ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার

পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে। কর কমিশনারের এই কর দাবির বৈধতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির করা দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, পাঁচটি করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি ছিলো। এ কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটি পৃথক দুটি রিট করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন। রায়ের পর কর বিভাগ ৩০ দিনের সময় দিয়ে দাবি আদায়ে ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।

তবে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করা হয়। এর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে নির্দিষ্ট শর্তে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আপিল বিভাগে যায়। ২০২৪ সালের মার্চে আপিল বিভাগ মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রিট দুটি খারিজ করা হলেও পরে ওই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। বেঞ্চের একজন বিচারক আগে একই মামলায় সরকারপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আদেশটি ত্রুটিপূর্ণ বিবেচিত হয়েছিলো। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়। সেই বেঞ্চেই বৃহস্পতিবার রিট দুটি খারিজ করে রায় দেওয়া হলো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অটোরিকশা

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট

আপডেট টাইম : ১১:২৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে। কর কমিশনারের এই কর দাবির বৈধতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির করা দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, পাঁচটি করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি ছিলো। এ কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটি পৃথক দুটি রিট করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন। রায়ের পর কর বিভাগ ৩০ দিনের সময় দিয়ে দাবি আদায়ে ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।

তবে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করা হয়। এর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে নির্দিষ্ট শর্তে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আপিল বিভাগে যায়। ২০২৪ সালের মার্চে আপিল বিভাগ মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রিট দুটি খারিজ করা হলেও পরে ওই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। বেঞ্চের একজন বিচারক আগে একই মামলায় সরকারপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় আদেশটি ত্রুটিপূর্ণ বিবেচিত হয়েছিলো। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়। সেই বেঞ্চেই বৃহস্পতিবার রিট দুটি খারিজ করে রায় দেওয়া হলো।