ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের জঙ্গি ব্র্যান্ডিংয়ের চেষ্টা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার

ফের যেন জঙ্গী গ্রেফতার নাটক শুরু হয়ে গেল। ভারতে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন। হঠাৎ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নবনীতা রায় চৌধুরীর ইউটিউব চ্যানেলে ইদানিং তিনি ঘন ঘন সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তার বক্তব্য বাংলাদেশে জঙ্গীরা সক্রিয় হয়েছে। বিতর্কিত সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের নির্যাস হলো ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশে জঙ্গীরা সক্রিয় হয়ে উঠবে। উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে জঙ্গী উত্থান ব্র্যান্ডিং করা। পুলিশ প্রশাসনকে কলঙ্কিত করা বিতর্কিত মনিরুলের এমন কথাবার্তার পর তার বক্তব্য সত্য প্রমাণে বর্তমানে পুলিশে থাকা তার সহযোগী পুলিশ কর্মকর্তারা জঙ্গী থাকার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। দাড়ি, টুপিওয়ালা কাউকে গ্রেফতার করলেই নিষিদ্ধ জঙ্গী গ্রেফতার করা হয়েছে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ পরে দেখা যায় তারা জঙ্গী নন। জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ১২ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতার দেখানো হয়। কাউকে ধরে জঙ্গী ট্যাগ লাগিয়ে দেয়ার নেপথ্যের রহস্য কি? আইনশৃংখলা বাহিনীতে কর্মরতদের মধ্যে কি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও মনিরুল, ডিবি হারুনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?

নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাস পরও দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পুলিশের ওপর হামলার মামলা বেড়েছে। সারা দেশে দায়ের হওয়া সাত শ্রেণির মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ২১ হাজার ৭৫৬টি মামলা হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত একই সাত শ্রেণিতে মামলা হয়েছিল ২১ হাজার ২২৮টি। সে হিসাবে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৫২৮টি। সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিষ্কার বার্তা এসেছে যে, তারা সরকারি চাকরি করলেও এখনো ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশে ফিরবেন সেই পথপানে চেয়ে রয়েছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর ধরে জঙ্গী গ্রেফতারের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন জঙ্গী গ্রেফতার নাটক বন্ধ ছিল। ফের যেন মনিরুল ইসলামের বক্তব্যের পর দেশে জঙ্গী গ্রেফতার নাটক শুরু হতে যাচ্ছে।

‘আজ একত্রিত হওয়ার আগে আমরা একে অপরকে চিনতাম না। এমনকি আমার পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিটিকেও আমি চিনি না। আমরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা এ ধরনের কোনো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত নই। আমরা মসজিদে ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম’’। গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ফার্মগেইট এলাকার তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন সেখানে অবস্থানরতদের আটক করে তখন শিহাব উদ্দিন নামে এক যুবক ্িচৎকার করে এসব কথা বলতে থাকেন। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ভুক্তভোগীদের সেই কথায় কর্ণপাত না করে সন্দেহজনক হিসেবে ২৩ জনকে আটক করে নিয়ে যায় তেজগাঁও থানায়। যাদের মাথায় টুপি দেখেছে তাদেরকেই আটক করেছে। তবে ওই রাতে যাচাই বাছাই করে ১১জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। বাকি ১২ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টু রোডের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে। এরপর আটককৃতদের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়। তাদের জিজ্ঞসাবাদের নামে আনা হয় তিন দিনের পুলিশ রিমা-ে।

এদিকে শুক্রবার দাড়ি টুপি দেখে মসজিদে অবস্থানরত যুবকদের গ্রেফতার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলের মতোই পুলিশ এখন নিরীহ লোকদের ধরে জঙ্গী ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছে। তারা এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন। হঠাৎ করেই জঙ্গী সন্দেহে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার পেছনে রহস্য খুঁজে দেখছেন অনেকেই। তারা বলছেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির খুবই নাজুক অবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতায় তারা এখন ড্রামা শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ীর মতে, কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করে হাজির হন বিদেশে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট আমলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন। এরপরই আলোচনায় উঠে আসেন মনিরুল ইসলাম ও তার সহযোগী অপর পুলিশ কর্মকর্তা হারুন, হাবিব ও আসাদুজ্জামানের নাম। মনিরুল বলতো, দেশে জঙ্গী আছে। মনিরুলের এ কথার সত্যতা প্রমাণে বর্তমানে পুলিশে থাকা তার সহযোগী পুলিশ কর্মকর্তারা তাই জঙ্গী থাকার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশ যে কাউকে ধরে জঙ্গী ট্যাগ লাগিয়ে দিতো। বর্তমানেও সেই চেষ্টা চলছে। ওই ব্যবসায়ী আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থাকায় পুলিশ এখন নিজেদের দায় এড়াতে বিভিন্ন ধরনের নাটক করছে।

শনিবার শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার আটক ২৩ জনের বিষয়ে ডিএমপির শেরেবাংলানগর থানায় একটি জিডি হয়। রাতে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে সিটিটিসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ ১২ আসামির প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে ১৮ মে অভিযান চালিয়ে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসদ-উর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের ভাষ্য, আসামিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য।
রিমা-ে থাকা অভিযুক্তরা হলেন, মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাশ্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আসিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

