ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় সহনশীল অর্থনীতির তাগিদ পরিবেশমন্ত্রীর হুতির হামলায় সৌদির ফ্লাইটে ব্যাঘাত, বিড়ম্বনায় পবিত্র ওমরাহ যাত্রীরা চলনবিল পাখির কলকাকলীতে মুখরিত ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান ৪০০ অতিথির সৌদিতে এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন ইবি শিক্ষার্থীর দল দুর্গাপূজাকে ঘিরে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ : ডেপুটি স্পিকার

নদীর বুকে পিলার আছে শুধু, সেতুর নেই দেখা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৩ বার

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কায়েতকান্দা গ্রামের সামনে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৩২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ বছর পরও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় নদী পারাপারে নৌকাই এখন ভরসা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৭ কোটি ৮২ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের জন্য তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ৮ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দিলে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও সেখান থেকে চলে যান।

কায়েতকান্দা গ্রামের সামনে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির এক পাশে মধ্যনগর গ্রাম এবং অপর পাশে কায়েতকান্দা গ্রাম। সরেজমিন দেখা গেছে, কায়েতকান্দা গ্রামের পাশে সেতুটির পাঁচটি পিলার নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর ওপরের কাজ ঝুলে আছে। অপর পাশে মধ্যনগর গ্রামের পাড়ে পাঁচটি পিলারের ওপর সেতুর কাঠামোর কিছু অংশের কাজ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণসামগ্রী ও অসম্পূর্ণ কাঠামো পড়ে আছে।

মধ্যনগর হাওর-অধ্যুষিত বিচ্ছিন্ন একটি উপজেলা। চারটি ইউনিয়নের মধ্যে উপজেলা সদর ইউনিয়নের সঙ্গে অন্য তিন ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। সোমেশ্বরী নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে চার ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ চালু হবে। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা নদী পারাপারে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী পুল ব্যবহার করেন। বর্ষায় নদীতে পানি বেড়ে গেলে নৌকায় পারাপার করতে হয়।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় চার ইউনিয়নের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাকাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল এহসান বলেন, ২১ মাস ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপজেলা সদরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে।

এলজিইডির ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন বলেন, সেতুটির প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কাজ শেষ না করায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। ২১ মাস ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য তিন মাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হলেও ঠিকাদার নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। দুই সপ্তাহ আগে আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় উপজেলাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি

নদীর বুকে পিলার আছে শুধু, সেতুর নেই দেখা

আপডেট টাইম : ১১:০০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কায়েতকান্দা গ্রামের সামনে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৩২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ বছর পরও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় নদী পারাপারে নৌকাই এখন ভরসা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৭ কোটি ৮২ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের জন্য তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ৮ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দিলে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও সেখান থেকে চলে যান।

কায়েতকান্দা গ্রামের সামনে সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির এক পাশে মধ্যনগর গ্রাম এবং অপর পাশে কায়েতকান্দা গ্রাম। সরেজমিন দেখা গেছে, কায়েতকান্দা গ্রামের পাশে সেতুটির পাঁচটি পিলার নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর ওপরের কাজ ঝুলে আছে। অপর পাশে মধ্যনগর গ্রামের পাড়ে পাঁচটি পিলারের ওপর সেতুর কাঠামোর কিছু অংশের কাজ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণসামগ্রী ও অসম্পূর্ণ কাঠামো পড়ে আছে।

মধ্যনগর হাওর-অধ্যুষিত বিচ্ছিন্ন একটি উপজেলা। চারটি ইউনিয়নের মধ্যে উপজেলা সদর ইউনিয়নের সঙ্গে অন্য তিন ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। সোমেশ্বরী নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হলে চার ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ চালু হবে। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা নদী পারাপারে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী পুল ব্যবহার করেন। বর্ষায় নদীতে পানি বেড়ে গেলে নৌকায় পারাপার করতে হয়।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় চার ইউনিয়নের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাকাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল এহসান বলেন, ২১ মাস ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপজেলা সদরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে।

এলজিইডির ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন বলেন, সেতুটির প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কাজ শেষ না করায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। ২১ মাস ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট কাজের জন্য তিন মাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হলেও ঠিকাদার নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। দুই সপ্তাহ আগে আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় উপজেলাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।