট লাঘব করে আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার কাজ সহজ করে দেন। যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করবে, আল্লাহও ততক্ষণ তাকে সাহায্য করেন।’ (মুসলিম)।

১৩ শাওয়াল ১৪৩৮ হি. মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন মাহমুদুল হাসান জুনাইদ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন

সৎকর্মে অবিচলতা পরম সৌভাগ্য

আপডেট টাইম : ০২:০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  সৎকর্ম মানুষের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অর্জন, যার দ্বারা সে তার রবকে সন্তুষ্ট করে। দুনিয়ায় সুখ পায়। সবক্ষেত্রে সফল হয়। আখেরাতে উচ্চমর্যাদা লাভ করে। আল্লাহ তার জন্য যে অবস্থান নির্ধারণ করে রেখেছেন, সেখানে উত্তীর্ণ হয়। আল্লাহ বান্দার জন্য ইবাদতকে যখন সহজ করেন, কর্মে নিষ্ঠা দানের মাধ্যমে তাকে দয়া করেন, নবীর সুন্নত ও দিকনির্দেশনা মেনে চলা ও আঁকড়ে ধরার তৌফিক দেন, তখন আল্লাহ তাকে বিশাল মর্যাদায় ভূষিত করেন। তাকে সর্বোত্তম কাম্য বস্তু দান করেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ দুনিয়া দেন যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না। দ্বীন শুধু তাকেই দেন, যাকে তিনি ভালোবাসেন। তাই আল্লাহ যাকে দ্বীন দিয়েছেন তাকে তিনি ভালোবেসেছেন।’ (আহমাদ)। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ধর্মভীরুদের পক্ষ থেকেই তো গ্রহণ করেন।’ (সূরা মায়েদা : ২৭)।
বান্দার কর্তব্য হলো সার্বক্ষণিক অবিচল থেকে তাকে দেয়া আল্লাহর আনুগত্যের এ মর্যাদার কৃতজ্ঞতা আদায় করা। যে সঠিক পথে সর্বদা অটল থাকে, সে যাবতীয় কল্যাণ পেয়ে সফল হয় এবং ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে মুক্তি পায়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা বলেছে আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক, তারপর তাতে অবিচল থেকেছে, তাদের কাছে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়ে বলেন, তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেয়া হতো।’ (সূরা ফুসসিলাত : ৩০)। সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ইসলাম বিষয়ে এমন কিছু বলুন, যা আপনি ছাড়া আর কাউকে আমি জিজ্ঞেস করব না। তিনি বললেন, ‘বল, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, তারপর অবিচল থাকো।’ (মুসলিম)।
যেসব সৎকর্ম দ্বারা আল্লাহ তাঁর পছন্দের বান্দাদের সম্মানিত করেছেন, সেগুলোর প্রতি অবশ্যই যতœবান হতে হবে। যেসব গোনাহ ও পাপ সৎকর্মগুলোকে বিনষ্ট করে দেয় অথবা অন্যায় ও অপরাধের কারণে সওয়াবে ঘাটতি সৃষ্টি করে, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের কর্মগুলোকে বিনষ্ট করো না।’ (সূরা মুহাম্মাদ : ৩৩)। তুমি তোমার বর্তমানে তোমার অতীতের চেয়ে উত্তম হতে চেষ্টা করো এবং বর্তমানের চেয়ে তোমার ভবিষ্যতে উত্তম হতে পরিশ্রম করো। ইবাদত করতে ও হারাম কাজ থেকে দূরে থাকতে যে নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। তাকে সঠিক রাস্তা দেখান। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, নিশ্চয়ই আমি তাদের আমার পথ দেখাব। অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা আনকাবুত : ৬৯)।
আজ প্রতিযোগিতা এবং কাল অগ্রগামীদের পুরস্কার। যে ক্ষতির কোনো মাশুল হয় না, যে আঘাতের নিরাময় নেই, যে দুর্ভাগ্যের পরে কোনো সৌভাগ্য নেই, সেটি হলো ভালো কাজ করার পর সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া। অবিচলতায় ধস নামা। শয়তান মানুষের পেছনে ওত পেতে থাকে। ভালো কাজের সব পথ আগলে রেখে তাকে আল্লাহর কাছে থেকে দূরে সরায়। বাধা দেয়। বিভিন্ন সন্দেহ, সংশয় ও বেদাতকে মোহনীয় করে সৎকর্মগুলো ধ্বংস করে। শয়তানের অপতৎপরতা প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘সে বলল, আপনি আমাকে যেমন উ™£ান্ত করেছেন, আমিও অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব।’ (সূরা আরাফ : ১৬)।
তবে কল্যাণের পথও কম নয়। দয়া ও ক্ষমার পথ প্রশস্ত। আল্লাহর রহমত সর্বব্যাপী। শুধু কল্যাণবঞ্চিত নিঃস্ব ছাড়া আল্লাহর পথে কেউ ধ্বংস হয় না। ইবাদত ও কল্যাণকর কাজ প্রতিটি মাস ও প্রতিটি দিনেই আছে। আল্লাহ অল্প কাজ কবুল করে বিরাট বিনিময় দিয়ে দেন। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ অণু পরিমাণও অবিচার করেন না, একটি পুণ্য থাকলেও তাকে দ্বিগুণ করবেন এবং তার পক্ষ থেকে বিরাট বিনিময় প্রদান করবেন।’ (সূরা নিসা : ৪০)।
বিপুল কল্যাণ, প্রচুর লাভজনক ও সুদূরপ্রসারী ফলপ্রসূ ভালো কাজগুলোর অন্যতম হলো ঋণগ্রস্ত লোকদের ঋণ আদায়ে সাহায্য করা। তাদের ওপর ন্যস্ত ঋণের অর্থ পরিশোধ করে দেয়া। আল্লাহর কাছে বড় বদলা পাওয়ার আশায়, বিশেষ করে যারা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কারাগারে বন্দি হয়ে আছে। যারা দরদি দাতা একজন উদ্ধারকারীর দিকে তাকিয়ে আছে। যার হাত ধরে ডুবন্ত ব্যক্তির মতো সে শান্তির স্থলভাগে উঠে আসবে। ঈদে-উৎসবে অন্য লোকরা আনন্দে থাকলেও তারা ঋণের কারণে দুশ্চিন্তার অতলে হাবুডুবু খাচ্ছে। এরচেয়েও করুণ হলো তাদের পরিবারের লোকদের দুঃখ, যারা এদের কষ্ট ও অভাব দেখে আতঙ্কে থাকে।
মুসলমানরা দয়াবান ও দরদি।
ধনী লোকদের সম্পদে জাকাতের ও সদকার এত পরিমাণ অর্থ আছে, যা অভাবীদের চাহিদার চেয়েও বেশি হবে। কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঋণের দায়ে কারাবাসকারীদের পরিচয় জানা এবং নিশ্চিতভাবে পাওনাদারদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেয়া সহজ হবে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘দান করলে সম্পদ কমে না।’ মানুষের বিপদ দূর করার চেয়ে সৌভাগ্য আর কী আছে? নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের দুনিয়ার একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি বিপদ দূর করে দেবেন। যে বিপন্ন লোকের কষ্ট লাঘব করে আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার কাজ সহজ করে দেন। যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করবে, আল্লাহও ততক্ষণ তাকে সাহায্য করেন।’ (মুসলিম)।

১৩ শাওয়াল ১৪৩৮ হি. মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন মাহমুদুল হাসান জুনাইদ