ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি নিয়োগ-বদলির নথি তলব দুদকের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব এবং দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথি চেয়েছে দুদক। গতকাল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালামের সই করা চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাওয়া নথি ও রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ৭ মে ও চলতি বছরের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের ভিত্তিতে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চেয়েছে দুদক। আরও চাওয়া হয়েছে তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, তা বাতিল এবং পরবর্তী পদায়নসংক্রান্ত নথিপত্র। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও তলব করেছে দুদক। তালিকায় ঢাকার গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ ও আমির, বগুড়ার আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহিম, বরিশালের জুলহাস, পাবনার নজিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ, ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীর আলী হোসেনের নাম রয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার তৎকালীন উপসচিব মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পছন্দের জায়গায় পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘সেফ গার্ড’ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ কর্মকর্তার কাছ থেকে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি নিয়োগ-বদলির নথি তলব দুদকের

আপডেট টাইম : ০৩:৪১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব এবং দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথি চেয়েছে দুদক। গতকাল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালামের সই করা চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাওয়া নথি ও রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ৭ মে ও চলতি বছরের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের ভিত্তিতে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চেয়েছে দুদক। আরও চাওয়া হয়েছে তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, তা বাতিল এবং পরবর্তী পদায়নসংক্রান্ত নথিপত্র। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও তলব করেছে দুদক। তালিকায় ঢাকার গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ ও আমির, বগুড়ার আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহিম, বরিশালের জুলহাস, পাবনার নজিমউদ্দিন, আলী হোসেন ও আবু সাঈদ, ধামরাইয়ের কোরবান আলী এবং নরসিংদীর আলী হোসেনের নাম রয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার তৎকালীন উপসচিব মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পছন্দের জায়গায় পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘সেফ গার্ড’ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ কর্মকর্তার কাছ থেকে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।