ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

‘মাননীয়’ নয়, শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’: নিজ দপ্তরেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত তারেক রহমানের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:১৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার

অনলাইন হাজিরাও দিচ্ছেন নিয়মিত, প্রটোকলে কমছে আনুষ্ঠানিকতা

হাওর বার্তা ডেস্ক: সরকারপ্রধানের পদমর্যাদার সঙ্গে যুক্ত আনুষ্ঠানিক বিশেষণ ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল, নথি ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা সরকারি নথিপত্রে এখন থেকে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত শুধু পরিপত্র জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তাৎক্ষণিকভাবে এর বাস্তবায়ন শুরু করে প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সাধারণ দাপ্তরিক নিয়মের আওতায় সরকারপ্রধান
শুধু নথিপত্রে সম্বোধনের পরিবর্তন নয়, দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী কোনো সুবিধা নিতে চাইছেন না প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। একইভাবে দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে বের হচ্ছেন।

সরকারপ্রধান হয়েও সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলার এই উদ্যোগ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ঊর্ধ্বে নন।

পদ নয়, দায়িত্ব ও জনসেবাই মুখ্য
‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসব উদ্যোগে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠান, নিয়ম ও জবাবদিহিকে শক্তিশালী করার একটি দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব যখন নিজেই নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্য পর্যায়েও একই শৃঙ্খলা অনুসরণের প্রত্যাশা আরও দৃঢ় হয়।

কমছে অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর
দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এসব পদক্ষেপের মূল বার্তা হলো—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে থেকে নিয়ম, শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেওয়া এসব উদ্যোগ প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও দৃশ্যমান করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অটোরিকশা

‘মাননীয়’ নয়, শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’: নিজ দপ্তরেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত তারেক রহমানের

আপডেট টাইম : ০৬:১৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন হাজিরাও দিচ্ছেন নিয়মিত, প্রটোকলে কমছে আনুষ্ঠানিকতা

হাওর বার্তা ডেস্ক: সরকারপ্রধানের পদমর্যাদার সঙ্গে যুক্ত আনুষ্ঠানিক বিশেষণ ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল, নথি ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা সরকারি নথিপত্রে এখন থেকে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত শুধু পরিপত্র জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তাৎক্ষণিকভাবে এর বাস্তবায়ন শুরু করে প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সাধারণ দাপ্তরিক নিয়মের আওতায় সরকারপ্রধান
শুধু নথিপত্রে সম্বোধনের পরিবর্তন নয়, দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী কোনো সুবিধা নিতে চাইছেন না প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। একইভাবে দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে বের হচ্ছেন।

সরকারপ্রধান হয়েও সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলার এই উদ্যোগ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ঊর্ধ্বে নন।

পদ নয়, দায়িত্ব ও জনসেবাই মুখ্য
‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসব উদ্যোগে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠান, নিয়ম ও জবাবদিহিকে শক্তিশালী করার একটি দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব যখন নিজেই নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্য পর্যায়েও একই শৃঙ্খলা অনুসরণের প্রত্যাশা আরও দৃঢ় হয়।

কমছে অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর
দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এসব পদক্ষেপের মূল বার্তা হলো—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে থেকে নিয়ম, শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেওয়া এসব উদ্যোগ প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও দৃশ্যমান করছে।