ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লংমার্চ করে কি সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার

বিএনপির সরকারের আট মাসের মাথায় বিভিন্ন বিভাগীয় সদরে মহাসমাবেশ, সচিবালয় ঘেরাওয়ের পর  লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দলীয় নিয়োগ বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছে দলগুলো। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয় সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিরোধী দল তাদের আন্দোলনে অনড়।

সর্বশেষ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফায় ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত লং মার্চ করেছে তারা। মূল কর্মসূচি শুরুর আগে সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা। সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন তারা।

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘জনদাবি মেনে নিন। মনে রাখবেন, ৮ দফা যেকোনও সময়  ১ দফায়ও পরিণত হতে পারে। আর এক দফা যখন হবে, তখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহতার দিকে যাবে।’’ একই দিন বিকালে বগুড়ায় সমাবেশে তিনি বলেন, ‘‘আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনও হুমকি-ধামকি বা নাটকের পরোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে ঘরে ফিরবো না।’’

একই কর্মসূচিতে ১১ দলের অন্যতম শরিক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘তারেক রহমান সম্মানজনকভাবে নাকি হেলিকপ্টারে বিদায় নেবেন, সেই চিন্তা করতে হবে।’’

সরকারের এক বছর পূর্ণ না হতেই বিরোধী দলের নেতাদের এমন তীর্যক বক্তব্যকে অনেকে ভিন্নভাবে দেখছেন। কেউ কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, লং মার্চের মাধ্যমে কি আসলেই সরকার পতনের কোনও পরিকল্পনা আছে তাদের? যদি সেরকম কোনও সিদ্ধান্ত থেকে থাকে, তা কি সফল হবে? জনগণ কি তাদের ডাকে সাড়া দেবে? এমন প্রশ্নও সামনে আসছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর যেকোনও মূল্যে দেশে ফেরার একটি আল্টিমেটাম আছে। তার আগে হয়তো বর্তমান বিরোধী দল নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায়।এক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গেও তাদের প্রচ্ছন্ন আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার বর্তমান বিরোধী দল নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতেও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে এমনটিও মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিরোধীদলের এই আন্দোলন মোকাবিলায় সরকার কতটা প্রস্তুত, সে প্রশ্নও আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও রাজনীতি বিশ্লেষক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিরোধী দল হয়তো এখনই সরকারের পতন চাইবে না।তবে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে— তারা ধীরে ধীরে সে পথেই হাঁটছেন।’’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটি নির্ভর করবে সরকারের পদক্ষেপের ওপর। সরকার যদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ জনসম্পৃক্ত সমস্যাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান করতে না পারে, তাহলে তো বিরোধীরা সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতেই পারে।’’

কেন এত তাড়াহুড়ো?  

সরকারের একবছর না যেতেই রাজপথে বিরোধী দলের বড় ধরনের আন্দোলনকে অনেকে অনেকভাবে মূল্যায়ন করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক যুগ্ম সদস্য সচিব বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয় বর্তমান বিরোধী দুর্বল। আবার অনেকে আমাদের বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেন। অথচ আমরা ঠিকই জনদাবি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি। তাই সরকারকে শুরুতেই চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই এই সময়ে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন নেতারা।’’ তার মতে,  বিরোধী দল হিসেবে নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক রাখতে যা করার তাই ক

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে সরকার হয়তো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। কিন্তু তাই বলে তারা এখনই ব্যর্থ হয়ে গেছে, এটা বলা যাবে না। আমরা মনে করি, তাদেরকে আরও সময় দেওয়া উচিত। কিন্তু বিরোধী দল যে ধরনের আচরণ করছে, তা সমর্থনযোগ্য নয়।’’ তিনি উল্লেখ করেন, অনেকে মনে করেন, আসলে বর্তমান বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের এক ধরনের সমঝোতা আছে। কারণ তারা দীর্ঘ দিনের মিত্র ছিল। তাই তারা আসলে বিরোধী দল কিনা, তা প্রমাণের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে অনেক কিছু করতে  হয়। মূলত এ সময়ে গরম বক্তব্য দিয়ে তারা নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায়।

আসলেই কি সরকার পতনের চেষ্টা?

