ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৯ সেপ্টেম্বর এলেই বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের মনে পড়ে যায় এক তরুণ নায়কের মুখ। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই যিনি ঢালিউডের ইতিহাসে নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা এক অধ্যায়। তিনি সালমান শাহ। আজ তার জন্মদিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া স্বপ্নের এই নায়ক ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তিন দশক পরও তা ম্লান হয়নি।
জন্মদিনে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তদের স্মৃতিতে ফিরছেন সালমান শাহ। তাকে ঘিরে স্মৃতিচারণায় সামিল হয়েছেন তার অন্যতম জনপ্রিয় সহশিল্পী শাবনূরও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে প্রয়াত নায়ককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তুলে ধরেছেন তার ব্যক্তিত্ব ও মানবিকতার নানা স্মৃতি।
সালমান শাহকে স্মরণ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ!’ এরপর নব্বইয়ের দশকের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি জানান, সময় অনেক পেরিয়ে গেলেও শুটিংয়ের স্মৃতিগুলো এখনো তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। শাবনূরের কাছে সালমান শুধু জনপ্রিয় একজন নায়ক ছিলেন না, ছিলেন অসাধারণ হৃদয়ের একজন মানুষ।
শুটিং সেটে সহকর্মীদের সঙ্গে সালমানের আচরণ কেমন ছিল, সেই স্মৃতিও তুলে ধরেছেন শাবনূর। তার ভাষ্য, ইউনিটের কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ অভিনয়শিল্পী—কাউকেই ছোট করে দেখতেন না সালমান। বরং সবার খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো এবং আপন করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই নিজের আলাদা মানবিক পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি।
শাবনূর লিখেছেন, ‘শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে।’
সালমানের সেই মানবিকতাকেই তার দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে স্মরণ করেছেন শাবনূর। তার মতে, সুন্দর মনের এই মানুষটির কারণেই এত বছর পরও মানুষের হৃদয়ে একইভাবে জায়গা করে আছেন তিনি।
সময়ের দূরত্ব পেরিয়ে সালমান কীভাবে এখনো তার স্মৃতিতে ফিরে আসেন, সেটিও জানিয়েছেন শাবনূর। পুরনো কোনো গান কিংবা সালমান অভিনীত কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লেই নব্বইয়ের দশকের সেই দিনগুলো যেন আবার ফিরে আসে বলে জানান তিনি। শাবনূরের কথায়, ‘পুরনো কোনো গান শুনলে কিংবা তোমার কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয়, তুমি যেন আবার ফিরে এসেছ সেই সোনালী দিনগুলোতে।’
প্রিয় সহকর্মীর আত্মার শান্তি কামনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা ও জান্নাত প্রার্থনা করেছেন শাবনূর। একই সঙ্গে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা অসম্মানজনক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শাবনূর বলেন, ‘প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সব সময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’
১৯৯৩ সালে মৌসুমীর বিপরীতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। পর্দায় তার স্মার্ট উপস্থিতি, অভিনয়শৈলী ও আলাদা ব্যক্তিত্ব খুব দ্রুতই দর্শকের নজর কাড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হয়ে ওঠেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান শাহ। এর বেশির ভাগ সিনেমাই পেয়েছিল দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য। তবে তার নায়িকাদের মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে জুটিই ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের পর্দার রসায়ন নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সালমান-শাবনূর জুটি পরিণত হয়েছিল ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় জুটিতে।
সালমান শাহ চলে গেছেন বহু বছর আগে। কিন্তু তার সিনেমা, গান, অভিনয় আর ব্যক্তিত্বের স্মৃতি এখনো দর্শকের কাছে জীবন্ত। তাই জন্মদিন এলেই নতুন করে উচ্চারিত হয় সেই নাম—সালমান শাহ। সহকর্মীদের স্মৃতিচারণা আর ভক্তদের ভালোবাসায় আজও তিনি ফিরে আসেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালি সময়ের প্রতিনিধি হয়ে।
Reporter Name 
























