একটি পাকা সেতুর আশায় কেটেছে তিন যুগ। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, বদলায়নি কেবল ‘মাকুন্দা নদী’র ওপর সেতুর জন্য ২০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। বিভিন্ন সময় সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিললেও, তা আলোর মুখ দেখেনি আর। তাই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা হাজারো মানুষের।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ও রামপাশা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ‘মাকুন্দা নদী’র ওপর নির্মিত প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী পারাপারের কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবারই একমাত্র অবলম্বন এই সাঁকো।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খাজাঞ্চি ইউনিয়নের বিলপার-আশুগঞ্জ বাজার এলাকায় মাকুন্দা নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দীর্ঘ একটি সাঁকো। নড়বড়ে হয়ে গেছে বেশিরভাগ বাঁশ। পারাপারের সময় হেলে-দুলে ওঠে পুরো সাঁকো। তবুও বিকল্প না থাকায় প্রতিদিন এটি ব্যবহার করছেন মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, একসময় নদীর দুই তীরের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল খেয়া নৌকা। বর্ষাকালে রাত বাড়লে প্রায়ই ঘটত দুর্ঘটনা। পরে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে ও স্বেচ্ছাশ্রমে কখনো মেরামত, আবার কখনো নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
এভাবেই দীর্ঘ তিন যুগ ধরে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে আসছেন খাজাঞ্চি ইউনিয়নের দ্বীপবন্ধ (বিলপার), বাবুনগর, মোহাম্মদপুর, জয়নগর, কান্দিগ্রাম, তেলিকোনা এবং রামপাশা ইউনিয়নের পালের চক, দোহাল, রামচন্দ্রপুর, পাঁচঘরি, পাঠাকইন, শ্রীপুর, মনোহরপুরসহ অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ।
বিলপার গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল আহমদ বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। আমরা চাই, দ্রুত এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান করা হোক।
স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বি আবদুন নুর বলেন, “এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে একবার আমি নিজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম। পড়ে গিয়ে আহত হলেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যাই। বিভিন্ন সময় এখানে পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজও তা আশ্বাস বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, কিছুদিন হলো এখানে যোগদান করেছি, তাই বিষয়টি আগে অবগত ছিলাম না। পিআইও’র সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এর আগে সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া না হয়ে থাকলে, সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠাবো।
Reporter Name 
























