ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী ৩১ অক্টোবর জামায়াতের লংমার্চ, প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পোশাক রপ্তানিতে বড় বিপদের আভাস, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইইউর বাজার

সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:২২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তা চলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে অবরোধের কারণে উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন সাজেক থেকে ফিরতে থাকা প্রায় দুই হাজার পর্যটক। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় তাদের বহনকারী গাড়িবহর খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধকারীদের অবস্থানের কারণে তারা সেখানে আটকে পড়েন।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে পর্যটকবাহী গাড়িবহর সকাল ১১টার দিকে ওই এলাকা ছেড়ে যায়। এরপরই গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি বুধবার তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে নিরাপদে এলাকা ছাড়তে বলা হয়। সেই নির্দেশনা মেনেই সকালে পর্যটকেরা সাজেক থেকে ফিরছিলেন।

পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন জানান, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় সাজেক থেকে গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়ি ছাড়ে। প্রায় দুই হাজার পর্যটক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাহারায় রওনা হন।

অবরোধকারী সংগঠনগুলোর দাবি, সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এ দাবিসহ তিন দফা দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অনেক পর্যটক আগাম বুকিং বাতিল করেছেন।

তিনি বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়াও ব্যাহত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী

সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি

আপডেট টাইম : ০১:২২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তা চলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে অবরোধের কারণে উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন সাজেক থেকে ফিরতে থাকা প্রায় দুই হাজার পর্যটক। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় তাদের বহনকারী গাড়িবহর খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধকারীদের অবস্থানের কারণে তারা সেখানে আটকে পড়েন।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে পর্যটকবাহী গাড়িবহর সকাল ১১টার দিকে ওই এলাকা ছেড়ে যায়। এরপরই গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি বুধবার তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে নিরাপদে এলাকা ছাড়তে বলা হয়। সেই নির্দেশনা মেনেই সকালে পর্যটকেরা সাজেক থেকে ফিরছিলেন।

পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন জানান, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় সাজেক থেকে গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাড়ি ছাড়ে। প্রায় দুই হাজার পর্যটক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাহারায় রওনা হন।

অবরোধকারী সংগঠনগুলোর দাবি, সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এ দাবিসহ তিন দফা দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অনেক পর্যটক আগাম বুকিং বাতিল করেছেন।

তিনি বলেন, সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা এবং কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়াও ব্যাহত হয়।