ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

নতুন বাজেটে প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর দিল মালয়েশিয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ বার

মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ও প্রবাসী শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জুন থেকে নতুন এই মজুরি কার্যকর হবে বলে শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এতে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) পার্লামেন্টে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। খবর দ্য এজ মালয়েশিয়ার।

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরির বিধান স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকেরাও দেশটির নাগরিকদের মতো একই আইনগত ন্যূনতম মূল মজুরি পাবে।

২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু হয়। তখন মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। পরে ২০১৬ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালুর সময়ের তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি হবে।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, বার্ষিক লেনদেন ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম; এমন অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান নতুন মজুরির বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবে। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যবসায়িক কাঠামো ও কার্যক্রম নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যকার ব্যবধান কমানো প্রয়োজন। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়লেও আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি।

দেশটির মজুরি কাঠামোয় আরও পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আধা-দক্ষ শ্রমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ন্যূনতম মজুরি কেবল আয়ের একটি প্রাথমিক সীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু দক্ষ শ্রমিকেরা এখনো তাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন পাচ্ছেন না।

এদিকে, অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে করবিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করেছে মালয়েশিয়া সরকার। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোকে শ্রমিকদের বেতন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দিতে হবে। কর্মসংস্থান আইন অনুমোদিত পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধ করলেই কেবল বেতন বাবদ ব্যয়ের ওপর করছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। নতুন মজুরি কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি নীতির আওতাভুক্ত নেপালি ও অন্যান্য দেশের বিদেশি শ্রমিকেরাও উপকৃত হবেন। তবে ২০২৭ সালের জুনে এটি কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এবং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অব্যাহতির কারণে সব শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে বাড়তি মজুরির সুবিধা পাবেন না।

সূত্র : দ্য স্টার ও দ্য এজ মালয়েশিয়া

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন বাজেটে প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর দিল মালয়েশিয়া

আপডেট টাইম : ০৮:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ও প্রবাসী শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জুন থেকে নতুন এই মজুরি কার্যকর হবে বলে শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এতে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) পার্লামেন্টে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। খবর দ্য এজ মালয়েশিয়ার।

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরির বিধান স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকেরাও দেশটির নাগরিকদের মতো একই আইনগত ন্যূনতম মূল মজুরি পাবে।

২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু হয়। তখন মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। পরে ২০১৬ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালুর সময়ের তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি হবে।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, বার্ষিক লেনদেন ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম; এমন অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান নতুন মজুরির বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবে। ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যবসায়িক কাঠামো ও কার্যক্রম নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যকার ব্যবধান কমানো প্রয়োজন। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়লেও আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি।

দেশটির মজুরি কাঠামোয় আরও পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আধা-দক্ষ শ্রমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ন্যূনতম মজুরি কেবল আয়ের একটি প্রাথমিক সীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু দক্ষ শ্রমিকেরা এখনো তাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন পাচ্ছেন না।

এদিকে, অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে করবিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করেছে মালয়েশিয়া সরকার। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোকে শ্রমিকদের বেতন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দিতে হবে। কর্মসংস্থান আইন অনুমোদিত পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধ করলেই কেবল বেতন বাবদ ব্যয়ের ওপর করছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। নতুন মজুরি কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি নীতির আওতাভুক্ত নেপালি ও অন্যান্য দেশের বিদেশি শ্রমিকেরাও উপকৃত হবেন। তবে ২০২৭ সালের জুনে এটি কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এবং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অব্যাহতির কারণে সব শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে বাড়তি মজুরির সুবিধা পাবেন না।

সূত্র : দ্য স্টার ও দ্য এজ মালয়েশিয়া