প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা তাদের মিত্ররা কঠোর বক্তব্য দিলেও তারা এখনই সরকারের পতন চাইবে বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও জামায়াত ইতিহাসের সেরা সময় অতিক্রম করছে। কারণ তারা এখন সর্বাধিক সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে। আর সরকারও তাদের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে করতে দিচ্ছে। নেতাদের জেলে যেতে হচ্ছে না।  তাই তারা এখনই পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইবে বলে মনে করেন না তিনি।

ভিন্ন কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলা আবদুল হালিম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বিরোধী দল হিসেবে আমরা এখনও সঠিক দায়িত্বই পালন করছি। কোনও বিশেষ সমীকরণ নয়, আমরা দেশ ও জাতির অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখছি। সরকার যদি সঠিক দায়িত্ব পালন করতো, তাহলে আমাদের এত কঠোর হওয়ার দরকার ছিল না।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকার কতদিন থাকবে, তা তাদের আচরণের ওপরই নির্ভর করবে।’’

সরকার কি ছাড় দেবে?

বিরোধী দল যদি সত্যিই সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে যায়, তাহলে সরকার কী করবে? সম্প্রতি সে বিশ্লেষণও হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নানা বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও তারা জুলাইকে ধারণ করেন।তাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ফিরে আসার প্রেক্ষাপট এখনই তৈরি হোক চায় না দুইপক্ষই। বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দেখলেই তা বোঝা যায়। তারপরও রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই।

তাহলে কি বিরোধী দল কঠোর কোনও কর্মসূচি দিলেও সরকার তাদের বিরেুদ্ধে এখনই হার্ডলাইনে যাবে না? এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কৈমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিএনপি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তারপরও প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। তিনি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চান। এক্ষেত্রে কোনও ধরনের প্রতিহিংসা করা হচ্ছে না।বিএনপি সব সময়ই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।  বিরোধী দল তো তাদের মতো করেই আন্দোলন করছে। সরকার বরং তাদের কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে ।’’

তিনি বলেন, ‘‘কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের উদ্দেশে নয়। তবে কেউ যদি দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদেরকে জনগণই প্রতিহত করবে।’’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

লংমার্চ করে কি সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব

আপডেট টাইম : ১১:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির সরকারের আট মাসের মাথায় বিভিন্ন বিভাগীয় সদরে মহাসমাবেশ, সচিবালয় ঘেরাওয়ের পর  লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দলীয় নিয়োগ বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছে দলগুলো। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয় সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিরোধী দল তাদের আন্দোলনে অনড়।

সর্বশেষ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফায় ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত লং মার্চ করেছে তারা। মূল কর্মসূচি শুরুর আগে সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা। সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন তারা।

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘‘জনদাবি মেনে নিন। মনে রাখবেন, ৮ দফা যেকোনও সময়  ১ দফায়ও পরিণত হতে পারে। আর এক দফা যখন হবে, তখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহতার দিকে যাবে।’’ একই দিন বিকালে বগুড়ায় সমাবেশে তিনি বলেন, ‘‘আগামী লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনও হুমকি-ধামকি বা নাটকের পরোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে ঘরে ফিরবো না।’’

একই কর্মসূচিতে ১১ দলের অন্যতম শরিক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘তারেক রহমান সম্মানজনকভাবে নাকি হেলিকপ্টারে বিদায় নেবেন, সেই চিন্তা করতে হবে।’’

সরকারের এক বছর পূর্ণ না হতেই বিরোধী দলের নেতাদের এমন তীর্যক বক্তব্যকে অনেকে ভিন্নভাবে দেখছেন। কেউ কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, লং মার্চের মাধ্যমে কি আসলেই সরকার পতনের কোনও পরিকল্পনা আছে তাদের? যদি সেরকম কোনও সিদ্ধান্ত থেকে থাকে, তা কি সফল হবে? জনগণ কি তাদের ডাকে সাড়া দেবে? এমন প্রশ্নও সামনে আসছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর যেকোনও মূল্যে দেশে ফেরার একটি আল্টিমেটাম আছে। তার আগে হয়তো বর্তমান বিরোধী দল নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায়।এক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গেও তাদের প্রচ্ছন্ন আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার বর্তমান বিরোধী দল নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতেও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে এমনটিও মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিরোধীদলের এই আন্দোলন মোকাবিলায় সরকার কতটা প্রস্তুত, সে প্রশ্নও আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও রাজনীতি বিশ্লেষক মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিরোধী দল হয়তো এখনই সরকারের পতন চাইবে না।তবে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে— তারা ধীরে ধীরে সে পথেই হাঁটছেন।’’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটি নির্ভর করবে সরকারের পদক্ষেপের ওপর। সরকার যদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ জনসম্পৃক্ত সমস্যাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান করতে না পারে, তাহলে তো বিরোধীরা সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতেই পারে।’’

কেন এত তাড়াহুড়ো?  

