ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শাহবাজ শরিফের সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এর বিকল্প অকল্পনীয় : খলিলুর রহমান সৌদি আরবকে সহায়তায় জরুরি বৈঠকে তুরস্ক-পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন, ভাষণে বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশের রূপরেখা: মাহ্দী আমিন ৫ জেলার চরে অর্থকরী ফসল বাদাম ও কাউন প্রয়োজন সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বদলে যাবে কৃষকের ভাগ্য আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে হালান্ডের জোড়া গোলে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান নরওয়ের

সৌদি আরবকে সহায়তায় জরুরি বৈঠকে তুরস্ক-পাকিস্তান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার

ইয়েমেনের হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবকে সহায়তার উপায় নিয়ে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই বৈঠকে দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর প্রধানরা অংশ নেবেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি সেনাদের হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। হুথিদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। এর আগে মক্কা, জেদ্দা ও প্রধান লোহিত সাগরীয় তেলবন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরব।

হামলার মধ্যেই সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বৈঠক করেন। বৈঠকে মক্কাসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের সেনাপ্রধানদের দ্রুত বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান হুথিদের কর্মকাণ্ড থেকে তেহরানকে দূরে রাখার বক্তব্য দেওয়ার পরপরই এই বৈঠকের ঘোষণা আসে। বৃহস্পতিবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হুথিরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবের আওতায় সব ফ্রন্টে লেবাননসহ সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি রয়েছে। এরপর হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র নয়টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত ১০ দিনের গড়ের প্রায় অর্ধেক। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে।

এদিকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল সীমিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল রপ্তানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।

ইরান হুথিদের কতটা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করে, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে ইয়েমেনের সরকার, ইরানি ও আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল বরাবর হুথিদের অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সরাসরি নির্দেশনা ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

সৌদি আরবকে সহায়তায় জরুরি বৈঠকে তুরস্ক-পাকিস্তান

আপডেট টাইম : ০৩:০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবকে সহায়তার উপায় নিয়ে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই বৈঠকে দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর প্রধানরা অংশ নেবেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি সেনাদের হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। হুথিদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। এর আগে মক্কা, জেদ্দা ও প্রধান লোহিত সাগরীয় তেলবন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরব।

হামলার মধ্যেই সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বৈঠক করেন। বৈঠকে মক্কাসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের সেনাপ্রধানদের দ্রুত বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান হুথিদের কর্মকাণ্ড থেকে তেহরানকে দূরে রাখার বক্তব্য দেওয়ার পরপরই এই বৈঠকের ঘোষণা আসে। বৃহস্পতিবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হুথিরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবের আওতায় সব ফ্রন্টে লেবাননসহ সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়া, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি রয়েছে। এরপর হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র নয়টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত ১০ দিনের গড়ের প্রায় অর্ধেক। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে আশাবাদ তৈরি হওয়ায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে।

এদিকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল সীমিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল রপ্তানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।

ইরান হুথিদের কতটা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করে, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে ইয়েমেনের সরকার, ইরানি ও আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল বরাবর হুথিদের অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সরাসরি নির্দেশনা ছিল।