ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতার সামনে চারটি বড় পরীক্ষা: গুতেরেস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৫ বার

যুদ্ধ ও শান্তি, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)- এই চারটি বিষয় মানবতার জন্য ক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, এসব সংকটের মোকাবিলাই নির্ধারণ করবে বিশ্ব সহযোগিতার দিকে এগোবে, নাকি আরও বিভক্ত হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে গুতেরেস বলেন, বিশ্বে ক্ষমতার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এআই ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার এই পরিবর্তনের প্রধান দিক।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ক্ষমতা আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতা নয়। সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষমতা, যা সবার জন্য কার্যকর।

গুতেরেস বলেন, বিশ্বে বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধের সময় বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা, মানবিক সহায়তাকর্মীদের হত্যা, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা ও দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান এবং বিশ্বকে প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোটে বিভক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।

গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারের সংঘাত প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি অনেক সময় শুধু ‘কম মাত্রার আগুনে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে বেসামরিক মানুষ এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তিনি রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আফ্রিকান প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টিকে ‘অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে সংস্কারের আহ্বান জানান।

বৈষম্য প্রসঙ্গে গুতেরেস দ্রুত ঋণমুক্তি, শক্তিশালী বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক ও আইএমএফের বিশেষ ড্রয়িং রাইটসে ন্যায্যতর প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কোটি কোটি মানুষ এখনো মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত।

জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব, সদর দপ্তরের কর্মী ও পেশাগত পদগুলোতে পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জিত হয়েছে বলে জানান গুতেরেস।

‘সমতা কোনো স্বপ্ন নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত’, বলেন গুতেরেস।

এআই পরিচালনায় বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কখনোই যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার সামনে চারটি বড় পরীক্ষা: গুতেরেস

আপডেট টাইম : ১০:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ ও শান্তি, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)- এই চারটি বিষয় মানবতার জন্য ক্ষমতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, এসব সংকটের মোকাবিলাই নির্ধারণ করবে বিশ্ব সহযোগিতার দিকে এগোবে, নাকি আরও বিভক্ত হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে গুতেরেস বলেন, বিশ্বে ক্ষমতার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এআই ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার এই পরিবর্তনের প্রধান দিক।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ক্ষমতা আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতা নয়। সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষমতা, যা সবার জন্য কার্যকর।

গুতেরেস বলেন, বিশ্বে বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে। যুদ্ধের সময় বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা, মানবিক সহায়তাকর্মীদের হত্যা, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা ও দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান এবং বিশ্বকে প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোটে বিভক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।

গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারের সংঘাত প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি অনেক সময় শুধু ‘কম মাত্রার আগুনে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে বেসামরিক মানুষ এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তিনি রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আফ্রিকান প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টিকে ‘অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে সংস্কারের আহ্বান জানান।

বৈষম্য প্রসঙ্গে গুতেরেস দ্রুত ঋণমুক্তি, শক্তিশালী বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক ও আইএমএফের বিশেষ ড্রয়িং রাইটসে ন্যায্যতর প্রবেশাধিকারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কোটি কোটি মানুষ এখনো মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত।

জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব, সদর দপ্তরের কর্মী ও পেশাগত পদগুলোতে পূর্ণ লিঙ্গসমতা অর্জিত হয়েছে বলে জানান গুতেরেস।

‘সমতা কোনো স্বপ্ন নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত’, বলেন গুতেরেস।

এআই পরিচালনায় বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কখনোই যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।