স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। ভিন্নমত প্রকাশের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে। দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে আমরা সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এ কথা বলেন স্পিকার। তিনি আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে সংসদ নেতা গালাগালির সংস্কৃতিকে পরিহার করার জন্য সবাইকে আহ্বান করেছেন। আগামী অধিবেশনসমূহে সব সংসদ সদস্য সংসদীয় রীতিনীতি-ঐতিহ্য অনুসরণ করবেন বলে আশা করি।’
স্পিকার বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও সুসংহতকরণে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সংসদীয় রীতি ও কার্যপ্রণালির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সচেষ্ট থাকব—এটাই প্রত্যাশা।
‘দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবং আপনাদের প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি-সংক্রান্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করছি।’
৯ কার্যদিবসের তৃতীয় অধিবেশনে উত্থাপিত ছয় বিলই পাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়। শেষ হলো আজ। এ দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সমাপনী ভাষণ দেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অধিবেশন সমাপনী-সংক্রান্ত নোটিশ পাঠ করে শোনান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তৃতীয় অধিবেশনে ৯ কার্যদিবসের বৈঠকে মোট ছয়টি বিল উপস্থাপিত হয়। সবগুলো বিলই পাস হয়েছে।
আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এই অধিবেশনে তিনটি বিশেষ কমিটিসহ ৪৮টির বেশি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধির আওতায় সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬৮ বিধিতে সাতটি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি নোটিশ গৃহীত ও আলোচিত হয়েছে।
৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গৃহীত হয় ও এর মধ্যে ১৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে। ৭১-ক বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্য প্রদানের জন্য ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। ১৪৭ বিধিতে দুটি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া, ৩০২ বিধিতে একটি নোটিশ উত্থাপিত হয়েছে।
এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সদস্যরা মোট ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এই অধিবেশনে ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
Reporter Name 





