ফের জঙ্গি ব্র্যান্ডিংয়ের চেষ্টা

আপডেট টাইম : ১২:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফের যেন জঙ্গী গ্রেফতার নাটক শুরু হয়ে গেল। ভারতে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন নীরব ছিলেন। হঠাৎ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নবনীতা রায় চৌধুরীর ইউটিউব চ্যানেলে ইদানিং তিনি ঘন ঘন সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তার বক্তব্য বাংলাদেশে জঙ্গীরা সক্রিয় হয়েছে। বিতর্কিত সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের নির্যাস হলো ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশে জঙ্গীরা সক্রিয় হয়ে উঠবে। উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে জঙ্গী উত্থান ব্র্যান্ডিং করা। পুলিশ প্রশাসনকে কলঙ্কিত করা বিতর্কিত মনিরুলের এমন কথাবার্তার পর তার বক্তব্য সত্য প্রমাণে বর্তমানে পুলিশে থাকা তার সহযোগী পুলিশ কর্মকর্তারা জঙ্গী থাকার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। দাড়ি, টুপিওয়ালা কাউকে গ্রেফতার করলেই নিষিদ্ধ জঙ্গী গ্রেফতার করা হয়েছে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ পরে দেখা যায় তারা জঙ্গী নন। জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ১২ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেফতার দেখানো হয়। কাউকে ধরে জঙ্গী ট্যাগ লাগিয়ে দেয়ার নেপথ্যের রহস্য কি? আইনশৃংখলা বাহিনীতে কর্মরতদের মধ্যে কি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও মনিরুল, ডিবি হারুনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?

নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাস পরও দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পুলিশের ওপর হামলার মামলা বেড়েছে। সারা দেশে দায়ের হওয়া সাত শ্রেণির মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ২১ হাজার ৭৫৬টি মামলা হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত একই সাত শ্রেণিতে মামলা হয়েছিল ২১ হাজার ২২৮টি। সে হিসাবে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৫২৮টি। সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্যের পরিষ্কার বার্তা এসেছে যে, তারা সরকারি চাকরি করলেও এখনো ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশে ফিরবেন সেই পথপানে চেয়ে রয়েছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর ধরে জঙ্গী গ্রেফতারের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন জঙ্গী গ্রেফতার নাটক বন্ধ ছিল। ফের যেন মনিরুল ইসলামের বক্তব্যের পর দেশে জঙ্গী গ্রেফতার নাটক শুরু হতে যাচ্ছে।

‘আজ একত্রিত হওয়ার আগে আমরা একে অপরকে চিনতাম না। এমনকি আমার পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিটিকেও আমি চিনি না। আমরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা এ ধরনের কোনো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত নই। আমরা মসজিদে ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম’’। গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ফার্মগেইট এলাকার তেজগাঁও কলেজ মসজিদ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন সেখানে অবস্থানরতদের আটক করে তখন শিহাব উদ্দিন নামে এক যুবক ্িচৎকার করে এসব কথা বলতে থাকেন। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ভুক্তভোগীদের সেই কথায় কর্ণপাত না করে সন্দেহজনক হিসেবে ২৩ জনকে আটক করে নিয়ে যায় তেজগাঁও থানায়। যাদের মাথায় টুপি দেখেছে তাদেরকেই আটক করেছে। তবে ওই রাতে যাচাই বাছাই করে ১১জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। বাকি ১২ জনকে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টু রোডের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটে। এরপর আটককৃতদের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়। তাদের জিজ্ঞসাবাদের নামে আনা হয় তিন দিনের পুলিশ রিমা-ে।

এদিকে শুক্রবার দাড়ি টুপি দেখে মসজিদে অবস্থানরত যুবকদের গ্রেফতার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলের মতোই পুলিশ এখন নিরীহ লোকদের ধরে জঙ্গী ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছে। তারা এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন। হঠাৎ করেই জঙ্গী সন্দেহে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার পেছনে রহস্য খুঁজে দেখছেন অনেকেই। তারা বলছেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির খুবই নাজুক অবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতায় তারা এখন ড্রামা শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ীর মতে, কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করে হাজির হন বিদেশে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট আমলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন। এরপরই আলোচনায় উঠে আসেন মনিরুল ইসলাম ও তার সহযোগী অপর পুলিশ কর্মকর্তা হারুন, হাবিব ও আসাদুজ্জামানের নাম। মনিরুল বলতো, দেশে জঙ্গী আছে। মনিরুলের এ কথার সত্যতা প্রমাণে বর্তমানে পুলিশে থাকা তার সহযোগী পুলিশ কর্মকর্তারা তাই জঙ্গী থাকার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশ যে কাউকে ধরে জঙ্গী ট্যাগ লাগিয়ে দিতো। বর্তমানেও সেই চেষ্টা চলছে। ওই ব্যবসায়ী আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থাকায় পুলিশ এখন নিজেদের দায় এড়াতে বিভিন্ন ধরনের নাটক করছে।

শনিবার শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার আটক ২৩ জনের বিষয়ে ডিএমপির শেরেবাংলানগর থানায় একটি জিডি হয়। রাতে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে সিটিটিসি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ ১২ আসামির প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে ১৮ মে অভিযান চালিয়ে তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসদ-উর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের ভাষ্য, আসামিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য।
রিমা-ে থাকা অভিযুক্তরা হলেন, মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাশ্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আসিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।