ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইফোন নাকি অন্য কারণে অপ্রতীমকে খুন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার

মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছরের অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের একদিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলেছে তার মরদেহ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তুহিনসহ আরও কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ছেলেকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার সহযোগিতা চান তার মা নাহিদা বেগম।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি অপ্রতীমের বন্ধুদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন।

রাত পেরিয়ে দিন হলেও সন্ধান মেলেনি অপ্রতীমের। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে তার মরদেহ দেখতে পান জিলানি নামে এক কৃষক। তিনি জানান, মরদেহটি নিয়ে শিয়াল টানাটানি করছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ডিবি ও সিআইডির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতীমের মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিন নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তুহিনসহ আরও কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ। তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তাঁর বাবার নাম নুরুল আলম।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম ঘটনাস্থলে গিয়ে অপ্রতীমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, অপ্রতীমকে খুঁজে বের করতে আগের দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই চেষ্টা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মুঠোফোনের জন্যই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।’ তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তিন মাসের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পরে অপ্রতীমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা নাহিদা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জানতে চাই। আমাকে জবাব দেন। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি শুধু এটুকু জানতে চাই। আমি কোন দেশে থাকি, এটা কোন দেশ? একটা ছেলে বাসা থেকে বের হবে, তাকে মেরে ফেলবে!’

ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাঁচব কীভাবে? আমার জীবনটা কীভাবে পার করব? আমার একমাত্র ছেলে। আমি কেমনে বাঁচব?’

মায়ের আহাজারি শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একটা আইফোনের জন্য একটা অবুঝ বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে? আমি তো লজ্জিত, আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি। একজন মানুষ হিসেবে ভাই, আমি লজ্জিত। আমরা এরকম বাচ্চাদের রক্ষা করতে পারলাম না।’

মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘অপ্রতীমের মায়ের সঙ্গে দেখা করে কী জবাব দেবো, জানি না। অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার নিজ এলাকায়। প্রিয় শিক্ষকের একমাত্র সন্তানের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আইফোন নাকি অন্য কারণে অপ্রতীমকে খুন

আপডেট টাইম : ১২:০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছরের অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের একদিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলেছে তার মরদেহ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তুহিনসহ আরও কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে। সে কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ছেলেকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার সহযোগিতা চান তার মা নাহিদা বেগম।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি অপ্রতীমের বন্ধুদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন।

রাত পেরিয়ে দিন হলেও সন্ধান মেলেনি অপ্রতীমের। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে তার মরদেহ দেখতে পান জিলানি নামে এক কৃষক। তিনি জানান, মরদেহটি নিয়ে শিয়াল টানাটানি করছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ডিবি ও সিআইডির সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতীমের মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। অপ্রতীমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিন নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তুহিনসহ আরও কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ। তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তাঁর বাবার নাম নুরুল আলম।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম ঘটনাস্থলে গিয়ে অপ্রতীমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, অপ্রতীমকে খুঁজে বের করতে আগের দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই চেষ্টা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মুঠোফোনের জন্যই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকটা নিশ্চিত, মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যার ঘটনা।’ তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তিন মাসের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পরে অপ্রতীমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা নাহিদা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জানতে চাই। আমাকে জবাব দেন। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি শুধু এটুকু জানতে চাই। আমি কোন দেশে থাকি, এটা কোন দেশ? একটা ছেলে বাসা থেকে বের হবে, তাকে মেরে ফেলবে!’

ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাঁচব কীভাবে? আমার জীবনটা কীভাবে পার করব? আমার একমাত্র ছেলে। আমি কেমনে বাঁচব?’

মায়ের আহাজারি শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘একটা আইফোনের জন্য একটা অবুঝ বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে? আমি তো লজ্জিত, আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি। একজন মানুষ হিসেবে ভাই, আমি লজ্জিত। আমরা এরকম বাচ্চাদের রক্ষা করতে পারলাম না।’

মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘অপ্রতীমের মায়ের সঙ্গে দেখা করে কী জবাব দেবো, জানি না। অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার নিজ এলাকায়। প্রিয় শিক্ষকের একমাত্র সন্তানের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।