সরকারের একবছর না যেতেই রাজপথে বিরোধী দলের বড় ধরনের আন্দোলনকে অনেকে অনেকভাবে মূল্যায়ন করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক যুগ্ম সদস্য সচিব বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয় বর্তমান বিরোধী দুর্বল। আবার অনেকে আমাদের বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেন। অথচ আমরা ঠিকই জনদাবি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি। তাই সরকারকে শুরুতেই চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই এই সময়ে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন নেতারা।’’ তার মতে,  বিরোধী দল হিসেবে নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক রাখতে যা করার তাই ক

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে সরকার হয়তো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। কিন্তু তাই বলে তারা এখনই ব্যর্থ হয়ে গেছে, এটা বলা যাবে না। আমরা মনে করি, তাদেরকে আরও সময় দেওয়া উচিত। কিন্তু বিরোধী দল যে ধরনের আচরণ করছে, তা সমর্থনযোগ্য নয়।’’ তিনি উল্লেখ করেন, অনেকে মনে করেন, আসলে বর্তমান বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের এক ধরনের সমঝোতা আছে। কারণ তারা দীর্ঘ দিনের মিত্র ছিল। তাই তারা আসলে বিরোধী দল কিনা, তা প্রমাণের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে অনেক কিছু করতে  হয়। মূলত এ সময়ে গরম বক্তব্য দিয়ে তারা নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চায়।

আসলেই কি সরকার পতনের চেষ্টা?

প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা তাদের মিত্ররা কঠোর বক্তব্য দিলেও তারা এখনই সরকারের পতন চাইবে বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও জামায়াত ইতিহাসের সেরা সময় অতিক্রম করছে। কারণ তারা এখন সর্বাধিক সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে। আর সরকারও তাদের কর্মসূচি নির্বিঘ্নে করতে দিচ্ছে। নেতাদের জেলে যেতে হচ্ছে না।  তাই তারা এখনই পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইবে বলে মনে করেন না তিনি।

ভিন্ন কথা বলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলা আবদুল হালিম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বিরোধী দল হিসেবে আমরা এখনও সঠিক দায়িত্বই পালন করছি। কোনও বিশেষ সমীকরণ নয়, আমরা দেশ ও জাতির অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখছি। সরকার যদি সঠিক দায়িত্ব পালন করতো, তাহলে আমাদের এত কঠোর হওয়ার দরকার ছিল না।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকার কতদিন থাকবে, তা তাদের আচরণের ওপরই নির্ভর করবে।’’

সরকার কি ছাড় দেবে?

বিরোধী দল যদি সত্যিই সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে যায়, তাহলে সরকার কী করবে? সম্প্রতি সে বিশ্লেষণও হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নানা বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও তারা জুলাইকে ধারণ করেন।তাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ফিরে আসার প্রেক্ষাপট এখনই তৈরি হোক চায় না দুইপক্ষই। বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দেখলেই তা বোঝা যায়। তারপরও রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই।

তাহলে কি বিরোধী দল কঠোর কোনও কর্মসূচি দিলেও সরকার তাদের বিরেুদ্ধে এখনই হার্ডলাইনে যাবে না? এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কৈমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিএনপি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তারপরও প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। তিনি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চান। এক্ষেত্রে কোনও ধরনের প্রতিহিংসা করা হচ্ছে না।বিএনপি সব সময়ই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।  বিরোধী দল তো তাদের মতো করেই আন্দোলন করছে। সরকার বরং তাদের কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে ।’’

তিনি বলেন, ‘‘কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের উদ্দেশে নয়। তবে কেউ যদি দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদেরকে জনগণই প্রতিহত করবে।’’