মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়মের কারণে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটি বারবার উচ্চারিত হওয়ায় প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হেয় হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান নিশ্চিত করতে কোনো কার্পণ্য করা হবে না এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা কলঙ্কমুক্ত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শব্দটির আগে যখন ভুয়া শব্দটি বারবার উচ্চারিত হয়, বারবার বিভিন্ন মিডিয়ায় যখন খবর আসে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এটার একটা অ্যাডভান্টেজ নিচ্ছে আমাদের যারা বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।’
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মী, যারা কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধের ধারে-কাছেও ছিলেন না, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁদের অনেকের জন্মও হয়নি, তাদের অনেককে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ হাজারের মতো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা কলঙ্কমুক্ত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে।’
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়ার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করার বিষয়ে আমাদের কোনো কার্পণ্য তো হবেই না। বরঞ্চ আমরাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দেওয়ার জন্য সবসময় দলমত–নির্বিশেষে, সে যেই দলেরই হোক না কেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সেই সম্মানটুকু দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।’
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, খোকসা উপজেলা এবং বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসুবিধার বর্তমান পরিস্থিতি হালনাগাদ করা হবে। চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের চিকিৎসাটুকু যদি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে আমরা কিসের বাংলাদেশে বসবাস করছি? আপনারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন বিধায় আজকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
রেশনিং ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাহত ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের রেশনিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, দাবিগুলো তিনি লিখিত আকারে নিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে বসে এসব দাবির বিষয়ে কাজ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং কারও পুনর্বাসনের প্রয়োজন হলে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জায়গার ওপর কর আরোপের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কারণেই তো আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। তো তাদের ওপর ট্যাক্স চাপানো হবে যে ভূমি থেকে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার একটা সুবিধা পাচ্ছেন, একটা আয়-উপার্জনের জায়গা হচ্ছে এবং এখানে আমাদের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো পালিত হচ্ছে। সেই জায়গাটাকে কেন ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলো এবং যেটা অতীতে ছিল না, সেটা নতুন করে কেন করা হলো—সেই বিষয়ে আমি জবাবদিহিতা চাইতে পারি।’
নিজের বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, তার বাবা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং ঢাকার বুকে অনেকগুলো মুক্তিযুদ্ধের অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন। এসব বিষয় থেকে তিনি অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আজকে গর্বিত যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দাঁড়াতে পেরেছি। এটা আমার জন্য সবচেয়ে গর্বের বিষয়।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল জায়গা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন না করলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারও হতো না। তারা কেউ এমপি, মন্ত্রী বা অন্য কোনো দায়িত্বে আসতে পারতেন না।
তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
Reporter Name 





















